গারো তরুণী ধর্ষণ, দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

0
134
maicro-bus-rape-suspect_file-photo_samakal-_157253
নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি
ঢাকা:রাজধানীতে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে আদিবাসী গারো তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় আশরাফ খান তুষার (৩৫) ও জাহিদুল ইসলাম লাভলুকে (২৬) আসামি করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
রোববার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আজমিলা নাসরিন চৌধুরী ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সাধারণ নিবন্ধক (জিআরও) শাখায় চার্জশিট জমা দেন। চাঞ্চল্যকর ওই ধর্ষণ মামলার চার্জশিটে ৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
এছাড়া মেডিকেল প্রতিবেদন, ঘটনার শিকার তরুণী ও দুই আসামির ডিএনএ নমুনা প্রতিবেদনও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গারো তরুণীকে ধর্ষণের তিন মাসের মাথায় র‌্যাব এ চার্জশিট দিল। আসামি তুষার ও লাভলুকেও গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। তারা দুজনই ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছিল। এ দুই আসামি সিগনেট নামের একটি বায়িং হাউজের গাড়িচালক; বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।
র‌্যাবের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের ২১ মে রাতে যমুনা ফিউচার পার্কের কর্মস্থল থেকে উত্তরায় বোনের বাসায় ফিরছিলেন ওই গারো তরুণী। তাকে আসামি তুষার ও লাভলু কুড়িল বিশ্বরোড থেকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। চলন্ত মাইক্রোবাসেই ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে ওই দুজন। তুষার প্রথমে তরুণীর ওপর পাশবিকতা চালায়। এরপর ধর্ষণে অংশ নেয় লাভলু। ওই রাতেই তরুণীকে উত্তরার জসীমউদ্দীন রোডে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দেয় তারা।
ঘটনার পরের দিন ভাটরা থানায় ওই ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচজনের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের মামলা হয়। তবে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে, ওই রাতে মাইক্রোবাসে দুই আসামি ছিল এবং তারা দুজনেই ধর্ষণে অংশ নেয়।
র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ সমকালকে জানান, গারো তরুণীকে গণধর্ষণ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে র‌্যাবের একাধিক দল ধর্ষকদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ মে (২৬ মে দিবাগত রাতে) র‌্যাব-১ এর একটি দল পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তুষারকে গ্রেফতার করে। একই দিন রাজধানীর গুলশান-১ থেকে গ্রেফতার করা হয় লাভলুকে।
র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর ওই ধর্ষণের ঘটনায় রোববার আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এতে দুই আসামির পরিচিত দুই মাইক্রোবাস চালক, তারা ধর্ষণের পর যে গ্যারেজে মাইক্রোবাসটি রেখেছিল ওই গ্যারেজের দুই নিরাপত্তাকর্মী, ঘটনার শিকার তরুণীর মামা ও বড় বোন, তরুণী যমুনা ফিউচার পার্কের যে দোকানের কর্মী ছিল ওই দোকানে তার দুই সহকর্মী এবং যমুনা ফিউচার পার্কের সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণকাজে নিয়োজিত একজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।’
র‌্যাবের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, মূলত তুষারের পরিকল্পনাতেই এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গত ১৭ মে তুষার দুজন বিদেশি নারী নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে যায়। তরুণীর কর্মস্থলের দোকানে তারা কেনাকাটা করে। ওই সময় তরুণীর ফোন নম্বর নেন তিনি। পরে তাকে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা বলে সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার রাতে চাকরি বিষয়ে কথা বলার জন্য যমুনা ফিউচার পার্কের উল্টোপাশে তরুণীকে দেখা করতে বলে তুষার। তিনি মেয়েটিকে উত্তরার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে মেয়েটি রাজি না হলে তাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নেয় তুষার ও লাভলু।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here