শনিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৭
ব্রেকিং নিউজ

পারভেজ মুশাররফ হৃদরোগে আক্রান্ত

pervej_musharraf

তৃতীয় বারের চেষ্টাও বিফলে গেল৷ বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে অভিযুক্ত পারভেজ মুশারফ পৌঁছতেই পারলেন না আদালত চত্বরে৷ বৃহস্পতিবার আদালত যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হন ৭০ বছরের প্রাক্তন পাক সেনাপ্রধান৷ সঙ্গে সঙ্গেই রাওলপিন্ডির সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে৷ সেখানে সিসিইউতে রয়েছেন প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রপতি৷ চিকিত্‍সকরা জানান, মুশাররফের জ্ঞান রয়েছে৷ বিভিন্ন পরীক্ষাও করা হয়েছে৷ সূত্রের খবর, চিকিত্‍সার জন্য মুশাররফকে বিদেশেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে৷

প্রাক্তন সেনাপ্রধান মুশাররফ ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে সংবিধান অমান্য করা এবং শীর্ষ আদালতের বিচারপতিদের আটক করে রাখার অভিযোগ রয়েছে৷ দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে তাঁর৷ মামলার শুনানি চলছে বিশেষ আদালতে৷ প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বিচার করার এক্তিয়ার বিশেষ আদালতের নেই, এই দাবি জানিয়ে শুনানি বাতিলের আর্জি জানিয়েছিলেন মুশাররফের আইনজীবীরা, কিন্তু তা বাতিল করা হয়৷ এর পর দু’বার মুশাররফকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথা হলেও দু’বারই আদালত যাওয়ার পথে মেলে বিস্ফোরক৷ নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে আদালতে হাজিরা থেকে বাঁচেন মুশাররফ৷

বৃহস্পতিবারও ক্ষেত্র প্রস্ত্ততই ছিল৷ মুশাররফ আদালত চত্বরে পৌঁছানোর আগেই তাঁর আইনজীবীরা ওয়াকআউট করেন৷ তাঁদের অভিযোগ ছিল, বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁদের৷ মুশাররফের এক আইনজীবী আনওয়ার মনসুর খানের কথায়, “আমাকে বার বার হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ গত কাল রাত ১টা থেকে আজ ভোর ৫টা পর্যন্ত কেউ ক্রমাগত আমার বাড়ির দরজায় ধাক্কা মেরেছে, বেল বাজিয়েছে৷” কিন্ত্ত হুমকি দিচ্ছে কে? এই প্রশ্নের উত্তরে মনসুর খানের স্পষ্ট বক্তব্য, “সরকার ছাড়া আবার কে?” মনসুরের এই বক্তব্যের পর অন্যান্য আইনজীবীরাও অভিযোগ করেন, তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ এর পরই আদালত থেকে ওয়াকআউট করেন তাঁরা৷ আইনজীবীদের এই পদক্ষেপের পর আদৌ মুশাররফের শুনানি হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল৷ তার মধ্যেই অসুস্থ হন মুশাররফ৷

মুশাররফের দল ‘অল পাকিস্তান মুসলিম লীগ’-এর মুখপাত্র আসিয়া ইশক জানান, বুধবার রাত থেকেই মুশাররফের শরীর ভালো ছিল না৷ চিকিত্‍সকরা তাঁকে বিশ্রামের পরামর্শও দেন৷ মুশাররফের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে এই মামলার শুনানি পাঁচ সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা, কিন্ত্ত তা মানা হয়নি৷ তবে মুশাররফের অসুস্থতার কারণে এ দিনের শুনানি সোমবার পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে৷

প্রসঙ্গত, মুশাররফের বিরুদ্ধে এই অভিযোগকে সরকারি ষড়যন্ত্র বলে একাধিকবার অভিযোগ করেছেন তাঁর আইনজীবীরা৷ তাঁদের বক্তব্য ছিল, যেহেতু ১৯৯৯ সালে নওয়াজ শরিফ সরকারকে সরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি, তাই প্রতিশোধ নিতেই মুশাররফের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে৷ মুশাররফই প্রথম সেনাপ্রধান, যাঁকে এ ধরনের শুনানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে৷ ফলে, মুশাররফের মামলা  সরকার ও সেনার লড়াইয়ে পর্যবসিত হয়েছে৷ তবে, শুধুমাত্র বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগই নয়, ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মুশাররফের বিরুদ্ধে৷ মুশাররফের অসুস্থতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলাবল ভুট্টো জারদারির বক্তব্য, “অসুস্থতার এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি করা হোক৷ আমার সন্দেহ, শুনানি এড়াতেই এই অজুহাত দিচ্ছেন মুশাররফ৷” এই মন্তব্যের জেরে অবশ্য মুশাররফের দলের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বিলাবলকে৷

Print Friendly