আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরপত্তার মধ‌্যে দিয়ে পালিত হলো পবিত্র আশুরা

0
78

জসিম ভুঁইয়া,সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা:১০ মহররম মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। হিজরি ৬১তম বর্ষের (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) এই দিনে মুসলমানদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন।

এই আশুরা উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশে সরকারি ছুটি ছিল। তবে বরাবরের মত এবারও পুরান ঢাকায় আশুরার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় আগের দিন থেকেই।

শিয়া মুসলমানরা মঙ্গলবার সকাল ১০টার পুরান ঢাকার হোসেনী দালানের ইমামবাড়া থেকে আশুরার প্রধান তাজিয়া মিছিল শুরু হয়। তবে গত কয়েক বছরের মতই এবারও ছিলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরপত্তার ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারি।

এই নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সকাল থেকেই ইমামবাড়া থেকে ধানমণ্ডি লেক পর্যন্ত রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়ে আছেন পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। মিছিলের সামনে ও পেছনে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপত্তা ঢাল। বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নিয়ে নজর রাখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বকশীবাজার মোড়ে পুলিশের জলকামান ও সাজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়ে ছিল।

প্রসঙ্গত ২০১৫ সালে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে ইমামবাড়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকে আশুরায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি বাড়ানো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ তাজিয়া মিছিলে ধারালো অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছে,তাজিয়া মিছিলে দা, ছুরি, তলোয়ার ও লাঠিখেলা এবারও নিষিদ্ধ থাকবে। ঢাকা, ঢোল বাজিয়ে উচ্চ মাত্রার শব্দ সৃষ্টি করা যাবে না। মিছিলে নিশান বা পতাকার দণ্ড দৈর্ঘ্যে ১২ ফুটের বেশি হতে পারবে না। সার্কাসের মত আগুন খেলাও নিষিদ্ধ।

কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। সুসজ্জিত ভাবে মিছিলটি ইমামবাড়া থেকে মিছিল পৌঁছায়।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকের পরনেই কালো পাজামা-পাঞ্জাবি, কেউ পরেছেন সাদা-কালো পোশাক। তাদের হাতে হাতে ঝালর দেওয়া লাল, কালো, সবুজ ঝাণ্ডা। বুক চাপড়ে, ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতমে ফোরাত তীরের কারাবালার ঘটনাকে স্মরণ করছেন তারা।

হাজারো মানুষের এই শোক মিছিল উর্দু রোড, লালবাগ গোর-এ-শহীদ মাজার, আজিমপুর, নিউ মার্কেট হয়ে ধানমণ্ডি ২ নম্বর সড়কের পশ্চিম প্রান্তে প্রতীকী ‘কারবালা’ প্রাঙ্গণে গিয়ে পৌঁছে দুপুর ১টায়। ইমামবাড়া থেকে যখন মিছিলটি শুরু হয়। তখন রাস্তার দু’পাশে উৎসুক মানুষের ভিড়।

মুসলিম বিশ্বে এই দিনটি ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিশেষ করে শিয়া মুসলমানরা ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here