দ্বীনের পথে ইসলামের সাথে

0
55

সময় সংবাদ বিডি

ঢাকাঃ আসসালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা-র জন্য এবং অসংখ্য সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নাবী ও রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি।

✍ অতঃপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, الدِّينُ النَّصِيحَةُ ‏”‏
“দ্বীন হল নাসীহাত”
সহীহ মুসলিম

✍ ইমাম মুসলিম رحمه الله বর্ণনা করেন (হা/৬৪৩৭),

وعن أبي هريرة عبد الرحمن بن صخر رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ “‏ إن الله لا ينظر إلى أجسامكم ، ولا إلى صوركم، ولكن ينظر إلى قلوبكم وأعمالكم‏”‏

আবূ হুরাইরাহ আব্দুর রহমান ইবনু সাখর رضى الله عنه কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের দেহ এবং তোমাদের আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল দেখেন।’’

► ওয়া’বাদ,

দ্বীনের পথে এসেও বহু যুবক – যুবতী আজকাল নানাবিধ ফিতনায় জড়িয়ে যাচ্ছে ! সত্যি কথা বলতে কি, চারদিকে ফিতনা এতটাই ঘিরে ধরেছে যে, তা থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখতে মুমিনরাই হিমশিম খাচ্ছে, তাহলে যাদের ঈমানী দূর্বলতা রয়েছে বা আমলে ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে তাদের কি অবস্থা হতে পারে !

✍ আবূ হুরাইরাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শীঘ্রই অনেক ফিত্না দেখা দেবে। তখন উপবিষ্ট ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। দাঁড়ানো ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। চলমান ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি ফিত্নার দিকে তাকাবে ফিত্না তাকে ঘিরে ধরবে। তখন কেউ যদি কোন আশ্রয়ের জায়গা কিংবা নিরাপদ জায়গা পায়, তাহলে সে যেন সেখানে আত্মরক্ষা করে।
❒ সহিহুল বুখারী
আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৮৮,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬০১

একথা সত্য যে, দ্বীনের পথে অটল থাকার জন্য পরিবেশ ও নেককারদের সাহচর্যে থাকাটা অনেক ইম্পর্টেন্ট! দ্বীনের উপর অটল রয়েছে এমন মানুষের সাথে থাকতে থাকতে অন্তরে দ্বীনের প্রতি গভীর ভালবাসা পয়দা হয়, আমলের উৎসাহ জাগে। পক্ষান্তরে, জাহিলি পরিবেশে জাহিল (মুর্খ) বন্ধু-বান্ধবের সাথে থাকলে ঈমান দূর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে নিজের কৃত গোনাহসমুহকে তুচ্ছ মনে হয়, ইবাদাতের খুশু (একাগ্রতা) বিনস্ট হয়, সর্বপরি “ঈমান” কমজোর হয়ে পড়ে!

✍ সেইজন্যেই চরিত্র বিজ্ঞানী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “একজন মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়ে থাকে। সুতরাং, ওইব্যক্তি যেনো খেয়াল রাখে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব করছে।” সুনানে তিরমিজিঃ ২৩৭৮, হাদীসটি হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী রাহিমাহুল্লাহ।

আপনি যার সাথে কথা বলবেন, যার সাথে মিশবেন, যার সাথে উঠা-বসা, চলাফেরা ও বন্ধুত্ব করবেন, ফেইসবুক, ইন্টারনেটে, বা বই-পুস্তকের ক্ষেত্রে যেই লেখকদের লেখা পড়বেন অথবা, যাদের ওয়াজ-লেকচার শুনবেন, আপনার দ্বীন, আপনার আমল, আখলাক্ব (চরিত্র), চিন্তা-ভাবনা, আক্বল (বিচার-বুদ্ধি) বা ই’লম (জ্ঞান) তাদের মতোই হবে।

যাইহোক মুল কথা হচ্ছে –
► গাফালত
► জাহালত
► দুনিয়ামুখীতা
► নারী
এগুলোর বাহ্যিক চাকচিক্য আমাদের উৎসাহ যোগায় দ্বীনের চাইতে দুনিয়াকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে! আমাদের আত্নাকে আখিরাতবিমুখী করতে!

