আমি নষ্ট নারী”আমার ডিভোর্স হয়েছে”ভালোবাসায় সম্মান পেলাম না 

0
396

 

জসীম ভু্ঁইয়া,সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা: বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে আমার আজকের এইলেখা। হয়তো এই গল্পটা পড়ে আমরা অনেক কিছু জানতে পারবো,একজন নারীর স্বামীর সংসার থেকে কতটুকু কষ্ট পেলে বিরহ বিচ্ছেদ ঘটে।

একজন অসহায় নারীর কষ্টের,গল্প:-আপনাদের গল্পের আসরের মূল বিষয় টা আমি। আমার ডিভোর্স হয়েছে”এখন আমি বারান্দায় একটু মন খারাপ করে দাঁড়ালে কেউ বলে না,আমি বাইরের পুরুষ দেখার জন্য দাঁড়িয়েছি৷ এখন আমি আমার পছন্দের একটা জামা কিনতে গেলে’ আমাকে ভাবতে হয় না এই রং টা আমার জন্য নিষিদ্ধ।

এখন আর আমি না খেয়ে কারো জন্য অপেক্ষা করার পর কেউ বলে না এসব ঢং৷ সংসার জীবন বাস্তবতা থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এখন আমার একটু দেরিতে ঘুম ভাঙ্গলে শুনতে হয় না আমার বাবা মা আমাকে কিছু শেখায় নি। আমার জ্বর আসলে কেউ বলে না রূগী মেয়েকে বৌ করে ঘরে এনেছি৷

এখন আমি ভাত রান্না করতে গিয়ে বেশী ভাত করে ফেললে,কেউ এসে বলে না চাল কি আমার বাবার বাড়ি থেকে এনেছি কিনা। এখন কেউ আর বলেনা,আমার মায়ের ফোন আসলেই এত বারবার মেয়ের খোঁজ নেওয়ার কি আছে? আমি কাঁদতে গেলে কেউ বলে না আমি নাটক করি৷ এখন আমি চুলটা খুলে আয়নার সামনে, দাঁড়ালে আমাকে কেউ বলে না আমি বেহায়া ৷

এখন আমি রান্না করতে গিয়ে আমার হাত পুড়িয়ে ফেললে,আমাকে শুনতে হয় না আমি কোন কাজই পারি না।আজ আমাকে আমার আশেপাশের মানুষ’ কেমন আছি জিজ্ঞেস করলে আমাকে মিথ্যা, বলতে হয় না যে ‘আমি ভাল আছি। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে আমার স্বামীর হাতের মার খেতে হয় না কারণ এখন আমার আমি।

আমি অধিকার চাইলে গালাগালি শুনতে হয় না,কারণ তোমার পাশে আমি নেই। এখন আমি ক্লান্ত থাকলেও আমাকে কারো যৌন’ চাহিদা মেটানোর জন‍্য শরীর দিতে হয় না। এখন আমি চাকরি করতে গেলে আমাকে কেউ বলে না তার পরিবারের কোন মেয়ে বাইরে গিয়ে নিজের ট্যালেন্ট দেখায় না।এই সবকিছু আমি তোমার কাছ থেকে শিখেছি তুমি আমার শিখিয়েছো।

এখন আমার মা অসুস্থ হলেও আমাকে দুদিন যাবৎ কাউকে বুঝিয়ে কাকুতি মিনতি,করে আমার মা কে দেখতে আসতে হয় না। শুনতে হয় না ‘ঐ মেয়েটার সাথে বিয়ে করলে আমি সুখী হতাম,তোমার সাথে আমি সুখী নই।

আমি শ্বাস নেওয়ার সময় এখন আর কারও অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

আমাকে এখন শুনতে হয় অন্যকিছু —-আমি ভাল না তাই আমি সংসার করতে পারিনি দোষটা আমারই৷

আমি এখন দুশ্চরিত্রা একটা মেয়ে,অনেক সিঙ্গেল ছেলে আমাকে দেখে বলে “ডিভোর্সী মাল,একটু পটালেই পাওয়া যাবে”৷ আমার আত্মীয়স্বজন আমার বাবা মাকে বলে “তোমাদের আল্লাদে মেয়ে খারাপ হয়েছে”৷

বন্ধুবান্ধব বলে “মা তোর সাথে মিশতে মানা করছে,তুই ডিভোর্সী”৷
আমার প্রশ্নঃ………

কোথায় ছিলেন আপনারা যখন আমি রাত জেগে কাঁদতাম? কোথায় ছিল আমাকে নিয়ে এত সমালোচনা যখন আমার চোখের নিচে এত কালি পরেছিল” যে আমার চোখ গুলোই দেখা যেত না? হায়রে নিয়তি।

কোথায় ছিলেন আপনারা যখন আমার স্বামী আমাকে’ নোংরা ভাষায় গালাগালি করত বা মারত? কোথায় ছিল আপনাদের সম্মান যখন আমাকে আমার বাবা মা কে প্রতি মুহুর্তে অপমান করা হত?

