জেনে রাখা ভাল

0
141

সময় সংবাদ বিডি,

ঢাকাঃ পোষ্টের ছবিটি দেখে হয়ত হোচট খেলেন! খাওয়ারই কথা। যারা সারা বিশ্বে “গনতন্ত্র” প্রতিষ্ঠার বুলি আওড়াচ্ছে তাদের দেশের গনতান্ত্রিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তর্জুনী উত্তোলন করা বড্ড বেমানানই বটে! এবার আসুন মূল প্রসঙ্গে যাওয়া যাক।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের নির্বাচনে জনগনের ভোটে হিলারী জয়লাভ করেন। ট্রাম্প ও হিলারীর ভোটের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৬,৫৮,৪৪,৬১০ এবং ৬,২৯,৭৯,৬৩৬। অর্থাৎ ২৯,৬৪,৯৭৪ টি ভোট বেশী পেয়ে জনগনের ভোটে জয়লাভ করেন হিলারী। প্রশ্ন জাগছে তাহলে ট্রাম্প কিভাবে প্রেসিডেন্ট হল?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন একই সাথে দুটি ধারায় হয়ে থাকে। তা হল “Popular Vote” এবং “Electoral Vote”. পপুলার ভোট হল যা সরাসরি জনগনের এবং ইলেক্টোরাল হল প্রতিটি প্রদেশের সংরক্ষিত ভোট যা পয়েন্টের ন্যায় কাজ করে। যে প্রদেশের মানুষ বেশী সেই প্রদেশের ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যাও বেশী।

একটু সহজে ব্যাখ্যা করা যাক— মনে করুন ABC পার্টি এবং XYZ পার্টির মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে। ঢাকার জনগন বেশী তাই ঢাকার ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ১০, এর পর চট্টগ্রামের ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ৭, রাজশাহীর ৫, সিলেটের ৩ এবং বরিশালের ১। এবার XYZ পার্টি যদি ঢাকার এবং চট্টগ্রাম আসনে জয়লাভ করে তবে তারা পাবে ১০+৭= ১৭ টি ইলেক্টোরাল ভোট এবং ABC পার্টি যদি বাকি তিনটি বিভাগ যথা রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে জয়লাভ করে তবে পাবে মাত্র ৫+৩+১= ৯ টি ইলেক্টোরাল ভোট। অর্থাৎ মাত্র ২ টি বিভাগেই জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে পারবে XYZ পার্টি। অপরদিকে ৩ বিভাগে জয়লাভ করেও সরকার গঠন করতে পারবেনা ABC পার্টি।

উপরের বর্ণিত নিয়মে পপুলার ভোটে (জনগনের ভোটে) হেরে গিয়েও শুধুমাত্র ইলেক্টোরাল ভোটে জয়লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হয় ট্রাম্প। আর জনগনের ভোটে জয়লাভ করেও ইলেক্টোরাল ভোটে হেরে পরাজিত হন হিলারী ক্লিনটন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প ও হিলারীর ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩০৪ ও ২২৭। অর্থাৎ ৭৭ টি ইলেক্টোরাল ভোট বেশী পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে সক্ষম হয় ট্রাম্প এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গঠন করে।

আবু জাসরাহ
নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here