অভয়নগরে আ.লীগের একক প্রার্থী হতে চান সানা আঃ মান্নান 

0
252

ডেস্ক নিউজ,  সময় সংবাদ বিডি-

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন পার হতেই এবার দেশব্যাপী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী মার্চ মাসে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।

সে অনুসারে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলা পর্যবেক্ষণ করে জানা গেছে, এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও দল থেকে একক প্রার্থী দেবে হবে বলে প্রত্যেক উপজেলা থেকে তিন জনার নাম চাওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী অভয়নগর উপজেলা থেকে তিনের অধিক প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করে উপজেলা স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

জানা গেছে, যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তারা হলেন- যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধা সংহতি পরিষদের থানা আহ্বায়ক সানা আঃ মান্নান সহ শাহ ফরিদ, রবিন অধিকারী ব্যাচা এবং আরও কয়েকজন।

সানা আঃ মান্নানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ইতিপূর্বে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশি হলেও দল থেকে অন্যজনকে মনোনয়ন দেয়ায় তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। তবে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে পরবর্তী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে আস্বস্ত করা হয়েছে।

তাই তিনি এবার আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশি বলে জানিয়েছেন। সানা আঃ মান্নান বলেন, তিনি এবার দলের একক প্রার্থী হতে চান।

যদিও এবার এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেতে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই দিক থেকে পিছিয়ে নেই সানা আঃ মান্নান। তিনি দলের হাইকমান্ডে পছন্দের তালিকায় ঠাই পেতে চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে এই নির্বাচন আপাতত সরকারি দল আওয়ামীলীগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিএনপি বা অন্য কোনো দলের প্রার্থীদের আগ্রহ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

এবার অভয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অনেক প্রার্থী থাকলেও দলমত নির্বশেষে তৃণমূলে পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন সানা আঃ মান্নান। প্রবীণ,সৎ,যোগ্য,ত্যাগী ও গণমানুষের নেতা সানা আঃ মান্নানকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই এই উপজেলায় সাধারণ মানুষ। হাট বাজার এবং চায়ের দোকানে চলছে আলোচনা সমালোচনা এবং আ’লীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও অভয়নগরে সানা আঃ মান্নানকে ঘিরে তৃণমূলে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দাবী করেছেন, এই উপজেলার আ’লীগকে শক্তি শালী করার জন্য আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে চেয়ারম্যান পদে সানা আঃ মান্নানের কোনো বিকল্প নাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সানা আ; মান্নান যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবন পার করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সানা আব্দুল মান্নান ছাত্রজীবন থেকেই বাবার অনুপ্রেরণায় আওয়ামী লীগের  আদর্শে গড়ে ওঠেন । যে কারনে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের প্রতি তার ভালোবাসার জন্মনেয় ।

শিক্ষা জীবন থেকেই শুরু করেন ছাত্র রাজনীতি। ঐতির্য্যবাহী বিদ্যাপীট নওয়াপাড়া শংকরপাশা বহুমূখী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরেই বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনে অনিদ্রিষ্ঠ কালের জন্য স্কুল কলেজ বন্ধ ও অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। তৎকালীন ছাত্রনেতারা নওয়াপাড়া কলেজ থেকে মিছিল নিয়ে স্কুল প্রঙ্গনে প্রবেশ করায় শুরু হয় সানা আ: মান্নানের রাজনীতির প্রথম ধাপ। ছাত্রনেতাদের সাথে মিছিলের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করে ।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নওয়াপাড়া শংকরপাশা মাধ্যমিক  বিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন তিনি।

১৯৭৭ সালে দক্ষিন বাংলার ঐতির্য্যবাহী বিদ্যাপীট নওয়াপাড়া মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পেয়ে ছাত্র সংগঠনকে সু-সংগঠিত করার লক্ষে কাজ করে যান।

ঐ বছরেই ১৯৭৭ সালে কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভোট যুদ্ধে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে প্রো-ভিপি নির্বাচিত হন তিনি । পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে নওয়াপাড়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালে নওয়াপাড়া কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রতিদন্দিতা করে ভিপি পদে নির্বাচিত হন ।

এর পর ১৯৮৪ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে– ১৯৮৪ সালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কলেজ শাখার ছাত্রদলের সভাপতি নিহতের ঘটনার মামলায় সানা আ:মান্নানকে চার বছর জেল খাটতে হয়।

জেলরত অবস্থায় সানা আ:মান্নান দ্বিতীয় বারের মতো উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন । জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ১৯৮৯ সালে তিনি যশোর জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান।

পরবর্তিতে ছাত্রজীবনের ক্রান্তিলগ্ন পেরিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক পদে বহাল হন তিনি। ধারাবাহিক ভাবে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক পদে দির্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে ২০১১ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধা সংহতি পরিষদের থানা আহ্বায়কের দায়ত্বি পালন করে যাচ্ছেন ।

রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডে একাধারে জড়িয়ে রয়েছেন তিনি, স্কুল কলেজ মসজিদ ইনষ্টিটিউট ক্লাব পাঠাগার সহ ছাত্র সমাজের উন্নয়নে খেলাধুলায় উৎসাহ ও সামাজিক উন্নয়ন সহ অবক্ষয় রোধে কাজ করে যাচ্ছেন ।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here