কুমারী মেয়েদের কে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না!

0
180

সময় সংবাদ বিডি

ঢাকাঃ বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধন, ইসলাম কি জোরপূর্বক বিবাহকে অনুমতি দেয় ? ইসলামে বিবাহ হলো বিবাহ যোগ্যদুই জন নারী- পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রণয়নের বৈধ আইনি চুক্তি ও তার স্বীকারোক্তি। বিবাহ বন্ধনের জন্য অন্যতম প্রধান সর্ত হলো পাত্র-পাত্রীর ইচ্ছাকৃত সম্মতি। নইলে বিয়ে হবে না। ছেলে- মেয়ে প্রত্যেকেই তাদের নিজের ইচ্ছানুযায়ী বিয়েতে মত বা অমত দিতে পারে। তারা যেখানে বিবাহ করতে সম্মত নয় সেখানে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া তাদের অভিভাবকদের জন্য বৈধ নয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্ সুবহানুহু ওয়া তায়ালা বলেন, “আল্লাহ্ তায়ালার কুদরতের একটি অন্যতম নিদর্শন হলো- তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট থেকে প্রশান্তি লাভ করতে পার। এবং তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা ও মায়া- মমতা সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল লোকদের জন্য”।

(সূরা আররুম:২১)
দুঃখজনক হলো আমাদের দেশে বেশির ভাগ সময় মেয়েরাই বিবাহের ক্ষেত্রে পারিবারিক ভাবে চাপের সম্মুখীন হয়, শুধুমাত্র অভিভাবকদের পছন্দের কাউকে বিয়ে করার জন্য! মেয়েকে মা- বাবা থেকে অহর্নিশ শুনতে হয়।

১)“দেখো, তুমি আমাদের পছন্দের এই ছেলের বেলায় রাজি না হলে আর ভালো কাউকেই পাবার আশা করো না। তোমার নিজের অবস্থার দিকে তো একবার তাকিয়ে দেখো!

২)অথবা কখনো শুনতে হয়,“আমাদের মান- সম্মান বাঁচাও! আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও রাজি হয়ে যাও! নইলে আমাদের দুর্নাম হবে সবাইর কাছে….!!

৩) আরও করুন অবস্থা হয়ে পরে সেই সব মেয়েদের ক্ষেত্রে, যাদের আশেপাশের দুই- চারটা সমবয়সী মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। তাদের মা- বাবা যেন হয়রান হয়ে যান এমন মেয়েকে নিয়ে!! সেই সব মেয়েদের শুনতে হয়“কেন বিয়ে করতে চাচ্ছোনা ছেলেটিকে? ওই ছেলে যে তোমাকে বিয়ে করতে চায় এটাই তো বেশি! বয়স হয়ে যাচ্ছে তোমার! এত না ভেবে শীঘ্রই তোমার বিয়ে করা জরুরী। তোমার জন্য আমরা ছোট হচ্ছি… ইত্যাদি ইত্যাদি”।

এরকম আরও ডজন খানেক উদাহরণ টানলেও শেষ হবে না, মেয়েরা যে প্রতিনিয়ত কত ভাবে মানসিক যাতনার সম্মুখীন হয়ে থাকে বিয়েতে অভিভাবকদের জোরজবরদস্তিতে। আর মেয়ে যদি তালাক-প্রাপ্তা বা বিধবা তাহলেতো তাকে এই দুনিয়াতেই দোযখের কষ্ট ভোগ করতে হয়। ইসলাম এমন একটি একটি ধর্ম এবং জীবন ব্যবস্থা যা অন্যদের প্রতি ন্যায় বিচারের জন্য কঠোর ভাবে আদেশ করে, এবং নিপীড়ন করতে বারণ করেন । কোন মানুষকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে কিছু করতে বাধ্য করা যাবেনা, এমনকি ধর্মীয় ব্যাপারেও না।

