পায়রা সমুদ্রবন্দরের ব্যয় বাড়ল তিন গুণ

0
129

Image result for পায়রা সমুদ্র বন্দরস্টাফ রিপোর্টার, সময় সংবাদ বিডি –ঢাকা:পায়রা সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে সংশোধনীয় প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে পায়রা সমুদ্রবন্দরের ব্যয় বেড়েছে তিন গুণ ।

এর ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এটি প্রথম সংশোধিত প্রকল্প। ২০১৫ সালে অনুমোদনের সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসির সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় পায়রা বন্দরসহ ১৬টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। যার মোট টাকার পরিমাণ নয় হাজার ৬৮০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি নয় হাজার ৫৯১ কোটি তিন লাখ  টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৮৯ কোটি দুই লাখ টাকা।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের প্রকল্পগুলো সম্পর্কে ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু যেমন আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প তেমনি পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প। এটা আমাদের মূল প্রকল্প। এ প্রকল্পে ৬০৫৯ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পুনর্বাসনের জন্য ৪৯৩.০৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের অংশ হিসেবে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় তিন হাজার ৩৫০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। যা পুরোটাই সরকারের নিজস্ব টাকা (জিওবি)। পায়রা সমুদ্রবন্দর পূর্ণ উদ্যেমে চালুকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্যের অবাধ পরিবহনের লক্ষ্যে একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি ওয়্যার হাউজ নির্মাণসহ পাইলট বোট, টাগ বোট, বয়া লেইয়িং ভেসেল, সার্ভে বোট এবং নিরাপত্তা যন্ত্রসামগ্রী সংগ্রহ এবং বন্দর টার্মিনাল থেকে বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পায়রা বন্দর পরিপূর্ণভাবে কাজ হয়ে গেলে বাকি থাকবে সমুদ্র ড্রেজিং করা। এটা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানের নেই। এর জন্য বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করবো।

প্রকল্পের পটভূমিতে জানা যায়, ২৯ অক্টোবর ২০১৫ সালের একনেক সভায় এক হাজার ১২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পায়রা বন্দর প্রথম অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ১৬ একর জায়গার ওপর সীমিত ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন-পল্টুন, ক্রেন, নিরাপত্তা ভবন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা উন্নয়নের মাধ্যমে একটি বন্দর টার্মিনাল তৈরি করা হলেও এখনও নিয়মিতভাবে পণ্য ওঠা-নামা ও খালাস করা হচ্ছে না। তবে পূর্ণাঙ্গ পায়রা বন্দর ব্যবস্থা গড়ে না উঠা পর্যন্ত বহি:নোঙ্গরে বাণিজ্যিক জাহাজ আনয়নের মাধ্যমে ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত পায়রা বন্দর দেশের তৃতীয় ও দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম সামুদ্রিক বন্দর। অবস্থানগত কারণে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here