আসুন নিজেকে পরিবর্তন করি ইসলামকে নয়!!

0
45

সময় সংবাদ বিডি

ঢাকাঃরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রতিটি শিশু ইসলামের ফিত্বরতের উপর জন্মগ্রহণ করে, আর তার মাতা-পিতা তাকে ইহুদি, মজুসি (অগ্নিপূজক) অথবা খৃষ্টান বানায় [ বুখারি ও মুসলিম ]

ইসলামী বিষয়ে জ্ঞানার্জনের ব্যবস্থা সহজ হয়ে আসলেও, আমাদের সমাজে দিন দিন এর আচার আচরন মেনে চলার ব্যবস্থা কমে যাচ্ছে।। ছোটবেলা থেকে আমরা আমাদের সন্তানদের হাই-হ্যালো/ বাই-টাটা, অহ শিট, ওয়াও এই সকল পশ্চাত্ব শব্দের সাথে খুব সহজে মানানসই করে ফেলি।। আদরের সাথে যেটা আসলে আমাদের সন্তানদের মুসলিম কালচার থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে সভ্যতার নামে।।

এভাবে আমাদের এই পুরো সমাজের চেহারাটাই দিন দিন কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছে। তাই তো আজ অনেক নামাজী আর দ্বীনদার ব্যক্তিরাও ইসলামের অনেক পরিভাষার যথোপযুক্ত ব্যবহার সম্পর্কে প্রায় সময়ই দ্বিধান্বিত হয়ে পরেন।। এই যেখানে ধর্মীয় আবহে থাকা লোকদের অবস্থা সেখানে ধর্ম থেকে দূরে কিংবা বিমুখ মুসলিমদের অবস্থা কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতির নিন্মোক্ত কয়েকটি বাক্যের স্থলে আসুন আমরা কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত বাক্য প্রয়োগ করি :

কারো সাথে দেখা হলে বা বিদায় নিলে- হাই, হ্যালো / গুড বাই না বলে বলুন-

আস সালামু আলাইকুম (আপনার উপর মহান আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক)।।

সালামের জবাবে উত্তর দেওয়াঃ ওয়া আলাইকুমুছ সালাম।।

কেউ আপনার কোন উপকার করলে বা উপকারের জবাবে – তাকে থ্যাংক ইউ / ওয়েলকাম না বলে,

বলুন- জাযাক আল্লাহু খাইর (মহান আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন) আর জবাবে ওয়া আংতুমফা জ্বাযাক আল্লাহু খাইর (মহান আল্লাহ আপনাকেও অনুরূপ প্রতিদান দান করুন)।

আমাদের মুসলিমদের উচিৎ, আমাদের দৈনন্দিন চলার ক্ষেত্রে আমাদের আল্লাহর জিকির করা। যেমনঃ

আল হামদুলিল্লাহঃ আল হামদুলিল্লাহ শব্দের অর্থ- সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। যে কোন সুখবর বা ভালো অবস্থা সম্পর্কিত সংবাদের বিপরীতে সাধারণত এটি বলা হয়ে থাকে। যেমন ভাই আপনি কেমন আছেন? জবাবে বলা উচিত, আল হামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

ইন’শা আল্লাহঃ ইন’শাআল্লাহ শব্দের অর্থ- মহান আল্লাহ যদি চান তাহলে। ভবিষ্যতের হবে, করবো বা ঘটবে এমন কোন বিষয়ে ইনশাআল্লাহ বলা সুন্নাত। যেমন ইনশাআল্লাহ আমি আগামী কাল আপনার কাজটি করে দিবো। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।

মাশা আল্লাহ: মাশা আল্লাহ শব্দের অর্থ- আল্লাহ যেমন চেয়েছেন। এটি আল হামদুলিল্লাহ শব্দের মতোই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে কোনো সুন্দর এবং ভালো ব্যাপারে এটি বলা হয়। যেমন, মাশা আল্লাহ তুমি তো অনেক বড় হয়ে গেছো।

সুব’হান আল্লাহ: সুব’হান আল্লাহ্‌ শব্দের অর্থ- আল্লাহ পবিত্র ও সুমহান। আশ্চর্য জনক ভালো কোন কাজ হতে দেখলে সাধারণত এটি বলা হয়ে থাকে।

নাউযুবিল্লাহ: নাউযুবিল্লাহ শব্দের অর্থ- আমরা মহান আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। যে কোনো মন্দ ও গুনাহের কাজ দেখলে তার থেকে নিজেকে আত্মরক্ষার্থে এটি বলা হয়ে থাকে।

আসতাগফিরুল্লাহ: আসতাগফিরুল্লাহ শব্দের অর্থ- আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। অনাকাঙ্খিত কোন অন্যায় বা গুনাহ হয়ে গেলে আমরা এটি বলবো।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা-জিউন: অর্থ- নিশ্চয়ই আমরা মহান আল্লাহর জন্য এবং আমরা তার দিকেই ফিরে যাবো। যে কোন দু:সংবাদ বা বিপদের সময় বা কিছু হাড়িয়ে গেলে আমরা এটি বলবো।

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ: অর্থ- মহান আল্লাহর সাহায্য ও সহায়তা ছাড়া আর কোন আশ্রয় ও সাহায্য নেই। শয়তানের কোন ওয়াসওয়াসা বা দূরভিসন্ধিমূলক কোন প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য এটি পড়া উচিৎ ।।

আল্লাহ্‌ বলেনঃ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও স্বীয় পরিবারবর্গকে আগুন (জাহান্নাম) হ’তে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে অত্যন্ত কর্কশ, রূঢ় ও নির্মম স্বভাবের ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবে, যারা কখনই আল্লাহর কথা অমান্য করে না এবং নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে’ [সূরা তাহরীমঃ ৬]

আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে মুসলিম আচার আচরনে অভ্যস্ত হয়, পথ চলার তৌফিক দান করুন।।

আবু লাইবাহ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here