অবাধ্য শিশু সন্তান ও আমাদের করণীয় ‼

0
365

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ আমরা অনেকেই আমাদের সন্তানের ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন থাকি। বিশেষ করে তাদের অস্বাভাবিক-অসংগত ব্যাবহারের কারনে। কোন কোন সময় তাদের উচ্চ রাগ বা উশৃঙ্খল চলা ফেরায়। বিশেষ করে পরিস্থিতি খুবই ঘোলাটে হয়ে যায় যখন এ ঘটনা গুলো মেহমান বা তাদের সন্তানদের সাথে ঘটে। যদিও লজ্জায় উপস্থিত পরিবেশে কেউ কিছু বলে না; কিন্তু অসন্তুষ্ট হোন ঠিকই। যার ফলে পরবর্তীতে আর বেড়াতে আসছে চান না।
______________________________
সন্তানের এরুপ আচরনে প্রথমেই Response করে থাকেন পিতা-মাতা। আর তারাই প্রথম ভুলটি করে থাকেন। কেননা সন্তানের এই বিরুপ আচরনের জন্য অনেকাংশে পিতা-মাতাই দায়ী। কিভাবে? দেখুন-
হাসি-কান্না, সন্তুষ্টি-রাগ ইত্যাদি হল Emotion এর বহি:প্রকাশ মাত্র। অর্থাৎ সন্তান যখন মারমুখী হচ্ছে বা কথা শুনছে না তখন বুঝতে হবে যে, নিশ্চই সে কোন অসুবিধায় আছে। আর সে কারনেই তার Emotion প্রকাশ পাচ্ছে অবাঞ্ছিত কিছুর মাধ্যমে।
______________________________
সন্তানের এরকম আক্রমনাত্বক আচরনে পিতা-মাতা হিসেবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে আপনাকেই। আপনাকেই খোঁজে বের করতে হবে যে, কি সে বিষয়টি যার কারনে সে এরকম করছে। তাঁর সাথে আন্তরিক একটি সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। যাতে করে সে তাঁর মনের কথা গুলে নির্দিধায় বলে ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তানের সাথে পিতা-মাতার সম্পর্কের দূরত্বতাও দায়ী। তাতে করে সন্তান নিজেকে একা ভাবতে শুরু করে এবং Consequence প্রকাশ পায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে।
______________________________
তার সাথে প্রথমে একটি Strong, Reliable & Caring সম্পর্ক গড়তে হবে। একটি জিনিস আমরা বার বার ভুল করি সেটা হল বাচ্চাদেরকে বাচ্চার দৃষ্টিকোন থেকে না দেখা। অর্থাৎ বাচ্চা কিছু করতে চাইছে আর আপনি বাধা দিচ্ছেন! প্রকৃত পক্ষে আপনার উচিৎ নিজেকে ঐ Situation + Age এ ভাবা এর পর সমাধান বের করে আনা। আপনার ৩০/৪০/৫০ বা ৬০ বছরের পরিপক্ক Lifestyle কচি সন্তানটির উপর চাপিয়ে দিবেন না। যেমন আপনার ছেলেটি আইসক্রিম খেতে চাচ্ছে আর আপনি বাধা দিচ্ছেন! একবারও কি নিজেকে তার বয়সে ভেবে দেখেছেন? যে জিনিসটি একটি বাচ্চার বয়সানুপাতে ঠিক সেটা আপনার বয়সে ঠিক না-ও লাগতে পারে!
______________________________
বাচ্চাদেরকে প্রধানত দুই ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায়।
১। Force এর মাধ্যমে।
২। Social Impact এর মাধ্যমে।
এখন পর্যন্ত দক্ষিন এশিয়ার পিতা-মাতারা তাদের সন্তান নিয়ন্ত্রনের জন্য Massively প্রয়োগ করে থাকেন Force পদ্ধতি। অর্থাৎ শাস্তির ভয় দেখিয়ে তাদেরকে বাধ্য বা নিয়ন্ত্রন করা। এ প্রচলন পাশ্চাত্যে নেই বললেই চলে।
অপর যে পদ্ধতিতে বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রন করা হয় তা হল Social Impact. এ পদ্ধতিতে বাচ্চাদেরকে এমন একটি সামাজিক পদ্ধতিতে ফেলে দেয়া হয় যেখানে সে দেখে তার আশেপাশের সবাই কিভাবে চলছে। অন্যান্যদের দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত হয়। আর এটাই সবচেয়ে গ্রহনীয় ও কার্যকর পদ্ধতি। যা দীর্ঘ জীবন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে।
______________________________
Relationship Connection System অনুযায়ী আপনি কিন্তু আপনার সন্তানের দর্পন স্বরুপ। হয়ত মনের অজান্তেই আপনার দুশ্চিন্তা, ভয়, ক্ষোভ বা মানসিক চাপ ইত্যাদির প্রভাব তার উপর পড়ছে। হয়ত এখন আমার কথা বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনে দুই বা ততোধিকবার পড়ুন বুঝার স্বার্থে। তো আমাদের উচিৎ সর্বদা খেয়াল রাখা যেন আমাদের ব্যাক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক Negativity আমাদের ভিতরেই থাকে। তাতে করে বাচ্চাকে তার নিজ জগতে রাখা যাবে। আপনার সুদীর্ঘ জীবনের পথচলার চড়াই-উতরাই স্বল্প জীবনের শিশুর উপর চাপাবেন না। এটা নেহায়েত অন্যায়।
______________________________
এখন আসা যাক আপনার করণীয় সম্পর্কে:
১। মনে রাখবেন পিতা-মাতা হিসেবে আপনার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে শিশুকে শিক্ষা দেয়া। চিৎকার, গালি বা ধমক দেয়া নয়। তাই আপনিই Best Possible Way বের করুন, যে কিভাবে তাকে কোন বিষয় শিখানো যায়।
২। আপনার Expectation এর সাথে Realityর মিল খোঁজুন। চিন্তা করে দেখুন ঐ বয়সে আপনি-আমি কতটুকু Perfect ছিলাম? তাই আশা রাখতে হবে বাস্তবতার নিরিখে। Child শব্দের সাথে Mistake শব্দটি জড়িত। ভেবে দেখুন জীবনের কত বসন্ত পেরিয়ে আজও আমরা ভুল করে থাকি, তাহলে তারা নয় কেন! ভেবে দেখুন আজ আমাদের কোন ভুলের জন্য কেউ বকা-ঝকা করলে আমাদের কেমন লাগবে? সেক্ষেত্রে শিশুরা তো আরো বেশী Sensitive!
৩। আপনার সন্তানের Learning Style বুঝার চেষ্টা করুন। কেননা কোন শিশু দেখে শিখতে চায়, কোন শিশু শুনে শিখতে চায় আবার কোন কোন শিশু হাতে হাতে (Hands on) শিখতে চায়। তো আবিষ্কার করুন আপনার সন্তানের শিক্ষা পদ্ধতি কি হওয়া উচিৎ।
৪। Take your time to meet where they are! অর্থাৎ আপনি কোন জিনিস বার বার বলার পরেও সে শিখছে না। It means সে শিখছে না। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানের সেই স্থানে কাজ করা। তাকে ঐ পর্যায় থেকে শিখানো। “আমি বার বার বলতে পারব না” এরকম কথা না বলাই শ্রেয়। যতক্ষন না সে শিখছে ততোদিন বলতেই থাকুন। দেখবেন কাজ হবে।
৫। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে বাচ্চাদের উচ্চ চিন্তা কাজ করে Frontal Cortex এ। যা মাথার অগ্রভাগ বা কপালের দিকে থাকে। আর যখন আমরা তাদের দিকে তেড়ে আসি তখন তা মস্তিষ্কে মধ্যস্থলে বা কানের উপরে কাজ করে। মস্তিষ্কের সে স্থানকে Amygdala বলে। যা বুদ্ধিমত্তা সম্বলিত স্থান নয়। তাই বাস্তবেই তাদেরকে কিছু শিখাতে চাইলে তাদের সাথে সামনা সামনি কথা বলুন (With very positive manner). যাতে করে আপনি তার মস্তিষ্কের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্থানের সাথে Interect করতে পারেন।
৬। প্রাপ্তবয়স্কদের মত শিশুদেরও পছন্দ থাকে। তাই আপনার নিজের একক কোন পছন্দ সন্তানের ঘাড়ে চাপিয়ে দিবেন না। বরং তাকে Option দিন। মনে রাখবেন- সে আপনার সন্তান হলেও সে “একক একজন মানুষ” অর্থাৎ An Individual! তাই তার নিজেরও পছন্দ অপছন্দ থাকাটাই স্বাভাবিক।
৭। পছন্দের পাশাপাশি তাদেরকে Consequences ও শিখান। অর্থাৎ তাদেরকে এটা বুঝান যে, কিভাবে বা কেন তাদের পছন্দ খারাপ বা ভাল ফলাফল বয়ে আনছে। তাতে করে তাদের পছন্দের ব্যাপারটি উৎকর্ষ লাভ করবে।

