আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ইসলাম সমর্থিত নয়

0
140

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ অমুসলিম বা মুসলিম ব্যক্তির কোন অপরাধ রাষ্ট্রীয় আদালত কর্তৃক প্রমাণিত হওয়ার পূর্বে কারো জন্য আইন হাতে তুলে নেওয়া জায়েয নয়। এরূপ করলে উক্ত ব্যক্তি কবীরা গুনাহগার হিসাবে গণ্য হবে।

রাসূল (সাঃ) বলেন, চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে হত্যাকারী ব্যক্তি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না (বুখারী হা/৩১৬৬, মিশকাত হা/৩৪৫২)।
.
আর চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম হ’ল, যাদের সাথে মুসলমানদের জিযিয়া চুক্তি বা রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে সন্ধি অথবা কোন মুসলিমের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে (ফাৎহুলবারী ১২/২৫৯)।
.
এ জন্য ইসলাম নিরপরাধ মানুষ হত্যা করাকে শিরকের পর বড় অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেনঃ ‘কবিরা গোনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গোনাহ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা, নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা কথা বলা। (বুখারিঃ৬৮৭১, মুসলিমঃ ৮৮)

অপর হাদিসে এসেছে : ‘দুনিয়া ধ্বংস করার চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণ্যতর কাজ হলো মানুষ হত্যা করা। (তিরমিজি শরিফ)
.
মুসলমান সব সময় আল্লাহর রহমত ও ফেরেশতাদের পাহারায় বিচরণ করতে থাকে; কিন্তু সে অবৈধ হত্যায় লিপ্ত হলে আল্লাহর রহমত উঠে যায়।
.
রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন, ‘একজন প্রকৃত মুমিন তার দ্বীনের ব্যাপারে পূর্ণ আজাদ ও প্রশান্ত থাকে, যে পর্যন্ত সে অবৈধ হত্যায় লিপ্ত না হয়। ‘ (বুখারিঃ৬৮৬২)
.
অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাই নয়; ইসলামের দৃষ্টিতে সেটা পুরো মানবজাতির বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কাজ।
.
আল্লাহ বলেন, ‘যে কেউ জীবনের বদলে জীবন অথবা জনপদে অনর্থ সৃষ্টি করা ব্যতীত কাউকে হত্যা করে, সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করে। আর যে ব্যক্তি কারু জীবন রক্ষা করে, সে যেন সকল মানুষের জীবন রক্ষা করে’ (মায়েদাহঃ৩২)
.
তাই আমাদের উচিৎ নয় কারো অপব্যাক্ষা বা আক্রমন্ত্বক কথা শুনে মাঠে ঝাপিয়ে পরা। এর থেকে ভালো যার আন্ডারে আমরা এই দেশে বিচার ব্যাবস্থা পাই তাদের উপর দ্বায় ভার ছেড়ে দেওয়া। তারা যদি দায়িত্ব পালন না করে আমরা এর জন্য জিজ্ঞাসিত হবো না ইন’শা আল্লাহ। এই পাপ তাদের ঘাড়ে যাবে।
.
রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ ” আল্লাহ প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবেন, সে কি তাদেরকে হেফাজত করেছে না ধ্বংস করেছে।” [ইবনে হিববান]
.
আমাদের উচিৎ আল্লাহর কাছে দূয়া করা, আল্লাহর হুকুম হলে সব নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে। এমন কিছু না করা যার কারনে মুসলিমদের মানুষ ব্লেম করে দুনিয়ার চোখে খারাপ বানিয়ে নাস্তিক ইসলাম বিদ্বেষীদের কথা বলার সুযোগ দিয়ে যায়। আল্লাহ আমার ভুল হলে ক্ষমা করুন।। আমীন ।।

✍️-আবু লাইবাহ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here