নেত্রকোনা-৩: আ’লীগে জনপ্রিয়তার শীর্ষে সামসুল কবীর খান

0
387

জসিম ভুঁইয়া,সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সামসুল কবীর খান নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন লাভের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন আসনটির সরকার দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ সমর্থকরা। তারা বলছেন, নেত্রকোনা-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ইফতেখার উদ্দিন পিন্টুসহ যে ক’জন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন তাদের মধ্যে সামসুল কবীর খান দলের মধ্যে তো বটেই সাধারণ সমর্থক ও মানুষের কাছে ক্লিন ইমেজের একজন রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া কেন্দুয়া ও আটপাড়ায় একজন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবি হিসেবে তার বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের টিকিট প্রত্যাশী সামসুল কবীর খান দলটির কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। এছাড়া তিনি কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা।

তিনি একজন সফল ব্যবসায়ীও। কৃষি ও মৎস্য চাষের উদ্যোক্তা। সামসুল কবীর খান নিজ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষায় অনুদান ও বৃত্তি প্রদান, মাদ্রাসা ও কোরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাসহ নানা সমাজ সেবামুলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একজন ব্যতিক্রমী রাজনীতিক হিসেবে দল ও সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করেছেন।

তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রতিদিনই এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।

কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, সামসুল কবীর খান ছাত্র জীবনে ঢাকা কলেজে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন। এরপর ঢাকা তেজগাঁও আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রীয় রাজনীতি করলেও এলাকায় তিনি এতটা সক্রিয় ছিলেন না। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর যখন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা ও ভাঙচুরের শিকার হন।

তখন দল ও নেতাকর্মীদের দুর্দশায় কেউ এগিয়ে আসেনি। দিশেহারা দলের নেতাকর্মীদের পাশে এসে তখন দাঁড়ান সামসুল কবীর খান। নেতাকর্মীদের আশ্রয়, চিকিৎসা ও মামলা মোকাবেলায় সর্বোতভাবে তিনিই সাহায্য-সহযোগিতা করেন। দলকে এই আসনে ঘুরে দাঁড়াতে এরপর থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত তিনি নেতাকর্মীদের পাশে আছেন। নেতাকর্মীরা নৌকার প্রার্থী হিসেবে তাকেই দেখতে চায়।

আটপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কেন্দুয়া এবং আটপাড়া আওয়ামী লীগের এবং প্রায় ইউনিয়নে তার অর্থায়ন ও সহযোগিতায় আজ দলের নিজস্ব কার্যালয় রয়েছে। যেটিকে ঘিরে নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়েছে। এছাড়া দলের যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি এলাকায় থেকে বাস্তবায়ন ও নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

আটপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের এই নেতার বিশ্বাস, শামসুল কবীর খানের হাতেই নৌকা প্রতীক তুলে দিবেন প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা।

কেন্দুয়া আওয়ামী লীগ নেতা ও কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সামসুল কবীর খান একজন কর্মীবান্ধব নেতা। তিনি দল ছাড়াও সাধারণ মানুষের পাশেও দাঁড়ান। একজন শিক্ষানুরাগী ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে সবার কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তিনি মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও পুজা মন্ডবে ব্যক্তিগত অনুদান-সহযোগিতার হাত বাড়ানোর কারণে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে তার ইতিবাচক ভাবমুর্তি রয়েছে।

আটপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রানা অঞ্জু বলেন, নেত্রকোনা-৩ আসনে দল ছাড়াও যে নিরপেক্ষ ভোট ব্যাংক আছে, ওই ভোট ব্যাংকের সমর্থন পাওয়া যাবে সামসুল কবীর খান মনোনয়ন পেলে। তার মতে, দলের ত্যাগী ও অঙ্গ-সংগঠনের ইতিবাচক ভাবমুর্তির নেতাকর্মী যেমন সামসুল কবীর খানকে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়, তেমনি সাধারণ ভোটারদের মাঝেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।

নেত্রকোনা-৩ আসনের ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ চৌধুরী, আবু সায়েম খান, যুবলীগ নেতা মুশতাক আহমেদ, আবু বক্কর ও টিটু প্রমুখ নেতা বলেন, কেন্দুয়া ও আটপাড়া উপজেলায় দলের দুর্দিনে সামসুল কবির খান দল ও নেতাকর্মীদের হাল ধরেছে।

এছাড়া তিনি এলাকায় নানা জনহিতকর কাজ করছেন। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনুদান-ভিত্তি প্রদান ও এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তাকে আমরা পেলে সর্বস্তরের মানুষের ম্যান্ডেটে তিনি জয় লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ। তাদের মতে, মনোনয়ন লাভের দৌড়ে সামসুল কবীর খান এগিয়ে রয়েছেন।

আটপাড়া উপজেলার শুখারি ইউনিয়নের নাজিরগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক হাইস্কুল শিক্ষক আবদুস সালাম খন্দকার বলেন, সামসুল কবীর খান একজন সম্ভান্ত ও উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সন্তান। তিনি ইতিবাচক রাজনীতি করেন। মানুষের সঙ্গে মিশেন। তার প্রশ্ন- আজকাল তো ভালো মানুষের মূল্যায়ন হয় না। তাকে আওয়ামী লীগ নৌকার জন্য মনোনীত করলে মানুষের সাড়া পাবেন।

কেন্দুয়া উপজেলার আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জু সরকার বলেন, খান সাহেব মানুষের দুঃখ-কষ্টে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। সবখানে তার সুনাম শুনা যায়।

একই উপজেলার ছয়আনি গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আবু সাদেক বলেন, সামসুল কবীর খানের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আছে। ওনি এলাকায় বন্যা-দুর্যোগে গরীব মানুষকে সহযোগিতা করতে দেখিছি। তিনি নির্বাচনে আসলে মানুষের সমর্থন পাবেন।

নেত্রকোনা-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সামসুল কবীর খান বলেন, আমি টাকার জন্য রাজনীতি করি না। রাজনীতির পাশাপাশি আমি একজন ব্যবসায়ীও। ব্যবসাই আমার টাকার মেশিন। বরং রাজনীতি করতে এসে দলের কারণে বিএনপি আমলে আমি প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ব্যবসায়ীকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

তারপরও দলের জন্য, নেতাকর্মীদের দুর্দিনে তাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং থাকবো। আওয়ামী লীগই আমার ধ্যান-জ্ঞান। আর এলাকার নেতাকর্মীরাও আমাকে ভালোবাসে। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা রয়েছে আমার প্রতি। তিনি বলেন, নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে আশা করি আশাহত হবেন না তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here