শুক্রবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
ব্রেকিং নিউজ

এতদিনে প্রধানমন্ত্রীর বোধোদয় হয়েছে: ফখরুল

Image result for এতদিনে প্রধানমন্ত্রীর বোধোদয় হয়েছে: ফখরুলস্টাফ রিপোর্টার ,সময় সংবাদ বিডি,ঢাকা:-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়া ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারা বিশ্ব প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও এরা (সরকার) এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।

তিনি বলেন, দেরিতে হলেও কিছুটা খুশি উনি (প্রধানমন্ত্রী) রোহিঙ্গাদের দেখতে এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেছেন। এতদিনে বোধোদয় হয়েছে। তবে এখনও পুরোপুরি বোধোদয় হয়নি। সুযোগ পেলেই বিএনপিকে দোষারোপ করে বসেন।

মঙ্গলবার দুপরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, বিএনপি নয় বরং আওয়ামী লীগ রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি করতে চায় বলেই এখন তারা প্রস্তাব দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আর বাংলাদেশের বিজিবি যৌথভাবে টহল দিয়ে অভিযান চালাবে। কিন্তু কোথায় এবং কার বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হবে। যাদের হত্যা, ধর্ষণ করা হচ্ছে, যাদের শিশুদের মেরে ফেলা হচ্ছে, যেখানে গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে? সেখানে বিজিবি থাকবে?

মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমস্যা সমাধানে কথা বলতে হবে, আলোচনা করতে হবে। অথচ এ ব্যাপারে সরকারের মনোভাব আমরা ঠিক বুঝতে পারি না। মূলত পুরোপুরি নতজানু হয়ে গেলে, নিজস্বতা না থাকলে এবং অন্যের উপর নির্ভর করে চলতে থাকলে মানুষ সাধারণত এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো নেয়।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার ভাষায় জানাচ্ছি, রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সরকারের এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই এবং মিয়ানমার সরকারকে বলছি, অবিলম্বে তারা যেন রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা বন্ধ করে।’

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দেয়া উচিৎ। অথচ তারা (সরকার) একবারও রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সরকার যে গণহত্যা চালাচ্ছেন তার জন্য নিন্দা জানাননি। তাই যারা রোহিঙ্গাদের উপর চালানো গণহত্যার নিন্দা জানাননি আমরা (বিএনপি) তাদের প্রতি নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব বলেন, আপনারা নির্বাচন নির্বাচন বলে খুব ঢোল বাজাচ্ছেন। নির্বাচন এই দেশে আমরাও চাই। কারণ, ২০১৪ সালে আপনারা যে নির্বাচন করেছেন তা এ দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছেন। আর সামনে যখন নির্বাচনের সময় আসছে তখন আপনা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের কথা খুব স্পষ্ট যে, আপনারা সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছেন। এক সময় এ দেশের মানুষ আপনাদের দেয়া তত্ত্বাবধায়ক প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। তিন বার সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার পর শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য গোটা বাংলাদেশকে অশান্তি, অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তাই আজ যত সংঘাত সমস্যা তৈরি হচ্ছে তার মূলে রয়েছে নির্বাচন।

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আশা করি আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সহায়ক সরকারের যে প্রস্তাব খালেদা জিয়া দেবেন সেই প্রস্তাব মোতাবেক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘দশম কারামুক্তি দিবস’ উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে যুবদল।

সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তুজা করিম বাদরু, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ঢাকা মহানগর যুবদল (উত্তর) সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদল (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন প্রমুখ।

আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

Print Friendly