তিস্তা ব্যারাজে রেড অ্যালার্ট, নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ

0
29

তিস্তায় রেড অ্যালার্ট, ২ লাখ মানুষ পানিবন্দিসময় সংবাদ বিডি,লালমনিরহাট:-লালমনিরহাটে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় রেড এলার্ট জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফ্লাট বাইপাশ এলাকার লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

ভারত থেকে প্রচণ্ড গতিতে পানি আসায় তিস্তা ব্যারাজ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে যেকোনো মুহূর্তে ফ্লাট বাইপাশ কেটে দেয়া হতে পারে।

ডালিয়া (দোয়ানী ব্যারেজ) পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রোববার ভোর ছয়টা থেকে দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ও কুলাঘাট পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ।

তিনি জানান, তিস্তা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতেও পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ফলে তিস্তা পাড়ে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ফ্লাট বাইপাশ এলাকার লোকজনদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। ব্যারাজের ফ্লাট বাইপাশ এলাকার ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। এতে পানি ঢুকে পড়েছে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু এলাকায়।

ব্যারাজ রক্ষার্থে যে কোনো মুহূর্তে ফ্লাট বাইপাশ কেটে দেওয়া হতে পারে। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়বে। তবে ব্যারাজ রক্ষার্থে সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইতোমধ্যে হাজার হাজার বিঘা জমির সদ্য রোপনকৃত আমন ধান, সবজিসহ নানা ফসল ও রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে পানির নিচে। পানিবন্দি রয়েছে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

এদিকে, সারপুকুর ইউনিয়রে চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম প্রধান জানান, আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের চওড়াটারী গ্রামে গত শনিবার সন্ধ্যায় বন্যায় জমে থাকা নর্দমার পানিতে ডুবে আলতাব আলীর ছেলে মোস্তফা বাবুর (৬) মৃত্যু হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাফিউল আরিফ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। বন্যার্তদের নিরাপদ স্থানে সরে আনাসহ তাদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।’

 

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here