গুলশানে মওদুদ আহমেদের বাড়ি বুঝে নিল রাজউক

0
331

মওদুদ আহমেদের বাড়িস্টাফ রিপোর্টার, সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা:আইনি লড়াইয়ে হারের পর রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের ১৫৯ নম্বর হোল্ডিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বাড়িটির দখল পুলিশের সহায়তায় বুঝে পেলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। বুধবার বেলা দুইটার দিকে রাজউকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ বাড়িটি থেকে মওদুদ আহমেদের সকল মালামাল উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় মওদুদ আহমেদ ও তার কয়েকজন নিকট আত্মীয়সহ সহকর্মী আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত রোববার বাড়ির মালিকানা নিয়ে রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

অভিযান পরিচালনা করেন রাজউকের পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার অলিউর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— রাজউকের (অঞ্চল-৪) অথরাইজড অফিসার আদিলুজ্জামন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক আহমেদসহ রাজউক ও ডিএমপির আরো অন্যান্য কর্মকর্তারা।

মওদুদ আহমেদের বাড়িগুলশান-২ নম্বর সেকশনের ১৫৯ নম্বর প্লটের ওই বাড়িতে মওদুদ আহমেদ বসবাস করে আসছিলেন ১৯৭২ সাল থেকে। কিন্তু ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করে মওদুদের ভাই মনজুর আহমদের নামে ওই বাড়ির দখল নেয়া হয়েছে অভিযোগ করে দুদক মামলা করলে চার বছর আগে আইনি লড়াই শুরু হয়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মঞ্জুর আহমদের করা এ সংক্রান্ত রিভিউ পিটিশন পর্যবেক্ষণসহ গত রোববার খারিজ (বাতিল) করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

দুদকের দায়ের করা মামলার অভিযোগে অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির (রাজউক) কাছ থেকে এক বিঘা ১৩ কাঠার এ বাড়ির মালিকানা পান এহসান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্রে এহসানের পাশাপাশি তার স্ত্রী অস্ট্রিয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন এহসান। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২  সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। এর পর ১৯৭৩ সালের ২ আগস্ট মওদুদ তার ইংল্যান্ডপ্রবাসী ভাই মনজুরের নামে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে বাড়িটি সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নেন বলে মামলায় অভিযোগ করে দুদক। গত প্রায় তিন দশক ধরে এই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন মওদুদ আহমদ।

মওদুদ আহমেদের বাড়িবাড়ির ফটকের সামনে দাঁড়িয়েই গণমাধ্যমকে মওদুদ তার প্রতিক্রিয়া বলেন— আমি কী করব, কী করার আছে? রাতে ফুটপাতে শুয়ে থাকব। জোরের বিরুদ্ধে, বেআইনি শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের মত নাগরিকদের করার আর কী থাকে?

রাজউকের পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার অলিউর রহমান জানান, আমরা মালামাল জব্দ করিনি। শুধু রাজউকরে সম্পত্তি রাজউক বুঝে নিচ্ছে। তাই বাড়ি থেকে মালামালগুলো স্যার (মওদুদ আহমেদ) যেখানে দিতে বলছেন আমাদের লোক দিয়ে আমরা সেখানে ট্রাকে করে পৌঁছে দিয়ে আসছি।

মওদুদ আহমেদের বাড়ি

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here