নির্যাতিতা গৃহবধূর মানবেতর জীবন যাপন

0
235

nirjatita srabonti

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি, সময় সংবাদ বিডি

মুন্সীগঞ্জ : বিয়ের পর নারীর আপন স্থান স্বামীর ঘর। কিন্তু সেই স্বামী যদি রক্ষক না হয়ে ভক্ষক হয় তখন সেই নারীর কষ্টের সীমানা থাকে না। হাতে পায়ে ক্ষতের চিহ্ন। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী,শাশুর,ননদ প্রায় মম ও সিগারেট দিয়ে সেকা দিতো। স্বামী রফিকুল ইসলাম শিমুল সব সময় নেশাগ্রস্থ থাকতো তাই কারনে অকারনেই চলতো শামীমা ইসলাম শ্রাবনীর উপর নির্যাতন। নির্যাতনের চিহ্নগুলো শুকিয়ে গেলেও শুকায়নি হৃদয়ের ক্ষতের চিহ্ন।

অনাহারে অনাদারে পিত্রালয়ে ১৪ মাসের সন্তান নিয়ে জীবন যুদ্ধে এখন পরাজিত। সব সময় শঙ্কিত ছেলের ভবিষৎ নিয়ে। এর চেয়ে বেশি শঙ্কিত সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিয়ে। স্বামী সদ্য নতুন অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তাই স্বামীগৃহে আর ফেরা হচ্ছেনা তার। চোখে মুখে এখন তার ঘোর অমানিশা।

জানা গেছে ২০১১ সালের ৪ অক্টোবর  দুই লক্ষ টাকা দেনমোহর ধায্য করে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আ. জব্বার সেখের মেয়ে শামীমা ইসলাম শ্রাবনীর সাথে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী উপজেলার কুচাইতলী গ্রামের আমিনুল ইসলাম এর ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম শিমুল এর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে স্বামীগৃহে শত নির্যাতনের শিকার হয়ে ৩ বছর ছিলো শ্রাবনী।

শ্রাবনী জানান, বিয়ের সময় যৌতুক হিসাবে ১লক্ষ টাকা এবং আড়াই ভরি স্বর্ণ দেয় তার বাবা। বিয়ের এক বছর পর হতেই আরো যৌতুকের জন্য চলে তার উপর নির্যাতন। এর পর হতেই শ্রাবনীর মা শিরিনা বেগম প্রতি মাসে বিকাশের মাধ্যমে মেয়ের জন্য ৫ হাজার করে টাকা পাঠায় স্বামী শিমুলের কাছে। ঐ টাকায় চলতো শিমুলের নেশা। কিন্তু শিমুল ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে শাশুরীর কাছে দাবী করে প্রতিমাসে তাকে ৮ হাজার করে টাকা দিতে হবে। শাশুরী ৮ হাজার টাকা দিতে না পারায় সু-চতুর শিমুল তাকে  কৌশলে পিত্রালয়ে রেখে যান। এর পর আর খোঁজ নেননি।  শাশুরী আফরোজা, ননদ খুশি ও স্বামী শিমুল প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতো । তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ করে দেওয়া হতো তার খাবার। দির্ঘদিন না খেয়ে থাকতো হতো তাকে।

তারপরেও পিত্রালয় অনেক দূরে হওয়ায় মুখ বুজে সহ্য করতো সব। সব যন্ত্রনা সহ্য করেও স্বামীর গৃহে থাকতে চেয়েছিলো। কিন্তু স্বামী সদ্য বিয়ে করায় সব আশা এখন তার চোখে শুধু অমানিশা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here