৮। সন্তানকে যা বলবেন তা যেন আপনার মধ্যেও থাকে। অর্থাৎ আপনি যদি সন্তানকে বলেন চিৎকার করে কথা না বলতে আর আপনি নিজেই যদি কোন সময় চিৎকার করে কথা বলেন তাহলে নির্দিধায় আপনার Credibility কমে যাবে। আপনার সন্তান আপনার কথার ওজন দিবে না।
৯। তাদের ভাল কাজ গুলিকে মূল্যায়ন করুন। কিছু উপহার দিন। সেটা হতে পারে একটি চকলেট বা ছোট খেলনা বা তার পছন্দের কিছু।
১০। তাদেরকে যা বলবেন তা যেন স্পষ্টভাবে আপনার মধ্যেও থাকে। অর্থাৎ কথা আর কাজের মিল রাখবেন। তাতে করে তারাও ব্যাপারটি আচ করবে।
______________________________
সর্বোপরি মনে রাখবেন- আপনার সম্তান কিন্তু আপনারই সন্তান… প্রিয় সন্তান… যার কারনে আপনার বহু রাত নির্ঘুম কেটেছে। যার কারনে আপনার বর্তমান দিনগুলিও বেশ পরিশ্রমপূর্ন। তাই তাদেরকে ভালবাসুন। প্রতিপক্ষ না ভেবে মিত্র (Ally) ভাবুন। সন্তানকে সন্তানের মতই অকৃত্তিম ভালবেসে যান। সে-যাই করুক না কেন। মনে রাখবেন আপনার ভালবাসা, আদর-স্নেহ তাকে আপনার কাছে টানবে। অপর দিকে আপনার কড়া বা বদ আচরন তাকে দূরে সরিয়ে দিবে।
আর বেশী বেশী করে সন্তানের জন্য দোয়া করতে থাকুন। I mean করতে-ই থাকুন। কোন দোয়া কবুল হল বা না হল তা বুঝার দরকার নেই। আপনি দোয়া করতেই থাকুন। প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতে করতে-ই থাকুন। আপনার হয়ত ধারনাই নেই যে দোয়া কি করতে পারে।

লেখক – আবু জাসরাহ (রায়হান)
নিউইয়র্ক, আমেরিকা ।

 

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here