খোঁটাদান করা কবিরাহ গুনাহ

0
113

 

✍️-আবু লাইবাহ (শুভ)

সময় সংবাদ বিডি-  

ঢাকাঃ ইসলামে পরোপকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।। এটা ঈমানের দাবি এবং আল্লাহ তা‘আলার অত্যন্ত পছন্দনীয় কাজ।। কিন্তু কাউকে উপোকার করে খোঁটা দেওয়া ঘৃন্যিত অপরাধ।।

খোঁটা দ্বারা কেবল দান-খয়রাত ও পরোপকারের ছওয়াবই নষ্ট হয় না; বরং এটা একটা কঠিন পাপও বটে। কেননা এর দ্বারা উপকৃত ব্যক্তির অন্তরে আঘাত দেওয়া হয়। মানুষের মনে আঘাত দেওয়া কবীরা গুনাহ। সুতরাং খোঁটা দেওয়া ইসলাম ও ঈমানের সংগে সংগতিপূর্ণ নয়। কেননা
.
রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ মুসলিম বলাই হয় তাকে, যার হাত ও মুখ থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]।
.
আর মু’মিন সেই, যার ক্ষতি থেকে সকল মানুষ নিরাপদ থাকে [মুসনাদে আহমাদঃ ১২৫৬১]
.
এজন্যেই খোঁটা দেওয়াকে কুরআন মাজীদে কাফের-বেঈমানের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।এই ব্যাপারে
.
আল্লাহ্‌ বলেনঃ ‘হে মু’মিনগণ! খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-সদকাকে সেই ব্যক্তির মত নষ্ট করো না, যে নিজের সম্পদ ব্যয় করে মানুষকে দেখানোর জন্য এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে না। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত এরকম, যেমন এক মসৃণ পাথরের উপরে মাটি জমে আছে, অতঃপর তাতে প্রবল বৃষ্টি পড়ে এবং তা সেই মাটিকে ধুয়ে নিয়ে যায় এবং সেটিকে পুনরায় মসৃণ পাথর বানিয়ে দেয়। এরূপ লোক যা উপার্জন করে, তার কিছুমাত্র তারা হস্তগত করতে পারে না। আর আল্লাহ এরূপ কাফেরদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না। – [সূরা বাক্বারাহঃ ২৬৪]
.
অর্থাৎ খোঁটা দেওয়া অমুসলিমদের পরিচয় বহন করে।। তারা যদি আখিরাতে বিশ্বাস করতো, তাহলে সোয়াবেরও আশা রাখতো। আশা রাখে না বলেই কেবল নগদপ্রাপ্তির চিন্তা করে, হয় সে ব্যক্তি তাকে আরও বেশি দেবে, নয় তার অনুরূপ উপকার তারও করবে, অন্ততপক্ষে তার গুণগান করে তো বেড়াবেই এমনটাই তার চাওয়া।। যখন এর কোনওটা পায় না, তখন মনে করে- বৃথাই টাকা-পয়সা নষ্ট করল। এভাবে সে হতাশার শিকার হয় আর নিমকহারাম, অকৃতজ্ঞ ইত্যাদি বলে গালাগাল করে।।

আল্লাহ্ আমাদের এখলাসের নিয়তে দান সাদাকা করার তৌফিক দান করুন।। অহংকার মুক্ত করে রাখুন।। আমীন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here