আলহামদুলিল্লাহ!
কিছু মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে যাদের ঈমান সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়! যে বিষয়গুলো আমার কাছে একসময় খুবই তুচ্ছ মনে হত কিংবা মনেই হত না এসবের কোন গুরুত্ব আছে, দ্বীনের এমন বিষয়েও কিছু কিছু মানুষের সিরিয়াসনেস আমাকে প্রায়ই ঈমান নবায়নের তাগিদ দেয়!

নিজের ভুলগুলো তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যখন তারা আমার সামনে আয়েনা স্বরুপ দাঁড়িয়ে থাকে!
নিজের দ্বীনকে তখনই অর্থহীন মনে হয় যখন দ্বীনের প্রতি তাদের অটলতা,একনিষ্ঠতা,মজবুতি দেখি!

আল্লাহর দ্বীনকে যারা সিরিয়াসলি নেন আমার ক্ষুদ্র জীবনের অভিজ্ঞতা বলে তারা অবশ্যই একদিন নারী ফিতনা, দুনিয়ালোভ, অর্থলোভ, হারাম রিলেশন এসবের ভয়াবহতা বুঝতে পারে। একদিন কুরআনের আয়াতগুলো তাদেরকে ভাবায় যারা সত্যিই মনে করে কুরআনের এক একটা আয়াত এক একটা উপদেশ, সমাধান, আদেশ আর নিষেধ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। যে আদেশ নিষেধের বাধ্যতা আর অবাধ্যতার মাঝেই একজন সত্যিকারের মুমিন-মুসলিম এবং নাম কা ওয়াস্তে মুসলিমের পার্থক্য!

আপনার ভূরি ভূরি জ্ঞান নয় বরং আল্লাহ দেখবেন দ্বীনের প্রতি আপনার মোহাব্বত, ইখলাস,অটলতা, একাগ্রতা, আপনার সিরিয়াসনেস!
এমন একটা সময় প্রতিটি মানুষের জীবনে আসে যখন আপনি উপলব্ধি করবেন – এসব নারী, হারাম রিলেশন, দুনিয়ামুখীতা অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা কতটা তুচ্ছ! এগুলো দ্বীনের পথে কাজ করাকে ব্যাহত করে, নিয়্যতের পরিশুদ্ধতা নষ্ট করে, শয়তানকে মনের ভেতর অবাধ বিচরণের সুযোগ করে দেয়।

দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর বিষয়াদি ও দ্বীনবিমুখ করে দেওয়ার মত কর্মগুলোকে “ফিতনা” মনে করার মত “অন্তরের বুঝ” হয়ত সবার ভেতর থাকেনা!
কেননা, আল্লাহতাআলা কাকে হেদায়াত দিবেন এবং কে হেদায়াতের উপর অটল থাকবেন তা একমাত্র তিনিই জানেন। হেদায়াত কারো কাছে বলে কয়ে আসেনা।
একাগ্রচিত্তে চেষ্টা, মহান রবের কাছে আকুতি, পরিশুদ্ধ নিয়্যত এবং খালেস অন্তরে তাওবার মাধ্যমেই কেবল আমরা মহান আল্লাহর কাছে হেদায়াত আশা করতে পারি।

দোয়া করি,
আল্লাহতাআলা আমাদের সবাইকে উপরোক্ত বিষয়াদি অনুধাবনের তাওফ্বিক দিন, আমাদের অন্তরসমুহকে ফিতনাকে ফিতনা হিসেবে গন্য করার তাক্বওয়াটুকু দিন,আমাদের অন্তরকে যেন শয়তানের জিম্মায় ছেড়ে না দেন!
সর্বপরি, আমাদের সবাইকে দ্বীনের সাথে আমাদের অন্তরকে বেঁধে রাখার শক্তি ও ঈমান দান করুন,
(আমিন)

আখতার বিন আমীর

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here