কুড়িগ্রামে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ

0
133

নুরনবী মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দিগন্ত বিস্তৃত কৃষকের মাঠে মাঠে দু-চোখ জুড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ। যেন চারিদিকে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ আর মাঠ। নয়ন জুড়ানো দৃশ্য মেতে উঠেছে ফসলের মাঠে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে প্রকৃতির রুপ বৈচিত্র। যেন মাঠ জুড়ে হলুদ রঙে সাজিয়ে তুলিছে প্রকৃতির অপরুপ রুপ। এ বছর আবহাওয়া অনুকুল থাকায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ গত বছরের চেয়ে ভাল হয়েছে।
এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা হওয়ায় কৃষকের মূখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাগণ কৃষকের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সরিষা ক্ষেত দেখে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু সরিষার ফল ধরতে শুরু করেছে। আমন ধান ঘরে তোলার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরা ওই জমিতে সরিষা চাষ করে। সরিষার ফলন ঘরে তোলার সঙ্গেই আবারও ওই জমিতেই কৃষকরা ইরি-বোরো চাষ করেন। সরিষা বিক্রি করে কৃষকেরা ইরি-বোরো আবাদের বিভিন্ন খরচের জোগান দেয়। সরিষার আবাদের কারণে জমিতে বাড়তি হাল চাষ,সার ও কীটনাশক ঔষধ দেওয়া তেমন দরকার পড়ে না। ফলে স্বল্প খরচ ও কম পরিশ্রমেই সরিষার জমিতে ইরি-বোরো আবাদ হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হন। সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় ভালো দামের আশা করছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর কৃষকরা।
উপজেলা অফিস জানান, প্রতি বিঘা জমিতে টরী-৭, বারী ১৪/১৫ ও বিনা ৪,৯,৭ জাতের সরিষা প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মন হারে ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার নাওডাঙ্গার মমিনুল ইসলাম, নন্দিরকুটি গ্রামের আনোয়ার হোসেন, দাসিয়ারছড়ার আমজাদ হোসেন ও কাশিপুরের রবিউল ইসলাম জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আমরা টরী-৭, বারী ১৪/১৫ ও বিনা ৪, ৯,৭ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। এ বছর সরিষার গাছও ভাল হয়েছে। গাছে গাছে প্রচুর পরিমানে ফুল ধরায় আশানুরুপ ফলন হবে বলে মনে করছেন তারা। গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন ভাল হয়েছে। আশা করছি বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৭ মন করে সরিষা ঘরে ওঠাব। সরিষার জমিতেই ইরি-বোরো আবাদ ভাল হয় এবং খরচও কিছুটা কম। এছাড়াও ইরি-বোরো আবাদের যে টাকা খরচ হয় তা সরিষা বিক্রির টাকা দিয়ে মেটানো সম্ভব হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রশিদ জানান, এ উপজেলায় প্রভেক্স নামক বীজ শোধনের ঔষধ প্রয়োগের ফলে গত বছরের তুলনায় এবারে চাষিরা সরিষার বাম্পার ফলন পাবে বলে আমার বিশ্বাস। রাজস্ব ক্ষাতের প্রদর্শনী ২০ টি, বিনা গবেষনার ৮টি এবং কৃষক পর্যায়ে বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী ৪ টি সহ উপজেলায় মোট ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। সরিষা আবাদের জন্য কৃষি অফিস সব সময় কৃষকের মাঠে মাঠে গিয়ে সর্বাত্বক সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here