কোকেন ইসুতে ফেঁসে যাবে পারে অনেক রাঘববোয়াল!

0
23

untitled-13_147748

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা: সূর্যমুখী তেলের আড়ালে তরল কোকেন পাচারের ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারে অনেক রাঘববোয়াল। জব্দ করা কম্পিউটার, ই-মেইল বার্তা ও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসছে নতুন অনেক তথ্য। এলসি ছাড়া বাংলাদেশে আসা তরল কোকেন খালাস করতে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল। চালানটি অন্য দেশে পাঠাতে যোগাযোগ করেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বকুল ও ভারতীয় নাগরিক রাজুও। তাদের গ্রেফতার করলে জানা যাবে এ চক্রের মূলহোতাদের নাম।

চালানটি খালাস করতে সেকেন্ড পার্টি হিসেবে কাজ করেছেন এ দু’জন। তাদের ধরতে তাই ইন্টারপোল ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সহায়তা চাইবেন গোয়েন্দারা। কত টাকার চুক্তিতে এ পণ্য খালাস করার চেষ্টা হয়েছিল, খোঁজা হচ্ছে সেই তথ্যও। আবার চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার ফাঁকে যাতে মাদকের নতুন কোনো চালান বন্দর দিয়ে পাচার হতে না পারে, সে জন্য দেশের সব বন্দরে ডগ স্কোয়াড রাখার সুপারিশ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

এ প্রসঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে যেহেতু একবার মাদক আনা হয়েছে, তাই এটিকে আবারও রুট হিসেবে ব্যবহার করতে পারে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র। একটি চালান আটকের ফাঁকে আসতে পারে নতুন আরেকটি চালান। তাই দেশের সব স্থল ও সমুদ্রবন্দরে ডগ স্কোয়াড রাখার সুপারিশ করছি আমরা। পাশাপাশি প্রতিটি বন্দরের ল্যাব আধুনিক করারও সুপারিশ আছে আমাদের।’ চলমান তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছি আমরা। নতুন করে আসছে কিছু নামও।

যাচাই-বাছাই করে এদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এক ব্রিটিশ ও এক ভারতীয়কে ধরতে পারলে এ মামলার অনেক অগ্রগতি হবে। এ জন্য প্রয়োজনে ইন্টারপোল ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সাহায্য নেওয়া হবে।’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে বন্দর কাস্টমসহ বিভিন্ন সংস্থার নতুন অনেকের নামই আসছে। এগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি।’

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে তরল কোকেনের চালান আসার খবর পায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, বন্দর কর্তৃপক্ষ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খবর পেয়ে এ চালানের নথি সংগ্রহ করেন। নথি সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায়, চালানটি আমদানির জন্য ব্যাংকে কোনো ঋণপত্র খোলা হয়নি। আবার বলিভিয়া থেকে সূর্যমুখী তেলের কোনো চালান এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়নি। তাই চালানটি নিয়ে তাদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। পুলিশের ধারণা, এ চালানের সঙ্গে ব্রিটেন, বলিভিয়া, উরুগুয়ে, সিঙ্গাপুর ও ভারতের চোরাচালানি চক্র জড়িত। ব্রিটিশ ও ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা গেলে অপর তিন দেশের চোরাকারবারিদের ব্যাপারেও জানা যাবে বলে ধারণা নগর গোয়েন্দা পুলিশের।

ব্যাংকে এলসি না খুলে ভুয়া কাগজ তৈরি করে বলিভিয়া থেকে আনা হয় কোকেন মেশানো এক কনটেইনার সূর্যমুখী তেল। ১০৭টি ড্রামে ভরে ২০ টন তেল আনা হলেও একটিতে ছিল তরল কোকেন। ৯৬ নম্বর ড্রামে থাকা ১৮৫ কেজি সূর্যমুখী তেল ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে গত সপ্তাহে কোকেন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এরপরই তোলপাড় শুরু হয় দেশ-বিদেশে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম নিষিদ্ধ কোকেনের এত বড় চালান ধরা পড়ল চট্টগ্রাম বন্দরে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here