তাবিজ

0
104

সময় সংবাদ বিডি

ঢাকাঃ ইসলাম একটি সার্বজনীন পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এতে কোন কিছু সংযোজন- বিয়োজনের সুযোগ নেই। এটা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জীবদ্দশায় পূর্ণতা লাভ করেছে।

বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে ইসলাম পরিপূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরেছে। সাথে সাথে তাবীয জাতীয় জিনিস ব্যবহার নিষেধ করেছে। বরং একে শিরক
বলে আখ্যায়িত করেছে। রোগ মুক্তির আশায়
তামার বালা অথবা অষ্টধাতুর আংটি ব্যবহার করাও শিরক। গাভীকে যে কোন ক্ষতি থেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে গাভীর গলায় চামড়া ব্যবহার করা, বালা-মুছীবত থেকে বাঁচার জন্য সাদা কড়ি চুলে বেঁধে ব্যবহার করা, বাচ্চাকে শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার আশায় কালো সূতায় গিরা দিয়ে ব্যবহার করা,
বাচ্চা যেন না মরে এ আশায় কান ফুঁড়িয়ে রিং ব্যবহার করা এবং যে কোন উদ্দেশ্যে তাবীয ব্যবহার করা ইত্যাদি স্পষ্ট শিরক। বক্ষ্যমাণ প্রবন্ধে ইসলামের দৃষ্টিতে তাবীয ও ঝাড়ফুঁক সম্পর্কে আলোচনা করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।

❒ তাবিজের  সংজ্ঞা :

‘তাবীয’ ( ﺗَﻌْﻮِﻳْﺬٌ) আরবী শব্দ। ‘আউযুন’( ( ﻋَﻮْﺫٌ মূলধাতু হ’তে উৎপন্ন। এটি একবচন। বহুবচনে তা‘আবীয  (ﺗَﻌَﺎﻭِﻳْﺬٌ)  এর সমার্থক শব্দ হচ্ছে ‘তামীমা’(ﺗَﻤِﻴْﻤَﺔ)। এর বহুবচন হচ্ছে ‘তামায়েম’ ( ﺗَﻤَﺎﺋِﻢٌ।)  ‘তাবীয’ বা ‘তামীমা’-এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- রক্ষাকবচ, মাদুলি ইত্যাদি।

✍ আবু মানছূর বলেছেন, তামীম দ্বারা তাবীয বুঝানো হয়েছে, যা মানুষ বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাবার জন্য ব্যবহার করে থাকে। এমনিভাবে বিষধর সাপ ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য যে পুথি জাতীয় জিনিস সূতায় গেঁথে গলায় বেঁধে দেয়া হয়, তাকেও ‘তামীমা’ অর্থাৎ ‘তাবীয’ বলা হয়।
রেফারেন্সঃ আলী বিন নুফায়ী আল-উলাইয়ানী,
অনুবাদ: ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ মুজিবুর রহমান,
আক্বীদাহর মানদন্ডে তা’বীজ (ঢাকা :
ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংস্থা, রামাযান,
১৪১৭ হিঃ, ১৯৯৭ ইং), পৃঃ ১১।

✍ ইবনে জোনাই (রহঃ) বলেন, অনেকের মতে তাবীয হচ্ছে ঐ জিনিস, যা তাগায় বেঁধে লটকানো হয়। যেমন বলা হয়, আমি শিশুর গলায় তাবীয ঝুলিয়ে দিয়েছি। এককথায় বলা যায় যে, মানুষের গলায় বা অন্যান্য অঙ্গে বিপদাপদ থেকে বাঁচার জন্য যেসব তাবীয ধারণ করা হয়, সেগুলিকেই ‘তামীমা’ বলা হয়, রেফারেন্সঃ তদেব)

❒ আল-কুরআনের দৃষ্টিতে তাবীয :

মানুষ অসুস্থ হ’লে তাকে সুস্থতা দান করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। এখানে কারো কোন এখতিয়ার নেই। ওষুধ, ডাক্তার বা চিকিৎসা ব্যবস্থা কেবলমাত্র
অসীলা বা মাধ্যম। তাই সর্বাবস্থায় বান্দাকে আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। স্রেফ ডাক্তার বা ওষুধের উপর আস্থাশীল হলে শিরক হবে। যা কাবীরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

✍ মহান  আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
ﻭَﺇِﻥْ ﻳَﻤْﺴَﺴْﻚَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺑِﻀُﺮٍّ ﻓَﻼَ ﻛَﺎﺷِﻒَ ﻟَﻪُ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﻭَﺇِﻥْ ﻳَﻤْﺴَﺴْﻚَ ﺑِﺨَﻴْﺮٍ ﻓَﻬُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ
ﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳْﺮٌ

