ধরা ছোঁয়ার বাইরে জঙ্গি খুনিরা

0
196

images

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা: দেশে একের পর এক ব্লগার ও মুক্তমনের মানুষদের কথিত ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ‘খুনি জঙ্গিরা’ কেন গ্রেফতার হচ্ছে না? বিশেষ কোনো মহল থেকে কি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ৮৪ ব্লগার ও প্রগতিশীলদের হিটলিস্ট করে সিরিজ বা টার্গেট কিলিং করে যাওয়ায় রীতিমতো আতঙ্কে পরিণত হয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সেলের জঙ্গিরা। সংগঠনটির সেলের মাত্র তিন শতাধিক সক্রিয় সদস্য ধীরে ধীরে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন ব্লগারসহ মুক্তমনা ব্যক্তিরা। অথচ এসব জঙ্গি গ্রেফতারে পুলিশ ও র‌্যারেব নির্লিপ্ততা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

সিরিজ কিলিংয়ের পর দেশীয় আনসার বাংলা কিংবা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার দায় স্বীকারের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এদিকে জঙ্গিদের হিটলিস্টে ব্লগারদের পাশিপাশি সংস্কৃতিকর্মী, রাজনীতিক ও এমনকি সাংবাদিকদের নামও রয়েছে বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবাদের বলী ব্লগার রাজিব হায়দার শোভন, ব্লগার ড. অভিজিৎ রায়, ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও সর্বশেষ সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে পরবর্তী টার্গেট কে? এর আগে প্রথাবিরোধী লেখক অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শফিউল আলম লিলন, বুয়েট ছাত্র দীপ, উত্তরায় দলছুট জেএমবি সদস্য রাশিদুল ইসলাম, গোপীবাগে সিক্স মার্ডার ও কারওয়ান বাজারে মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ড প্রায় একই কায়দায়।

পুলিশের দাবি, ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এতে জঙ্গিরা বিশেষ করে আনসারুল্লাহর সেলের সদস্যরা জড়িত। নিহত স্বজন ও সচেতন মহল বলছে, খুনিদের গ্রেফতারে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে পুলিশ-র‌্যাব। দীর্ঘদিনেও মামলাগুলোর তদন্তে নেই দৃশ্যমান অগ্রগতি। যে কারণে থামছে না টার্গেট কিলিং। ব্লগারদের হত্যাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে র‌্যাব বরাবরই তৎপর। এ সমস্যা মোকাবিলায় র‌্যাব এখনো প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, সিলেটে ব্লগার খুনের ঘটনা জানার পর সেখানে কর্মকর্তারা গেছেন এবং পর্যবেক্ষণ করছেন। র‌্যাব ইন্টেলিজেন্স জঙ্গিদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে। শীর্ঘ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অপারেশন করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, সারাদেশে আনসারুল্লাহর এক হাজারের অধিক অনুসারী রয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত তিনশ’ নিয়মিত সদস্য। এরা নানা নেপথ্য চক্রে ভাগ হয়ে তৎপর রয়েছে। এছাড়া আনসারুল্লাহর ‘একাকী মুজাহিদ’ রয়েছে। সূত্র জানায়, আনসারুল্লাহ সেলের জঙ্গিরা লোন উলফ্রে বাংলা করেছে ‘একাকী মুজাহিদ’। এই পদ্ধতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের জন্য একজনকে উদ্বুদ্ধ এবং প্রস্তুত করা হয়। ‘একাকী মুজাহিদ’ ও ‘সিøপার সেলের’ জন্য ঘরে বসে ও রান্নাঘরের উপাদান ব্যবহার করে বোমা-বিস্ফোরক তৈরি, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও আক্রমণপূর্ব পর্যবেক্ষণসহ (রেকি) অন্যান্য কলাকৌশল গ্রহণ করে থাকে।

এদিকে তালিকামাফিক একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পরও বর্তমানে এসব জঙ্গি গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশ ও র‌্যাবের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এক সময় র‌্যাব জঙ্গিবিরোধী তীব্র  অভিযানে থাকলেও বর্তমানে তাতে অনেকটা ভাটা পড়েছে। খোদ সরকারি দলের নীতি নির্ধারক, সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেন গতকাল বুধবার এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করে বলেছেন, হয়ত পুলিশ চাইছে না বলেই একের পর এক ব্লগার হত্যায় জড়িত খুনিরা গ্রেফতার হচ্ছে না। গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, পুলিশ ও র‌্যাব ব্লগারদের খুনিদের গ্রেফতারে সেই অর্থে তৎপর থাকলে এভাবেই নৃশংস ঘটনা ঘটত না। সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুলিশ-র‌্যাবের ভূমিকা দেখে আমাদের তো মনে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কেউ কেউ ধর্মান্ধ খুনি চক্রের নেপথ্যে থেকে পৃষ্ঠপোষকতা জোগাচ্ছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্লগারদের হত্যাকারী সন্দেহভাজন জঙ্গিদের গ্রেফতারে পুলিশের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। খুনিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে এবং তদন্তও ঠিকমতোই চলছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন হত্যাসহ ঘটনার দায় স্বীকার করে টুইট বার্তা দিলেও আনসারুল্লাহ গ্রুপের নেতৃত্ব ও অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে অভিজিৎ হত্যায় জড়িত বলে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here