তামাক নিয়ন্ত্রন আইন আছে নেই প্রয়োগ

0
177

m3700936-lit_cigarette-spl1

শেখ জাহিদুজ্জামান, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা: ২০০৫ সালের পর বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে যেমন আইন আছে, তেমনি আছে ২০১৩ সালে পাস হওয়া সংশোধিত বিধিমালাও। এরপরও কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করার উদ্যোগ নেই। আইনে শিশুসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপান থেকে রক্ষায় কঠোর বিধান থাকলেও তা কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আইনে সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়সহ ২৪ ধরনের স্থানকে পাবলিক প্লেস ঘোষণা দিয়ে সেসব জায়গায় ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রাজধানী তেজগাঁওয়ের সরকারি রেজিস্ট্রেশন অফিস গিয়ে দেখা যায়, পুরো কার্যালয়টিই যেন ধূমপান জায়গা। সরকারি এই কার্যালয়ে কেবল ধূমপানই নয়, কার্যালয়ের বন্ধ রুমে রীতিমতো সিগারেটের দোকান খুলে কেনাবেচা চলছে।

২০০৫ সালের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে আছে, সাদা কিংবা লালের ওপর বড় বড় করে লিখতে হবে ‘ধূমপান হইতে বিরত থাকুন, ইহা শাস্তিযোগ্য অপরাধ’। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ১৯ এপ্রিল সংশোধিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনে আছে, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টুন বা কৌটার উভয় পাশে ৫০ শতাংশ স্থান জুড়ে রঙিন ছবি ও লেখায় স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবার্তা মুদ্রিত থাকতে হবে।

সরকারি অফিসে ধূমপান প্রসঙ্গে সরকারি রেজিস্ট্রেশন অফিসের ঢাকা সদর সাব-রেজিস্টার মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এটা করেন (ধূমপান নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন), আমি যতটুকু জানি। আইনটা মনে হয় ২০০৪-এর (প্রকৃতপক্ষে ২০০৫-এর)..এটুকু জানি।’ এ সময় তিনি আরো জানান, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে ওনাদের (সরকারি কর্মকর্তাদের) কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি।

গবেষকদের মতে, প্যাকেটের গায়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শন করে প্রচারণা চালালে তা তামাক সেবনকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর তা তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। এসব স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা দেখার কারণে ধূমপানে অনুৎসাহিত হন অনেক ধূমপায়ী। তাদের অনেকেই ধূমপানের অভ্যাসও ত্যাগ করে থাকেন।

পাবলিক প্লেসে বা জনসম্মুখে বেপরোয়া ধূমপায়ীরা ২০১৩ সালের তামাক আইনের সংশোধনীতে উল্লেখ আছে, অফিস আদালত ছাড়াও পাবলিক প্লেস হিসেবে পাবলিক টান্সপোর্ট, টার্মিনাল, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং বাসস্ট্যান্ডের মতো স্থানে ধূমপান করা যাবে না। আইন অনুযায়ী ওই সব স্থানে ধূমপায়ীকে অনধিক ৩০০ টাকা জরিমানা করতে হবে। কিন্তু মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ঘুরে মনে হলো জরিমানা তো দূরে থাক, এখানে ধূমপান করাটা যেন একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসচালক থেকে শুরু করে, হেলপার, যাত্রী সবাই যেন শামিল হয়েছে ধূমপানের মিছিলে। এতে নারী ও শিশুসহ অসুস্থ কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না তা দেখার সময় নেই কারো।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ইউসুফের ভাষ্য, ‘এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এ ছাড়া মানুষ এখন উগ্র। আমি যে না করব, দেখা যাবে আমাকেই মারতে আসছে।’

ঢাকার বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখো গেছে, যিনি পুলিশ আইন প্রয়োগ করবেন অথবা যে আদালতে এ ব্যাপারে বিচার করা হবে সেখানেই মানা হচ্ছে না এই আইন। বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, পুলিশ প্রকাশ্যেই ধূমপান করছেন। আর আদালত প্রাঙ্গণেই ওড়ে সিগারেটের ধোঁয়া। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কে কাকে আইনের আওতায় আনবেন সেটাই এখন প্রশ্ন!

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কে এম তানজিবুল আলম এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমাদের নতুন যে বিধিমালা করা হয়েছে, সেই বিধিমালা অনুযায়ী যদি পাবলিক প্লেসগুলোতে মাঝে মাঝে পুলিশি অভিযান চালানো হয় এবং এটা ক্রমান্বয়ে করা হয়, তখন হয়তো এর প্রকোপ কমে আসবে।’ তিনি আরো জানান, আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর লোকবলের অভাব ও সরকারের সদিচ্ছার অভাবে এই অভিযানগুলো সব সময় চালানো সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তামাক সেবন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ বছর আগের হিসাবে দেখিয়েছিল, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মারা যায় ৫৭ হাজার মানুষ।

এ ছাড়া তামাক সেবনের কারণে প্রায় তিন লাখ লোক তাদের কর্মক্ষমতা হারায়। এতকিছুর পরও তামাক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা না থাকলে তা হবে আত্মহত্যার শামিল।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here