দুর্গাপুরে এনজিও প্রত্যারনার ফাঁদে সাধারন মানুষ !

0
184

এস এম শাহাজামাল :

রাজশাহী দুর্গাপুরে এনজিও’র প্রত্যারনর ফাঁদে পড়ে সর্ব শান্ত হচ্ছে সাধারন মানুষ। প্রতিনিয়িত এনজিও গুলো গ্রহকদের সাথে প্রত্যারনা করে চলেছে।  এসব নামী-বেনামী এনজিও গুলোর অতিদ্রুত লাগাম ধরতে না পারলে সর্বশান্ত হবে এ এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ। ইতিমধ্যে এলাকার অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ নিঃস্ব হয়ে এনজিও ভয়ে আতœহত্যা করেছে। এমনকি অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তার পরেও এনজিও ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরিবার গুলোর উপর চালানো হচ্ছে অমানবিক অত্যাচার। তবে এ এলাকার এনজিও গুলো কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানিয়েছে অনেকে! স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করার পিছনে ইন্দন দিচ্ছে ইউএনডিপিসহ দেশী-বিদেশী দাতা সংস্থা। তার ধারবাহিকতায় রাজশাহী জেলায় এনজিও গুলোর দুর্নীতির আখড়া পরিণত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এনজিও ব্যুরো নিয়ন্ত্রণ নেই। গত বছর থেকে সরকারের বিভিন্ন জেলার এনজিও গুলোর উপর নজরদারীর নির্দেশ দিলেও বাদ পড়েছে রাজশাহী জেলা। সরকারি ভাবে এনজিও গুলোর উপর তেমন কোন নজরদারী নেই। আর এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে এনজিও গুলো দুর্নীতির আখড়া পরিণত করেছে। মানব সেবার আর্দশ নিয়ে গঠিত হলেও বাস্তবে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে এসব এনজিও গুলো। এ কারনে দরিদ্র জনগোষ্ঠির ভাগ্য পরিবর্তন না হলেও এনজিও প্রতিষ্ঠাতাদের আর্থ-সামাজিক ও অবস্থানগত মর্যাদার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আন্তজার্তিক সাহ্যপুষ্ট ৫০টি অধিক এনজিও গত বছর ৩রা নভেম্বর নিবন্ধন বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যলয়ের অধীন এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী এলাকায় সুনিদিষ্ট নীতিমালা প্রনয়নের বিষয়টি সরকারের নজরদারী না থাকার ফলে এনজিও গুলোর দর্নীতি সীমাহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। এনজিও গুলোর স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়নি। এসব এনজিও রেজিস্ট্রশন হয় দ্য সোসাইটিজ রেজিস্ট্রশন আক্ট,১৯৮০ এর অধিনে। এ আইনে স্বচ্ছতা, জবাবদিতিা নিশ্চিতকরণও দুর্নীতিরোধের কোন দিকনির্দেশনা নেই।

