খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন

0
35

খালেদা জিয়াস্টাফ রিপোর্টার, সময় সংবাদ বিডি –

ঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দিয়েছেন আদালত।

সোমবারের (১২ মার্চ) দুপুরে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একই বেঞ্চে রোববার মামলাটি জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য রাখা ছিল। কিন্তু মামলার নথি না পৌঁছানো ও আদালতের দেয়া ১৫ দিন সময় শেষ না হওয়ায় আদেশের জন্য সময় পিছিয়ে সোমবার দিন ধার্য করেন।

মামলাটি আজ হাইকোর্টের কার্যতালিকার (কজলিস্ট) এক নম্বরে রাখা হয়।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করে হাইকোর্ট। সেই সাথে তার জামিনেরও আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এছাড়া ১৫ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতের নথি জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ করে, নথি পাওয়ার পর আদেশ দেয়া হবে বলে অপেক্ষমান রাখে হাইকোর্ট। নথি জমা দেয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে ৭ মার্চ।

মামলার অভিযোগে যা আছে: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ পরিচালক হারুন-অর রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় আসামি যারা: এ মামলায় আসামি সংখ্যা ছয়জন। ওই মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আসামি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে। অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

মামলার এজাহারে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ আসামি ছিলেন সাতজন। তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় আসামি সাইয়েদ আহমেদ ও গিয়াস উদ্দিন আহমেদকে বাদ দেওয়া হয়। মামলায় নতুন করে আসামি করা হয় সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীকে।

পলাতক যারা: মামলার শুরু থেকেই পলাতক আছেন মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং মমিনুর রহমান। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়েছেন লন্ডনে। তাঁকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

৪৩ দিন হাজির ছিলেন খালেদা জিয়া: মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে ৪৩ কার্যদিবস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন আট কার্যদিবস। মামলাটি ২৬১ কার্যদিবস পরিচালিত হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এক মাস নয়দিন কারাভোগ করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রায়ে সাজা হলে এসব দিন তার সাজা থেকে বাদ যাবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ওয়ান ইলেভেনের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আটক হওয়ার পর রমনা থানায় ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ মামলায় তাঁকে আটক দেখানো হয় ১ মাস ৯ দিন অর্থাৎ ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত খালেদা জিয়া কারাভোগ করেন।

চার বছরে চার বিচারক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অভিযোগ আদালত আমলে নেওয়ার পর থেকে রায় প্রদান পর্যন্ত চার বছরে চারজন বিচারক পরিবর্তন হয়েছেন। প্রত্যেক বিচারকের ওপর অনাস্থা দিয়ে বিচারক পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে সর্বশেষ বিচারকের ওপর অনাস্থা দিলেও আবেদন হাইকোর্টে নামঞ্জুর হয়।

এক নজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা: রমনা থানায় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর রশিদ। এজাহারে টাকা আত্মসাতের (ঘটনার) সময়কাল হিসেবে ১৩ নভেম্বর ১৯৯৩ হতে ২৮ মার্চ ২০০৭ সালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার কার্যদিবস-২৬১ দিন, খালেদা জিয়া হাজিরা দেন ৪৩ দিন, খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন আটদিন। গত ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ রায়ের দিন ধার্য করেন বিশেষ আদালত ৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান রায়ের দিন ধার্য -৮ ফেব্রুয়ারি ।

পরে ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here