আমার স্বামী বাংলাদেশে নিরাপদ নন

0
202

jakia..salah_67260

নিউজ ডেস্ক, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা: ‘আমার স্বামী বাংলাদেশে নিরাপদ নয়। আমি তাকে সেখানে নিয়ে যেতে পারব না।… জানি না, তিনি কী করে ভারতে এসেছেন’ এভাবেই নিজের উদ্বেগের কথা ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

ভারতের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা থেকে রহস্যময়ভাবে নিখোঁজ হওয়ার দুই মাস পর শিলংয়ে ‘আবির্ভূত’ হওয়া  বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, ‘আমি তাঁকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে চাই। যেখানে তিনি বহু বছর ধরেই হৃদরোগ এবং কিডনি সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন।’ হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আমি জানি না এত দিন তিনি কোথায় ছিলেন। আমি জানি না তিনি কীভাবে শিলংয়ে পৌঁছালেন।

এদিকে শিলংয় পুলিশের দাবি, ৫৪ বছর বয়সী সালাহ উদ্দিনকে গত ১২ মে গ্রেপ্তার করে তারা। গলফ লিংক এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দিলে পুলিশ এসে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে সালাহ উদ্দিন বারবারই নিজের পরিচয় দিচ্ছিলেন তবে কীভাবে মেঘালয়ে পৌঁছেছেন সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারছিলেন না তিনি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে আলাপকালে সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ দাবি করেন, ১০ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে কী হয়েছে তা তিনি জানেন না। স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে ১৮ মে শিলং পৌঁছেন হাসিনা আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী খুবই অসুস্থ। তাঁর হৃদযন্ত্রে তিনটি রিং পরানো আছে, তা ছাড়া তাঁর বাম কিডনি ভালোভাবে কাজ করছে না। আমি বলছি না যে, এখানে তাঁর ভালো চিকিৎসা হচ্ছে না। কিন্তু সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল তাঁর রোগের ধরন সম্পর্কে জানে এবং সেখানে তিনি গত ২০ বছর ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং এখন যদি আমি তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে যাই, আমি জানি না কী হবে।’

সালাহ উদ্দিন আহমেদের ‘অন্তর্ধান’ সম্পর্কে হাসিনা আহমেদ বলেন, ১১ মার্চ আমি জানতে পারি যে, আগের দিন বিকেলে ঢাকার উত্তরায় এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পর সেখান থেকে কিছু লোক তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের সময় সেখানে একটি সরকারি বাহিনীর গাড়িসহ বেশকিছু গাড়ি ছিল। আমি জানি না কারা এবং কেন তাঁকে অপহরণ করেছিল। আমি যেখানে বাস করি সেখানকার অর্থাৎ গুলশান থানায় প্রথমে যাই। কিন্তু পুলিশ সাধারণ ডায়েরি করতেও অপারগতা জানায়। তারা আমাকে উত্তরা থানায় যেতে বলে। উত্তরা থানায় গেলে তারা জানায়, কোনো সাক্ষী হাজির করতে না পারলে তারা আমার এফআইআর নিতে পারবে না। এর পরের দিন অর্থাৎ ১২ মার্চ, আমি উচ্চ আদালতে যাই। আদালত আমার স্বামীকে খুঁজে দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন। এমনকি প্রতি মাসের প্রথম তারিখে সালাহ উদ্দিনকে খুঁজে পাওয়া সম্পর্কিত প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট’, যোগ করেন সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী।

হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুইবার দেখা করার জন্য আবেদন পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় বের করতে পারেননি। আমি পুলিশের মহাপরিদর্শকের দরজাতেও কড়া নেড়েছি, কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সাড়া পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার গণমাধ্যমগুলো স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সালাহ উদ্দিনকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের হরতালে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিচার করা হবে।’

সালাহ উদ্দিন এখন শিলংয়ের নেগ্রিমস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ২৪ ঘণ্টা মেঘালয়ের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কড়া প্রহরার মধ্যে আছেন তিনি। গত শুক্রবার শিলংয়ের একটি আদালতে তাঁর পক্ষে জামিন আবেদন করেন তাঁর স্ত্রী। এ বিষয়ে ২৯ মে পুলিশকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here