সুত্রে জানায়, আন্তজাতিক সাহায্যে সাহায্যেকারী এনজিও গুলো দ্যা ফরেন ডোনেশনস রেগুলেশন রুলস-১৯৭৮ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্য্যলয়ের ২০০১ সালের ২৯ মে জারিকৃত পরিপত্রের অনুয়ায়ী চলে আসছে। উক্ত আইনে নিবন্ধনের পর হতে পাচঁ বছর পর্যন্ত প্রত্যেক বেসরকারি এনজিও কে নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করার বিধি নিষেধ রয়েছে। এবং আবেদনের সঙ্গে এনজিও’র পাঁচ বছরের কার্যক্রম,বার্ষিক প্রতিবেদন ও নিরিক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করার বিধান রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বছরের পর বছর রাজশাহী এলাকার এনজিও গুলোর সামগ্রিক কার্যক্রম মনিটরিং ও তদারকি হচ্ছে না। যার ফলে এনজিও গুলো নিজের ইচ্ছে মত কাজ করে চলেছে। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে অনিয়ম দুরর্নীতি করে চলেছে। সম্প্রতি রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় জাগরণ চক্র ফাউন্ডেশনের নারীদের স্বাস্থ্য সেবা নামে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পের কোন কার্যক্রম উপজেলার কোন গ্রামে দেখা যায়নি। কিন্তু এনজিও কর্মীরা কয়েকটা কেটলগ সাংবাদিক ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যলয়ে দিয়ে দায় এড়িয়ে চলেছে। এছাড়া ইউএনডিপির অর্থায়নে সাস (স্ট্যাটেজিক একশ্যান সোসাইটি) এর উদ্যোগে রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার স্যাানিটেশন প্রকল্পের মান উন্নয়নের কাজ চলেছে। কিন্তু উপজেলার কোন গ্রামে স্যানেটিশন সেবার উন্নয়ন কাজ হয়নি। তবে এনজিও কর্মীরা কর্মশালায় উপজেলা চেয়ারম্যান,উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা,স্কুল ব্যবস্থা কমিটিকে সম্পৃত্ত করা হয়। এই ভাবে প্রতিদিন কোন না কোন এনজিও কর্মশালা,সেমিনার দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লুট পাট করা হচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণের কোন ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সেবায় এখনো অনেক পিছিয়ে পড়ে আছে দুর্গাপুর উপজেলা। কিন্তু প্রতিনিয় কোন না কোন এনজিও বিভিন্ন কাজ করে চলেছে। গ্রাম উন্নয়নের নামে যে  প্রকল্প গুলো করা হয় তা  কাগজে কলমে, বাস্তবে কোন কাজ হয় না।

রাজশাহী অঞ্চলে আর্থ-সামাজিক ও দারিদ্র বিমোচনের নামে স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষীমহল দীর্ঘদিন ধরে দেশী-বিদেশী দাতাগোষ্ঠীর কোটি কোটি টাকা আত্বসাতের ফায়দা লুটছে। ফলে এসব বিদেশী টাকা আত্বসাতের জন্য নিত্য নতুন নামে এনজিও গঠনের হিড়িক পড়েছে। ফলে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে এসব এনজিও। দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর এনজিওগুলোর সুনিদিষ্ট কোন নীতিমালা না থাকায় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্ট্রি হয়ে আসছে। এই সুযোগে বেশ কিছু এনজিও সংগঠন উন্নয়ন ও মানব সেবার নামে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে। বেশকিছু এনজিও,র কার্যক্রমে যেমন জাতিগত বৈষম্যতা তেমনি সাম্প্রদায়িকার ইস্যু সৃষ্ট্রির কাজে লিপ্ত রয়েছে।এই ভাবে এনজিও গুলোর রাজশাহী অঞ্চলে দারিদ্রতার সুযোগে প্রতারনার মাধ্যমে অসহায় পশ্চাদপথ দরিদ্র জনগোষ্ঠী হয়রানীর স্বীকার হচ্ছে। বাংলাদেশ বাংকের ছাড়পত্র ব্যতীত সঞ্চয় আমানত গ্রহন করার বিষয়ে আইনগত বৈধ কিনা তা মনিটরিং ও তদারকি করতে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নীরব।

জানাগেছে  শিক্ষা, স্বাস্থ্য,আইনি সহায়তা,সহ বিভিন্ন মানউন্নয়ন প্রশিক্ষনের জন্য দাতা সংস্থারা সহায়তা করে থাকেন। কিন্তু এখনো এলাকার সাধারণ মানুষ জানে না তারা এসব টাকা দিয়ে কি ধরনের কার্যক্রম চালায়।এমনকি সরকারি ভাবে এসব কাজের কোন রিপোর্ট প্রদান করা হয় কি না। তবে হলেও সেটা কাগজে কলমে হয় বাস্তবে মাঠে নেমে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম জেনে রিপোর্ট দাখিল করা হয় না। আর এসব রিপোর্ট সরকারি অফিসের টেবিলের তলায় পড়ে থাকে। কখনো দেখা লাগে না। কারন এর কোন জব্বাব দেওয়ার বা নেওয়ার কোন জায়গা নেই। রাজশাহী জেলাসহ নাটোর,বগুড়া, চাঁপাইনবাঞ্জ জেলার হাতে গণা কয়েকজন ব্যক্তি ও এনজিও’’র হাতে জিম্মি হয়ে পড়ায় সকল বিষয়ে নিয়ন্ত্রন তাদের হাতে ।

