কাঠগড়ায় একদিন

0
175

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ কাঠগড়ায় একবার দাঁড়ালেই মনে হবে আপনার মত খারাপ মানুষ পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই। শত ভালো কাজ করলেও একটা বা দুটা খারাপ কাজ করলেই সমাজ আপনার ভালো কোনো কাজকে মনে রাখবে না। ছি ছি করে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করতে চাইবে। ফিরেও তাকাবে না আপনার দিকে। সমাজের সেই মানুষগুলোর আচরণ দেখে আপনার মনে হবে, তারা ফেরেশতা আর আপনি নর্দমার কীট। তাদের চাহুনি, তাদের কথার তীক্ষ্ণ বাণ আপনাকে ক্ষত বিক্ষত করে দেবে। কিন্তু আপনি কিছুই বলতে পারবেন না। আপনার কথা কেউ শুনবে না। শুনলেও বিশ্বাস করবে না।

এসব কিছু ঘটবে আপনি যদি একবার, মাত্র একবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারেন তাহলে। কাঠগড়ার ঐ কাঠগুলো আপনাকে অচেনা করে দেবে আপনার পরিচিতজনদের কাছে। মরা কাঠগুলো আপনাকে কানেকানে বলবে,

“শোনো! এই দুনিয়াটা এমনই। আমার এই গড়ায় কত মানুষ যে গড়াগড়ি খেয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। কত নিরপরাধ মানুষকে দেখেছি দুহাত দিয়ে শক্ত করে আমাকে ধরে হু হু করে কেঁদে আমাকে ভেজাতে। আবার দেখেছি কত অপরাধীকে হা হা করে হেসে আদালত থেকে বুক ফুলিয়ে বেড়িয়ে যেতে। বড়ই রহস্যজনক এই দুনিয়া। তুমি কারো জন্য জীবন দিয়ে দেবে অথচ সে হঠাৎ বলে উঠবে,

“তুমি আমার জন্য কী করেছো? বিশেষ কিছুই করো নি। যা করেছো সেসব তোমার কর্তব্য ছিলো, তাই করেছো। এর বেশি কিছু নয়। তাই তোমাকে বাড়তি কোনো কৃতিত্ব দিতে পারছি না। তবে তুমি চাইলে আমি তোমাকে তোমার কর্তব্যের গাফলতির পয়েন্টগুলো একে একে বলে দিতে পারি। বলবো?”

তুমি হয়তো লম্বা লেকচার শুনে কপালের কোণে জমা ঘামটুকু বাম হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে বলে উঠবে। থাক, এখন বলতে হবে না। পরে জেনে নেবো।

বুঝেছো, দুনিয়াটা এমন। এখানে কেউ কারো নয়। সবাই নিজের মত করে বোঝে। আর নিজে যেটাই বোঝে সেটাই একমাত্র সঠিক। এর বাইরে কখনো সঠিক থাকতে পারে না। আর একটা কথা মনে রেখো, দুনিয়ায় তোমার ভালোবাসার মানুষগুলো তোমাকে বেশি কষ্ট দেবে, আনন্দও দেবে বেশি। তবে কষ্টের সময়গুলো ধৈর্যধারণ করে কোনমতে কাটিয়ে দিতে হবে। আর আনন্দের সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে। আনন্দ আসলে বেশি উত্তেজিত না আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে সুখ উদযাপন করতে হবে।

কাঠগড়ার কথাগুলো তাদের মনে গেঁথে নেয়া উচিত যারা মনে করে তাদের একদিন না একদিন দুনিয়ার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। দুনিয়ার কাঠগড়াগুলো দৃশ্যমান হয় না। অদৃশ্য, অস্পৃশ্য কিন্তু বেশ ভোগায়।

দুনিয়া আসলেই খুব কঠিন জায়গা। মানুষগুলোর মন আর চিন্তাভাবনাগুলো আরো কঠিন ও জটিল। একটা কথা বলার সময় যা হয়তো কল্পনাও করিনি শ্রোতা হয়তো সেটা কল্পনাই করে নি উপরন্তু নিশ্চিত বাস্তব ধরে বসে আছে। আমি খুব একটা দুনিয়া বুঝিনা, দুনিয়া নিয়ে খুব বেশি গভীরভাবে ভাবিও না। তারপরও তো দুনিয়াকে পাশ কেটে চলা যায় না। সাঁতরে নদী পারি দেবো অথচ জলে শরীর ভেজাবো না, তা কি সম্ভব? সম্ভব না।

জল না ছুঁয়ে যেমন সাঁতরে নদী পার হওয়া যায় না তেমন দুনিয়ার ঝামেলার আর জটিলতার কষ্ট ভোগ না করে মৃত্যুর দুয়ারে উপস্থিত হওয়া যায় না। আখিরাতে কার কী হবে জানি না কিন্তু দুনিয়ার ঝামেলা যেনো আখিরাতে না পোহাতে হয় সেই কামনা রবের কাছে। যে দুনিয়া থেকে সবসময়ই নিরাপদ দূরত্বে থাকার চেষ্টা করে তাকেই যখন দুনিয়া এতটা ভোগাচ্ছে যে দুনিয়ার মধ্যে ডুবে আছে তার অবস্থা কী? হয়তো ভালো। কারণ সেও দুনিয়াকে ভালোবেসেছে, দুনিয়াও তাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তার ক্ষেত্রে যে দুনিয়া থেকে দূরে থাকতে চায় কিন্তু দুনিয়া তাকে ছাড়তে চায় না।

কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড়া করাবার আগে ভেবে দেখবেন, আসলেই তাকে যতটা খারাপ ভাবছেন সে ততটা খারাপ কিনা? যদি খারাপ হয় তাহলে কিছু বলবো না। কিন্তু যদি খারাপ না হয় তাহলে কিন্তু নিজের মনোযন্ত্রণা আপনাকে কুড়েকুড়ে খাবে।

✍🏿 শাহাদাৎ ফয়সাল ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here