‘যদি আল্লাহ তোমাকে কষ্ট দেন, তবে তিনি ব্যতীত তা অপসারণকারী আর কেউ নেই; পক্ষান্তরে তিনি যদি তোমার কল্যাণ দান করেন তবে তিনিই তো সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান’ (আন‘আম ৬/১৭) ।

✍ মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলেন,
ﺃَﻓَﺄَﻣِﻨُﻮْﺍ ﺃَﻥْ ﺗَﺄْﺗِﻴَﻬُﻢْ ﻏَﺎﺷِﻴَﺔٌ ﻣِﻦْ ﻋَﺬَﺍﺏِ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺃَﻭْ ﺗَﺄْﺗِﻴَﻬُﻢْ ﺍﻟﺴَّﺎﻋَﺔُ ﺑَﻐْﺘَﺔً ﻭَﻫُﻢْ ﻻَ ﻳَﺸْﻌُﺮُﻭْﻥَ

‘আল্লাহ যদি তোমাকে কষ্ট দেন, তাহ’লে তিনি ব্যতীত তা মোচনকারী আর কেউ নেই; আর যদি আল্লাহ তোমার মঙ্গল চান তাহ’লে তাঁর অনুগ্রহ রদ করারও কেউ নেই। তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি মঙ্গল দান করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (ইউনুস১০/১০৭) ।

✍ তিনি আরো বলেন,

ﻗُﻞْ ﺃَﻓَﺮَﺃَﻳْﺘُﻢْ ﻣَﺎ ﺗَﺪْﻋُﻮْﻥَ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺇِﻥْ ﺃَﺭَﺍﺩَﻧِﻲَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺑِﻀُﺮٍّ ﻫَﻞْ ﻫُﻦَّ
ﻛَﺎﺷِﻔَﺎﺕُ ﺿُﺮِّﻩِ ﺃَﻭْ ﺃَﺭَﺍﺩَﻧِﻲ ﺑِﺮَﺣْﻤَﺔٍ ﻫَﻞْ ﻫُﻦَّ ﻣُﻤْﺴِﻜَﺎﺕُ ﺭَﺣْﻤَﺘِﻪِ ﻗُﻞْ
ﺣَﺴْﺒِﻲ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻳَﺘَﻮَﻛَّﻞُ ﺍﻟْﻤُﺘَﻮَﻛِّﻠُﻮﻥَ –

‘বল, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমাকে কষ্ট দেয়ার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা আল্লাহ্কে ছেড়ে দিয়ে যাদেরকে ডাক তারা কি সে কষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত রোধ করতে পারবে? বল, আমার জন্য আল্লাহ্ই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে’ (যুমার ৩৯/৩৮) ।

✍ অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তোমরা যে সমস্ত অনুগ্রহ ভোগ কর তা তো আল্লাহরই নিকট হ’তে, আবার যখন দুঃখ-দৈন্য তোমাদের স্পর্শ করে তখন তোমরা তাঁকেই ব্যাকুলভাবে আহবান কর। আর যখন আল্লাহ তোমাদের দুঃখ-দৈন্য দূরীভূত করেন তখন তোমাদের একদল তাদের প্রতিপালকের সাথে শরীক করে’ (নাহাল১৬/৫৩-৫৪)।

অতএব আল্লাহ তা‘আলা বান্দার কল্যাণ না করলে কেউ তা করতে পারবে না। আবার তিনি কারো ক্ষতি করলে কেউ তা রোধ করতে পারবে না। অতএব তাবীয বা শরী‘আত পরিপন্থী ঝাড়-ফুঁক মানুষের রোগ নিরাময়ের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নয়। বরং এর দ্বারা পরকালে ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হ’তে হবে।

❒ ছহীহ হাদীছের দৃষ্টিতে তাবীয :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাবীয ব্যবহার করা শিরক বলেছেন। তাবীয ও তাবীয জাতীয় সব কিছুকে একই শ্রেণীভূক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

✍ দলিলঃ – (১)

ﻋَﻦْ ﻋُﻘْﺒَﺔَ ﺑْﻦَ ﻋَﺎﻣِﺮٍ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻖَ ﺗَﻤِﻴْﻤَﺔً ﻓَﻼَ ﺃَﺗَﻢَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟَﻪُ ﻭَﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻖَ ﻭَﺩَﻋَﺔً ﻓَﻼَ ﻭَﺩَﻉَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟَﻪُ.