আল্লাহ্ সুবহানুহু ওয়া তায়ালা কুরআনে বলেন:

১ “নিশ্চয় আল্লাহ আদেশ ন্যায়বিচার, ভাল আচরণ, এবং আত্মীয়দের দান; এবং ব্যভিচার, খারাপ আচরণ এবং নিপীড়ন করতে বারণ করেন. তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে যে সম্ভবত আপনি মনে করিয়ে দেওয়া হবে ”

(সুরা আন-নাহল, আয়াত ৯০)

২) “দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য নেই; সঠিক পথ ভুল থেকে পৃথক হয়ে গেছে …

“( সূরা আল বাকারাহ্ , আয়াত২৫৬)

তাহলে যেখানে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় “ ধর্মের” এর ব্যাপারে কোন জবরদস্তি করার কোন সুযোগ নাই, তাহলে এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যেমন বিবাহের ব্যাপারে স্বাভাবিকই ভাবে কোন জোর করা যাবেনা বলেই আমরা আশা করি।

ছেলে-মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেয়া ইসলামের অন্যতম মূলনীতি “সবার প্রতি ন্যায় বিচার” সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বরং ছেলে-মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেয়ার ধারনাকে পবিত্র কুরআনে এবং মুহাম্মদ(সাঃ) দ্বারাপ্রচণ্ড ভাবে বিরোধিত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে, আল্লাহ বলেনঃ

“হে মুমিনগণ, এটা না বৈধ আপনি অনিচ্ছায় নারীদের উত্তরাধিকারী হয়. এবং তাদের জন্যে হালাল না”

(সূরা আন-নিসা;আয়াত-১৯)
১)আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, রাসুল(সাঃ) বলেছেন, কোন সাইয়্যেবা (তালাক প্রাপ্তা বা বিধবা) নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী মহিলাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি বললেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি।

(সুত্রঃ সহীহ বুখারী,অধ্যায় ৬৭, হাদিস নম্বর ৫১৩৬; মুসলিম ১৪১৯, তিরমিযী ১১০৭, নাসায়ী ৩২৬৫, ৩২৬৭, ৩২৭০, আবূ দাউদ ২০৯২, ২০৯৩, আহমাদ ৭৩৫৬, ৭৪৬৫, ৭৭০১, ৯২০৭, ৯৩২২, ২৭২৭২ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর ১৮৭১)

২)‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই কুমারী মেয়েরা লজ্জা করে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার সম্মতি।

(সুত্রঃ সহীহবুখারী,অধ্যায় ৬৭, হাদিস নম্বর ৫১৩৭;)
খানসা বিনতে খিযাম আল আনসারিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি অকুমারী ছিলেন তখন তার পিতা তাকে বিয়ে দেন। এ বিয়ে তিনি অপছন্দ করলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএ বিয়ে বাতিল করে দিলেন।

(সুত্রঃ সহীহবুখারী,অধ্যায় ৬৭, হাদিস নম্বর ৫১৩৮; গ্রন্থঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) হাদিস নম্বর ২০৯৭

২)আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও মুজাম্মে ইবনু ইয়াযীদ আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। খিযাম নামক এক ব্যক্তি তার মেয়েকে বিবাহ দেন। সে তার পিতার এই বিবাহ অপছন্দ করে। মেয়েটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিতার দেয়া তার এই বিবাহ রদ করে দেন। পরে সেই মেয়ে আবূ লুবাবা ইবনু ‘আবদুল মুনযির (রাঃ)-কে বিবাহ করে। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন, সে ছিল সায়্যিবা (বিধবা)

সুত্রঃ — সহীহবুখারী,অধ্যায় ৬৭, হাদিস নম্বর ৫১৩৯; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ১৮৭৩; নাসায়ী ৩২৬৮, আবূ দাউদ ২১০১, আহমাদ ২৬২৪৬, ২৬২৫১, মুয়াত্তা মালেক ১১৩৫ )

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here