কোথায় ছিল আমার বন্ধু বান্ধবদের চিন্তা যখন আমার বিয়ের পিড়িতে আমার শ্বশুড় শ্বাশুড়ি আমার বাবা মা কে অপমান করছিল,আর তারা তারা সেই মুহুর্তে সেলফি তুলায় ছিল ব্যস্ত? হায়রে আমার নিয়তি।

কোথায় ছিল সবার এই বিবেক “যখন আমি শরীরের ব্যথায় কাঁদতে কাঁদতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরতাম। সত্যি করে বলুন তো আমার সাথে কেউ কি ছিলেন না,সেই দিন আমার কষ্ট আমি একা এই অনুভব করেছি । আমি আজ জীবনের বাস্তবতা থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি।

সংসার ছেড়েছি অন্যায় করেছি,আর যেগুলো আমার সাথে হচ্ছিল সেগুলা কি ন্যায় হচ্ছিল
আমি জানতে চাই?
এক হাতে তালি বাজে না” হয়তো আজ সব দোষ আমার। তখন তো কেউ এভাবে আমাকে নিয়ে একটু সচেতনতা দেখান নি….এখন কেন আপনাদের গল্পের আসরের মূল বিষয় টা আমি? হয়তো সেদিন ভালো উপদেশ দেওয়ার মত কেউ পাশে থাকলে সংসারটি টিকে যেত।

এই দুনিয়ার কোন মেয়ে ই চায় না তার সংসার ভাঙ্গুক। সবাই সুখের আশাতেই আরেকটা মানুষের হাত ধরে”আমিও তাই চাইতাম৷ ভুল কয়েকটা মানুষের মাঝে পরে গেছিলাম। আপনারা একবার ভাবুন তো,আপনার মেয়ে অথবা বোনের সাথে যদি এমনটা হত তাহলে ভেবে দেখেছেন আপনি কি করতেন!

সে জায়গায় আমার এই অবস্থায় আমার বাবা মা’ আমাকে আশ্রয় দেওয়াতে সমাজের কিছু নিকৃষ্ট” লোক আমাকে খারাপ বলছেন’ কোনটা ভাল হতো বলুন তো? আমি আত্মহত্যা করলে,তখন হয়তো সবার টনক নড়ত৷ বলতেন “আহারে মেয়েটা ভাল ছিল। অনেক সহ্য করছে ঈশ্বর ওর আত্মাকে শান্তি দিক” তাইনা।

এইদিকে ফেসবুকে আমাকে নিয়ে তোলপাড় পড়ত “নিড জাস্টিস ফর অমুক/তমুক”৷ কিন্তু যারা জন্ম দিয়েছে তারা কি করত বলুন ? আমি অন্তত বেঁচে আছি এতেই তারা খুশী। এই সমাজের কিছু নিচু নোংরা মনের মানুষ, কিছু হলেই মেয়েটার দোষ বের করে”হায়রে নিয়তি।

আমি বেঁচে আছি’ভাল না থাকি অন্তত খারাপ নেই কাঁদছি না এখন আর,আমি মনে করি এটা আমার ব্যার্থতা” না যে আমি সংসার ছেড়ে এসেছি। এটা তার ব্যর্থতা যে এটা বুঝতে পারেনি” যে একটা মেয়ে তার জন্য একটা পৃথিবী ছেড়ে শুধু মাত্র তার হাত ধরে সম্পূর্ণ জীবন পারি দেওয়ার আশা করেছিল।

সম্মান’ভালবাসা,অধিকার ছিল আমার প্রাপ্য৷ যেটা সে দিতে পারে নি। সে পেরেছে আমাকে ভিতর থেকে শেষ করে দিতে। দয়া করে একটা মেয়ের সম্পর্কে আঙ্গুল তোলার আগে অন্তত সম্পূর্ণ ঘটনা টুকু জানুন। তারপর বিচার করুন।

আমার প্রশ্ন সম্পূর্ণ ঘটনাটা জেনেই কি” আমরা সমালোচনা টা করছি ” আসুন সবাই মিলে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর চেষ্টা করি। দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে’বদলে যাবে জীবন,কারণ দৃষ্টিভঙ্গি উপর অনেক কিছু এই নির্ভর।

[ ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার,সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার”লেখক -জসীম ভূঁইয়া।]

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here