এছাড়া স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করার পিছনে ইন্দন দিচ্ছে ইউএনডিপিসহ দেশী-বিদেশী দাতা সংস্থা। উত্তর অঞ্চলের জেলাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্যাপক উন্নয়ন ও সেবামুলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে। এতে যেন উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য দারিদ্রপীড়িত প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের। কেননা, তাদের ভাগ্যোন্নয়ন ও রাজশাহী অঞ্চলে আর্থ-সামজিক উন্নয়নের নামে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও মাঠে এসবের কোন তৎপরতাই নেই। শুধু কাগজে-কলমে এবং কর্মশালা ও সেমিনারের মধ্যে শেষ হচ্ছে তথাকথিত উন্নয়ন ও ত্রাণ কর্মসূচি। এই সুযোগে এনজিও গুলো কর্মশালার নামে নিত্য নতুন সমস্যার ইন্দন দিচ্ছে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায়।

অপরদিকে তথাকথিত এক শ্রেণীর সরকারি আমলা, উন্নয়ন কর্মী ও জনপ্রতিনিধি রাজশাহী অঞ্চলে উন্নয়ন কর্মসূচির আড়ালে মত্ত রয়েছেন প্রমোদ বিলাসে। তারা রাজশাহী অঞ্চলে কর্মশালা আয়োজনের নামে লুটপাট করছেন দেশি-বিদেশি কোটি কোটি টাকা। আত্মর্জাতিক কতিপয় দাতাগোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এসবের সিংহভাগ অর্থই লুটপাট ও আত্মসাৎ হয়ে যাচ্ছে। আত্মসাৎ করা অর্থের দায় চাপানো হচ্ছে সরকারের ঘাড়ে। নাম দেয়া হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন। এ ভাবে দুর্গাপুর উপজেলাসহ রাজশাহী ৯টি উপজেলার শত শত এনজিও এসব শীর্ষ আমলাদের যোগসাজসে উন্নয়নের নামে হরিলুট চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্য মতে, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা রাজশাহী জেলার ৯ উপজেলার উন্নয়ন ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা কর্মসূচির ব্যানারে ঘন ঘন সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এতে অপচয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। একেকটি অনুষ্ঠানে ব্যয় দেখানো হয় লাখ লাখ টাকা। অথচ এসব অনুষ্ঠানের আড়ালে আয়োজন করা হয় কেবলই প্রমোদ বিলাস আর লোক দেখানো কর্মসূচি। সরকারি এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থেই হচ্ছে এসব আমোদ-ফূর্তি। এক শ্রেণীর সরকারি আমলা ও বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রায় সময় উপভোগ করে যাচ্ছেন প্রমোদ বিলাস। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে আয়োজন করা হয় প্রমোদ বিলাসী রমরমা আসর। কর্মশালায় রাজশাহী জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেয়।

এদিকে, পবা উপজেলায় চলতি মাসের শুরুতেই বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থায়নে রাজশাহীতে আম ও লিচুর মানউন্নয়নের প্রশিক্ষনের সেমিনার করা হয় । কিন্তু সেমিনারের নামে লাখ লাখ টাকা ব্যায় করা হলেও কোন কার্যকারিতা নেই।  চলতি মাসেই একটি ইংরেজি পত্রিকায় ওই সেমিনারের নিউজ প্রকাশিত হয়। পরে  জানা যায় নিউজটি বিদেশী দাতা সংস্থাকে দেখানোর জন্য পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে। এছাড়া কোন প্রয়োজন ও নেই।

দুর্গাপুর উপজেলা এনজিও ফ্লোরামের সভাপতি মোজ্জামেল হক বলেন, এনজিও’র বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তৃণমূল সাধারন অতিদরিদ্র জনগোষ্টির কাছে যেতে হবে। এমন কি স্থাণীয় জনপ্রতিনিধিদেও নিয়ে কাজ করতে হবে। শতভাগ প্রকল্প বাস্তবায় নিশ্চিত করতে হব।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here