গোটা বিশ্বে মেয়েদের দেহে ওজন বেড়ে যাওয়ায় ৩৫ থেকে ৫৫ বয়সেই জরায়ু ক্যান্সারে শিকার হন বেশি

0
130

জসিম ভুঁইয়া, সময় সংবাদ বিডি-
ঢাকাঃ যুক্তরাজ্যের ক্যান্সার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৪৩ সালের মধ্যে নারীদের ক্যান্সারের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে অতিরিক্ত ওজন ও ধূমপানের কারণে ।নারীদের ক্যান্সারের ঝুঁকির চেয়ে বেশি ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে নারীদের স্থূলতা। বর্তমানে শতকরা ১২ ভাগ নারীর ক্যান্সারের কারণ হিসেবে ধূমপানকে এবং শতকরা ৭ ভাগ নারীর ক্যান্সারের কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ওজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু ধূমপায়ীর সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকায় এবং নারীদের মধ্যে স্থূলতার হার বাড়তে থাকায় আগামী ২৫ বছরের মধ্যে নারীদের ক্যান্সারের প্রধান কারণে পরিণত হতে পারে অতিরিক্ত ওজন।

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে’র এক ধারণা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ নারীর ক্যান্সারের কারণ হবে ধূমপান এবং শতকরা ৯ ভাগ নারীর ক্যান্সারের , কারণ হবে অতিরিক্ত ওজন। আর এই ধারা অব্যাহত থাকলে, ২০৪৩ সালের মধ্যে ধূমপানের কারণে ক্যান্সার আক্রান্ত নারীর চেয়ে অতিরিক্ত ওজনের কারণে ক্যান্সার আক্রান্ত নারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে  বলে মনে করছেন।

গবেষণা দলটি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, অতিরিক্ত ওজনের কারণে পুরুষের চেয়ে নারীদের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে বেশি। কারণ অতিরিক্ত ওজনের ফলে অন্ত্র, গল ব্লাডার, কিডনি, লিভার, স্তন, জরায়ু ও থাইরয়েডে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর নারীদের মধ্যে এ ধরনের ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ফলে অতিরিক্ত ওজন হলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে নারীদের।

সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, গত এক দশকে যুক্তরাজ্যের শিশুদের মধ্যেও স্থূলতার হার বেড়েছে। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে’র প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ লিন্ডা বওল্ড বলেন, শৈশবে যাদের অতিরিক্ত ওজন ছিল, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাদের স্থূলতার আশঙ্কা অন্যদের চেয়ে ৫ গুণ। তার মতে, স্থূলতা আর ক্যান্সারের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে সেই বিষয়টি সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে এবং শিশুদের সচেতন করতে এখনই নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

ধূমপানের মতো জাঙ্ক ফুডের বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়তে হবে, এতে মানুষের অতিরিক্ত ওজন বাড়ার প্রবণতা কমে আসবে। আর এটি হলে অতিরিক্ত ওজনের জন্য যেসব ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
শুধু স্তন ক্যান্সার নয়, গোটা বিশ্বে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। যে কোনো বয়সেই নারীদের জরায়ু ক্যান্সার হতে পারে। তবে ৩৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের নারীরা এ ক্যান্সাররে শিকার হন বেশি। আবার ৫০ বছর বয়স্ক কিংবা এর থেকে বেশি বয়সেই নারীরাও জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পরেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর পৃথিবীতে শুধু জরায়ু ক্যান্সারেই আক্রান্ত হয় ২ লাখ ৫০ হাজার নারী। যদি আক্রান্ত নারীরা প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করান তাহলে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৫০% কমে যায়। আর প্রথম থেকেই চিকিৎসা করালে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায় ৯৫%।

এই জরায়ু ক্যান্সারকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়। কারণ এই অসুখ দেখা দিলে অনেক নারীই এর লক্ষণ বুঝতে পারেন না। আবার ভিন্ন লক্ষণ দেখা দিলেও অনেক সময় গুরুত্ব দেন না। কাজেই সুস্থ থাকতে জেনে নিন জরায়ু মুখ ক্যান্সারের কারণ, লক্ষণ ও তার এ বিষয় -প্রতিকার।

জরায়ু ক্যান্সারের কারণ
বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কম বয়সে সহবাস, কম বয়সে ঘন ঘন সন্তান ধারণসহ বহুগামীতা, ধূমপান, দারিদ্র্য, এইচপিভি সংক্রামণ, এইচএসভি-২ সংক্রামণ, জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ির ব্যবহার, নিরাপদ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব ইত্যাদি কারণে জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি হয়ে থাকে।

লক্ষণ√
– নিন্মাঙ্গের চারপাশে চাপ লাগা কিংবা ঘন ঘন মূত্রত্যাগ করা√
– গ্যাস, বদহজম, √কোষ্ঠকাঠিন্য√ হালকা খাবারের পর পেট ভর্তি লাগা√পেটে অস্বস্তি লাগা√ ইত্যাদি পেটের কোনো সমস্যা খুব বেশি হলে তা জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

– অন্য সময়ের থেকে পেটে অনেক পরিবর্তন দেখা দেওয়া।
– পেটে অতিরিক্ত ব্যথা √কিংবা পেট ফুলে থাকা।
– বমি বমি ভাব√ কিংবা বার বার বমি হওয়া।
– ক্ষুধা কমে যাওয়া।
– অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া √কিংবা ওজন অনেক বেশি কমে যাওয়া।
– যৌনমিলনের সময় ব্যথা পাওয়া√
– অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করা।
– নারীদের মেনোপজ হওয়ার পরেও ব্লিডিং হওয়া।

সকল রোগের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ সম্ভব হয়না, তবে জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও করা সম্ভব। কারণ ডাক্তার অথবা স্বাস্থ্যকর্মী সহজেই জরায়ু মুখ দেখতে এবং পরীক্ষা করতে পারেন। রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে জরায়ু মুখে অনেক দিন ধরে একটি ক্যান্সার পূর্ব অবস্থা বুঝা যায় কিংবা ভবিষ্যতে ক্যান্সারের আশংকা আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়। আর এ অবস্থা ধরা পড়লে সামান্য চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ সম্ভব।

মূলত ভয়, সামাজিক কুসংস্কার, পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব, অনেক ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের সুবিধা না থাকায় ক্যান্সার দেরিতে ধরা পড়ে। কাজেই আগে থেকেই এ বিষয়ে সচেতন হোন; সুস্থ থাকুন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here