ইটপাথরের শহরে ছেলেটির স্বপ্ন বালিচাপা পড়লো

0
248

jjjjjjjহোসাইন আল-মাদানী,সময় সংবাদ.কম–

ঢাকা:  জীবনের নতুন এক গল্পের খোঁজে সে পাড়ি জমালো অচেনা অজানা এক পথে। উদ্দেশ্য নতুন এক গল্প রচনা করার। পঞ্চগড় থেকে সোজা ঢাকা। যান্ত্রিক আর আধুনিক এ শহরে সাথে সে পোরই অচেনা। তার পরও বুকে অদম্য সাহস আছে তার।

ভোরের ট্রেনে উঠে সন্ধ্যায় পৌছল ঢাকায়। ক্লান্তি আর ভয় সাথে নিয়ে কোন ভাবে একটি হোটেলে উঠে পড়লো সে। ইট পাথরের এ শহরে ওর যে মাথা গুজিয়ে রাখার মত পরিচিত কেউ নেই, যেখানে সে স্বস্তি পেতে পারে। রাত টা কাটলো ভীষণ ভয়ে, কারণ ও যে এভাবে একা কখনো ঘুমায়নি, জীবনের প্রয়োজনে আজ যে তাকে এক নতুন বাস্তবতার সাথে পরিচিত হতে হচ্ছে, যা হয়ত কখনো তার অবচেতন মনে আসেনি। কিন্তু আজ যে সেই নীরব মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সকল প্রশ্নের উত্তর যে, আজ নিজেকে খুঁজে বের করতে হচ্ছে এবং পর মুহূর্তের জন্য ও যে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হচ্ছে একাই। নানান শঙ্কা আর ভয়ে কোনভাবে রাত টা পার করলো। কারণ পর দিন বিকালে তাকে যে সাক্ষাতকারের (নতুন অধ্যায়ের সূচনা) মুখোমুখি হতে হবে। নিজের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য।

ছেলেটা পর দিন ৭ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে পড়লো, সচরাচর সে যেখানে ৯-১০ টার দিকে উঠে থাকে, কিন্তু সে জানতই না যে, যান্ত্রিক আর আধুনিক এ শহরে জীবন বড্ড তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যায়। ব্যস্ত আর লোকে লোকারণ্য এ শহররে সূর্যের আলো আসার পূর্বে যে যানবাহনের আলোই প্রথমে আসে। যা হয়ত তার ভাবনাতেই ছিলো না কখনো, একি দেখছে সে.! কল্পনায় নয়ত সে.?। এবার ফ্রেশ হয়ে খাওয়ার উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লো। লোকে লোকারণ্য শহর, চারদিকে সবাই ছুটাছুটি করছে হয়ত কর্মউদ্দেশ্যে, কত ব্যস্ত এ শহর, কত ব্যস্ত সবাই। হয়ত গল্পে এমনটা পড়েছে সে আজ তার নিজ চক্ষু সাক্ষী। ক্ষুধার্ত পেটে আহার যুগিয়ে সে ফিরে এলো হোটেলে।

যে জামা কাপড় গুলো পরিধান করবে বলে নিয়ে আসছিলো চাকরির সাক্ষাতকারের জন্য। সেগুলি ব্যাগ থাকার কারণে কুচকিয়ে গিয়েছিলো, সাক্ষাতকারে বসার অনুপযোগী হয়ে উঠেছিলো। পড়লো মহা বিপদে, অচেনা এ শহরে কোথায় যাবে এখন। কিন্তু সাহস হারালো না। নাছোড়বান্দা এগুতে থাকলো একবুক অদম্য সাহস নিয়ে। খুঁজতে থাকলো অচেনা শহরের অলি গলি, যেভাবেই হোক কাপড়গুলো আয়রন করে নিতেই হবে। তা না হলে জীবনের যে অধ্যায় সে রচনা করতে এসেছে তা দুরাশায় থেকে যাবে। পাগলের বেশে এ গলি ও গলি ঘুরছে, আর একে ওকে, কখনো পথচারীকে জিজ্ঞেস করছে আয়রন কোথায় হয়.? আবার কখনো দোকানিদের ও জিজ্ঞেস করছে ভাই আয়রন কোথায় করা যাবে.? যেদিকে যে বলছে ওদিকেই ছুটে যাচ্ছে। বারবারই হতাশ হচ্ছে সে। যে জায়গা গুলোতে আয়রন পাওয়া যায় তা কাকতালীয় ভাবে বন্ধই ছিল। হয়ত ভাগ্যবিধাতা তাকে সায় দিচ্ছিলেন না। খুঁজতে খুঁজতে সে ১ ঘন্টা অতিবাহিত করে ফেলে, ক্লান্ত মন হয়ত তাকে আর এগুতে দিচ্ছিলোনা, হয়ত পথ হারিয়ে ফেলবার ভয়ে বা হতে পারে এ অচেনা মানুষগুলো।

লান্ত মনটাকে কোনভাবে ফিরে নিয়ে এলো হোটেলে মধ্যে। কারণ ওদিকে যে আবার সাক্ষাতকারের সময় ঘনিয়ে আসছিলো। তার পর হাল্কা বিশ্রাম নিয়ে মনস্থির করলো এভাবেই গুজগাজ করে বেরিয়ে পড়বে। জামাগুলো একটু ঠিকঠাক করে সাক্ষাতকারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো ঠিক দুপুর ২ টার দিকে।

আধা ঘন্টা ভ্রমণের পর গন্তব্যে পৌছালো। কোম্পানিটা ঠিকঠাক জায়গাতেই পেয়ে গেলো। মনের ভেতর প্রচন্ড ভীতি কাজ করছিলো ওর যখন কোম্পানির ভেতর প্রবেশ করে। কোম্পানির কঠিন সব কৌশল আর বেঁধে দেয়া শর্ত তার নতুন অধ্যায় সূচনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।

হয়ত এমনটা হবে তার চিন্তার মধ্যেই আসেনি কখনো অথবা এমনভাবে সে প্রস্তুতই ছিলোনা। তাহলে কি কোম্পানির কৌশল আর বেঁধে দেয়া শর্তের কাছে তার সূচনা নিস্তব্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে রইলো? আর স্বপ্নগুলো ইটের শহরে ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়লো।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here