উক্ববাহ ইবনু আমির (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবীয ব্যবহার করবে আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দিবেন না। আর যে কড়ি ব্যবহার করবে আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না’।
রেফারেন্সঃ আহমাদ, হাদীছ হাসান হা/১৭৪৪০।

কোন কিছুর দ্বারা তাবীয বা কড়ি ঝুলানো একই ধরনের অপরাধ।

✍ দলিলঃ – (২)

ﻋَﻦْ ﻋُﻘْﺒَﺔَ ﺑْﻦِ ﻋَﺎﻣِﺮٍ ﺍﻟْﺠُﻬَﻨِﻲِّ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮْﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
ﺃَﻗْﺒَﻞَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺭَﻫْﻂٌ ﻓَﺒَﺎﻳَﻊَ ﺗِﺴْﻌَﺔً ﻭَﺃَﻣْﺴَﻚَ ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻓَﻘَﺎﻟُﻮْﺍ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮْﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺑَﺎﻳَﻌْﺖَ ﺗِﺴْﻌَﺔً ﻭَﺗَﺮَﻛْﺖَ ﻫَﺬَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻥَّ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺗَﻤِﻴْﻤَﺔً ﻓَﺄَﺩْﺧَﻞَ ﻳَﺪَﻩُ
ﻓَﻘَﻄَﻌَﻬَﺎ ﻓَﺒَﺎﻳَﻌَﻪُ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﻋَﻠَّﻖَ ﺗَﻤِﻴْﻤَﺔً ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺷْﺮَﻙَ

