শনিবার , ১৯ অগাষ্ট ২০১৭
ব্রেকিং নিউজ

‘একতরফা নির্বাচনের যৌথ প্রযোজনায় ইসি-সরকার’

স্টাফ রিপোর্টার,সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা:-নির্বাচন কমিশন ও সরকার মিলে ‘একতরফা ও নীলনকশার’ নির্বাচন আয়োজন করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘চাকরি জীবনে বর্তমান সিইসির দায়িত্বশীল কোনো বড় পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও আওয়ামী লীগ যে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নুরুল হুদা সাহেবকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে এটি জনগণের নিকট পরিষ্কার।’

‘সম্প্রতি সিইসির বিভিন্ন বক্তব্যে এটি আরো সুষ্পষ্ট হয়েছে। সিইসি হিসেবে যোগদানের পর তিনি বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনে পদোন্নতি ও রদবদলে সিইসি একক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা সম্পূর্ণরূপে নির্বাচনী আইনবহির্ভূত,’ বলেন রিজভী।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপি ও আওয়ামী নেতারা সরকারী ব্যয়ে ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণরূপে নির্বাচনী আইনপরিপন্থি। দেশের ভোটারদের ভোটাধিকার যেহেতু থাকবে না সেহেতু ক্ষমতাসীনরা আগামী নির্বাচন নিয়ে অনাচারে লিপ্ত।’

সরকার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বাধা দিচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘বহিরাঙ্গণের সভা দূরে থাক, বিএনপির ঘরোয়া সভাতেও পুলিশ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালাচ্ছে।’

এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলাকালে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনা তুলে ধরেন রিজভী।

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা দিয়ে সরকার সাংবাদিকদের নির্যাতন করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন সাংবাদিককের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। গতকালও একজন সিনিয়র সাংবাদিককে ৫৭ ধারায় আটক করে কারাগারে প্রেরণ করেছে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা স্বাধীন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্তরায়।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি ৫৭ ধারা থেকে আরো ভয়াবহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করতে যাচ্ছে সরকার। সে আইনের ১৯ ধারাতে গণমাধ্যমকে আরো শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণের বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ার ১৫ (৫) ধারা চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আরেকটি বড় বাধা হবে।’

Print Friendly