নওয়াপাড়ায় চাউলকল শ্রমিকদের দাবি ও অধিকার বিষয়ে অ্যাডভোকেসি সভা

0
207

advocacy

মো: সেলিম হোসেন, যশোর জেলা প্রতিনিধি

যশোর: যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় চাউলকল চাউলকল শ্রমিকদের দাবী ও অধিকার বিষয়ে সরকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও, স্থানীয় সরকার ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অ্যাডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অক্সফ্যাম এর সহযোগিতায় স্থানীয় নওয়াপাড়া ইনষ্টিিটউট  সভাকক্ষে বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চলে।

রুডো সংস্থার  নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সিরাজুল হক এর সভাপতিত্বে অ্যাডভোকেসী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অভয়নগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইচ চেয়ারম্যান ফরিদা বেগম এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রীনা মজুমদার ও উপজেলা যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা আনজু মনোয়ারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত জরিপ তথ্যে বলা হয় যে, অভয়নগরে  ২২টি  চাউল কল থেকে মোট  ১০০ জন শ্রমিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে,যার মধ্যে নারী ৮৩ জন এবং ১৭ পুরুষ জন। শ্রমিকেরা অভয়নগর উপজেলার অধিবাসী ৪৫ জন এবং বাইরের ৫৫ জন। তাদের ৫৮ জন সন্তান স্কুলে যায়। তারা দৈনিক  গড়ে ৯৪.৯৪ টাকা মজুরি পান,কিন্তু সাংসারিক ব্যয় গড়ে দৈনিক ২১৩.১৬ টাকা। তারা বছরে প্রায় সাড়ে ৮ মাস কাজ করতে পারেন,বাকী সময় বেকার থাকেন। তারা গড়ে দৈনিক ২৩৩.৬৭ টাকা মজুরি প্রত্যাশা করেন।

৭৭ জন বলেছেন তারা নির্যাতনের শিকার হন। ৭৯ জন  মালিকের নিকট থেকে দাদন নিয়ে থাকেন,যে কারণে তারা মালিকের দাসতের¡ শৃংখলে বাঁধা থাখেন। সব মিলিয়ে চাতাল শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন যাপন করেন।
প্রধান অতিথি বলেন যে, চাউল কল শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করে। তাদের তালিকা তৈরি করে আমাকে দিলে আমি উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহায়তা দেবার চেষ্টা করবো।

বিশেষ অতিথি রীনা মজুমদার বলেন যে,চাউলকল শ্রমিকদের সহায়তা করার জন্য একটি কমিটি করা যেতে পারে। সরকারি বিভিন্ন সহায়তা তাদের প্রদানের জন্য উক্ত কমিটি কাজ করতে পারবে। বিশেষ অতিথি আনজু মনোয়ারা বলেন যে,চাউল কল শ্রমিকদের মধ্যে যারা যুব পুরুষ ও যুব মহিলা আছেন তাদের দক্ষতাবৃদ্ধি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তার দপ্তরের মাধ্যমে করা যেতে পারে।

অধ্যক্ষ এস এম খায়রুল বাসার বলেন যে,চাউলকল শ্রমিকদের অধিকার ও সুবিধা আদায়ের জন্য বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সমন্বয়ে একটি সাপোর্ট কমিটি গঠন করা যেতে পারে। অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন যে, যে গর্ভবতী নারী চাউলকল শ্রমিক দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারছেনা, আমি তার টাকা পরিশোধ করে দেব। অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান বলেন যে, চাউলকল শ্রমিকরা নির্যাতিত হলে আমি তাদের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে অইন সহায়তা প্রদান করবো।

পিডব্লিউএ এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নজরুল ইসলাম এর উপস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম আব্দুল আলেক, পৌর কাউন্সিলর শিরিনা বেগম, স্বাস্থ্য সহকারি ফেরদৌসী খানম, ইউপি সদস্য মাহফুজা বেগম, নির্বাহী পরিচালক মিকাইল হোসেন, মিনহাজ উদ্দীন, দৈনিক নওয়াপাড়ার মফস্বল সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাংবাদিক কামরুল ইসলাম ও আতিয়ার রহমান।

চাতাল শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন যাপন করেন। তাদের এই কাজের আইন,ভাল এবং নিয়মিত কাজ ,পুরূষের সমান সুযোগ ,নির্ধারিত মজুরী,শ্রম আইন কার্যকরী  করা,রেশন কার্ড ,মালিকের কাছ থেকে মুক্তি,ন্যায্য পারিশ্রমিক ,কাজের সময় সীমা কমানো সহ বিভিন্ন দাবী  এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে একটি জরিপ তথ্য অ্যাডভোকেসী সভায় উপস্থাপন করা হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here