উক্ববাহ ইবনু আমির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর খিদমতে একদল লোক উপস্থিত হ’ল। অতঃপ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) দলটির ৯ জনকে বায়‘আত করালেন এবং একজনকে বায়‘আত করালেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি ৯
জনকে বায়‘আত করালেন আর একজনকে ছেড়ে দিলেন? রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘তার সাথে একটি তাবীয রয়েছে। তখন লোকটি হাত ভিতরে ঢুকিয়ে তাবীয ছিড়ে ফেললেন। অতঃপর রাসূল (ছাঃ)
তাকেও বায়‘আত করালেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাবীয ব্যবহার করল সে শিরক করল’।
রেফারেন্সঃ আহমাদ হা/১৭৪৫৮, সনদ ছহীহ ।
এ থেকে বুঝা যায়, তাবীয ব্যবহার করা জঘন্য অপরাধ। এরূপ ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বায়‘আত করানো থেকে বিরত থেকেছেন। সেটা যে প্রকারের তাবীয হোক না কেন। তাহ’লে অপরাধের পরিধি কত বেশী তা সহজেই অনুমেয়।
✍ রুওয়াইফা ইবনু ছাবিত (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে বললেন,
ﻳَﺎ ﺭُﻭَﻳْﻔِﻊُ ﻟَﻌَﻞَّ ﺍﻟْﺤَﻴَﺎﺓَ ﺳَﺘَﻄُﻮﻝُ ﺑِﻚَ ﺑَﻌْﺪِﻯ ﻓَﺄَﺧْﺒِﺮِ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺃَﻧَّﻪُ ﻣَﻦْ
ﻋَﻘَﺪَ ﻟِﺤْﻴَﺘَﻪُ ﺃَﻭْ ﺗَﻘَﻠَّﺪَ ﻭَﺗَﺮًﺍ ﺃَﻭِ ﺍﺳْﺘَﻨْﺠَﻰ ﺑِﺮَﺟِﻴﻊِ ﺩَﺍﺑَّﺔٍ ﺃَﻭْ ﻋَﻈْﻢٍ ﻓَﺈِﻥَّ
ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣِﻨْﻪُ ﺑَﺮِﻯﺀٌ .
‘হে রুওয়ায়ফা! হয়ত তুমি আমার পরেও অনেক
দিন বেঁচে থাকবে। সুতরাং তুমি লোকদেরকে এ কথা বলে দিও যে, যে ব্যক্তি দাড়িতে গিট দিল (জট পাকাল) অথবা তাবীয জাতীয় বেল্ট বা সূতা (ছেলে-মেয়ের বা প্রাণীর গলায়) পরাল কিংবা চতুষ্পদ জন্তুর গোবর অথবা হাড় দিয়ে ইসতেঞ্জা করল, নিশ্চয়ই তার সাথে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর কোন সম্পর্ক নেই’।
রেফারেন্সঃ আবুদাঊদ হা/৩৬; নাসাঈ হা/৫০৬৭;
মিশকাত হা/৩৫১, সনদ ছহীহ।
✍ অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺮُّﻗَﻰ ﻭَﺍﻟﺘَّﻤَﺎﺋِﻢُ ﻭَﺍﻟﺘِّﻮَﻟَﺔ ﺷِﺮْﻙٌ
‘নিশ্চয়ই ঝাড়-ফুঁক, তাবীয এবং ভালবাসা সৃষ্টি করার জন্য কোন কৌশল অবলম্বন করা শিরক’।
রেফারেন্সঃ আবুদাঊদ হা/৩৮৮৫; ইবনে মাজাহ হা/৩৫৩০; আহমাদ হা/৩৬১৫; মিশকাত হা/৪৫৫২, সনদ
ছহীহ।
এতে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, তাবীয ব্যবহার করা, বাচ্চাদের গলায় বা কোমরে কালো কিংবা সাদা সূতা বাঁধা শিরক।
✍ ঈসা ইবনে হামযাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উকাইমের নিকট গেলাম। তাঁর শরীরে লাল ফোস্কা পড়ে আছে। আমি বললাম, আপনি তাবীয ব্যবহার করবেন না? উত্তরে তিনি বললেন, তা হ’তে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻖَ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻭُﻛِﻞَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ
‘যে ব্যক্তি কোন কিছু ঝুলায় তাকে তার প্রতি সোপর্দ করে দেয়া হয়’।
রেফারেন্সঃ তিরমিযী হা/২০৭২; আহামাদ হা/১৮৮০৩;
মিশকাত হা/৪৫৫৬, সনদ হাসান।
✍ একদা হুযায়ফা (রাঃ) এক রোগীকে দেখতে এসে তার বাহুতে একটি তাগা দেখতে পেলেন, অতঃপর তিনি তা কেটে ফেললেন বা ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, যারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছে, তাদের অনেকেই শিরক করছে। এত্থেকে প্রমাণিত হয়, হুযায়ফা (রাঃ)-এর মতে তাবীয ব্যবহার করা শিরক।
রেফারেন্সঃ আক্বীদাহর মানদন্ডে তাবীয, পৃঃ ২০।
✍ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ)-এর স্ত্রী যয়নব হ’তে বর্ণিত একদা (আমার স্বামী) আব্দুল্লাহ আমার গলায়
একখানা তাগা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, (তোমার গলায়) এটা কী? বললাম, এটা একটি তাগা, এতে আমার জন্য মন্ত্র পড়া হয়েছে। যয়নব বললেন,
তা শুনে তিনি তাগাটি ধরে ছিঁড়ে ফেললেন, অতঃপর বললেন, তোমরা আব্দুল্লাহর পরিবারবর্গ। তোমরা শিরকের মুখাপেক্ষী নও। আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-
কে বলতে শুনেছি, ঝাড়ফুঁক, তাবীয ও জাদুটোনা শিরকী কাজ’।
রেফারেন্সঃ আবুদাঊদ হা/৩৮৮৫; আহমাদ হা/৩৬১৫; সনদ ছহীহ, মিশকাত হা/৪৫৫২।
তাবীয ব্যবহার করা শিরকুল আসবাব-এর অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের শিরক, শিরককারীর মনের অবস্থা ও তার ধ্যান-ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে কখনো বড় শিরক, আবার
কখনো ছোট শিরক হয়ে যায়। সুতরাং তাবীয ব্যবহার করাকে সাধারণভাবে বড় শিরক বা ছোট শিরক বলে আখ্যায়িত করা যাবে না। বরং তাবীয ও তাবীয
ব্যবহারকারীর প্রতি লক্ষ্য করতে হবে। তাবীয যদি কোন মূর্তির ছবি হয়, অথবা এমন শিরকী মন্ত্র তাবীযে লেখা থাকে, যেগুলির মাধ্যমে গায়রুল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয় কিংবা গায়রুল্লাহর কাছে শিফার জন্য প্রার্থনা করা হয়, কিংবা ক্রুশকে তাবীয হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাহ’লে নিঃসন্দেহে তা বড় শিরক। এভাবে যদি কেউ কড়ি বা সুতা ইত্যাদি গলায় ধারণ করে এবং এ ধারণা পোষণ করে যে, এগুলি বালা-মুছীবত দূর করার ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ক্ষমতা রাখে, তাহ’লে তাও বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি এ ধরনের ধ্যান- ধারণা না থাকে তাহ’লে ছোট শিরকের অন্তর্ভুক্ত হবে।

লেখক – আখতার বিন আমীর
সালালাহ ,ওমান।রেফারেন্সঃ আক্বীদাহর মানদন্ডে তাবীজ, পৃঃ ৩৭।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here