প্রতারণা!

0
212


এক পহেলা বৈশাখের বিকেল বেলা। অজানা অচেনা নাম্বার থেকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তা। সেদিন ফোনে একটু আধটু কথা বলা। এরপর ক্রমান্বয়ে সেই কথার ধার বাড়তে থাকে। এক সময় তাকে ভালবাসার কথাটি বলে ফেলি। সেদিন স্বচ্ছ গ্লাসের মতো সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিলো। সে আমায় বলেছিলো সে আমাকে নয় অন্যজনকে ভালবাসে। কিন্তু তার আপন মামাতো ভাই এবং ফুফাতো বোন আমার সাথে বেঈমানি করে। সে বলেছিলো ছলনার কিছুই সে জানে না। তার পক্ষে আমায় আপন করা সম্ভব নয়। কিন্তু সে সবকিছু জানতো। হয়তো ভালবাসার ডানাটি তখন অন্যজনের কাছে ধরা দিয়েছে। নয়তো সে নিজেই আমায় চাই না।

আমি ভুলতে পারি না। মেয়েটিও আমায় আস্তে আস্তে ভালোবেসে ফেলে। আপন করে কাছে টেনে নেয়। কিন্তু কখনো বলেনি আমায় আপন করতে পারবে না। প্রতিদিন তাকে কলেজে পৌঁছে দেওয়া, তার বন্ধুদের নিয়ে খাওয়া, তাকে সময় দেওয়া। চাওয়া পাওয়ার সকল ইচ্ছা পূরণ করা।একজন সাংবাদিক হিসেবে যতোটুকু পেরেছি ততোটুকু পূরণ করেছি। এগুলো নিত্যদিনের সঙ্গী ছিলো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে তার ভালবাসার ধরণ।

আমিও শেষটা দেখতে চেয়েছিলাম। একদিন কাকডাকা ভোরে তাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে যাচ্ছিলাম। মাঝ পথে অজানা একটি ফোন। সে ফোনটি রিসিভ করে। আমি বুঝতে পারি আমার জন্য মেয়েটির কোনও ভালবাসা নেই। সে ঐ ছেলেটির জন্য পাগল। সেদিন আমি রাগান্বিত হয়েছিলাম। ছেলেটিকে ধমক দিয়েছিলাম। আর মেয়েটি রাস্তায় আমার সঙ্গে অচেনা মানুষের মতো দুর্ব্যবহার করে। গালি-গালাজ এবং হাতাহাতিও হয়। সেদিন থেকে মেয়েটিকে ভুলে গিয়েছিলাম। ঠিক সেদিন বিকেলেই আমি ছেলেটির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম। এরপর ছেলেটিকে আর ফোন দেয়নি।

কিন্তু সমস্যা বাড়াতে থাকে মেয়েটি। তার নামে অপ্রত্যাশিত কে বা কারা ফেসবুকে আইডি খুলতে থাকে। সেই দোষ পুরোটাই আমার ওপর চাপায়। আমি কিছুই বলিনি। শুধু বুঝিয়েছি এবং বলেছি প্রমাণ দিতে। কিন্তু কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। কারণ তার কিছুই জানি না আমি। মেয়েটি আমাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়। আমাকে বিভিন্নভাবে অপদস্ত করার চেষ্টা করে।আমি তাতেও কিছু বলিনি। কারণ আমি জানি কে আমি? গত দেড় মাস হলো মেয়েটির সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আমি কোনো যোগাযোগ করার চেষ্টাও করিনি। কিন্তু মেয়েটিকে প্রতিদিন দেখি আর ভাবি মানুষ কতোটা স্বার্থপর আর বেঈমান হতে পারে। হয়তো আমি তার ব্যবহারে ব্যবহৃত হয়েছি মাত্র। আমার মতো হয়তো প্রতিটি ছেলেই কোনো মেয়ের দ্বারা এমন ব্যবহার হচ্ছে।

অতপর মেয়েটি সম্পর্কে কিছু বলা উচিত আমার। এই সেই মেয়ে, যে মেয়েটি দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হওয়ায় সুযোগ পায়নি, তখন আমার কাছে পুরো পরিবার এসে হাতে পায়ে ধরে সাহাষ্য চেয়েছিলো। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি বেসরকারি কলেজে তাকে অনার্সে পড়ার সুযোগ করে দেই। তার জন্য আমি সেই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করি। এমনকি সেই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের কাছে ছোট হতেও দ্বিধাবোধ করিনি। কিন্তু আমি ভেবেছি আমার জন্য যদি কারও উপকার হয় আমি তাতেই খুশি। আমি সেটিই করেছি। আমি বেঈমানি করিনি।
কিন্তু মেয়েটির ভাই,বোন এবং সে আমার সাথে ৭টি বছর দিনের পর দিন প্রতারণা করেছে। আমাকে তাদের সুবিধায় ব্যবহার করেছে। আমিও নির্বোধের মতো ব্যবহারে পরিণত হয়েছি। সবকিছু বুঝেও না বোঝার ভান করেছি। কারণ আমি তাকে ভালবেসেছিলাম, এখন বাসি কিনা জানি না। সেই উত্তরও আমার কাছে নেই। আমি জানি আমি কে? কিংবা কি আমার পরিচয়।

এবার আসি একটু অন্য প্রসঙ্গে, মেয়েটি লোভী। কেন বলছি জানেন? আমি বুঝেও নিজেকে না বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমি এমন কিছু কাজ করেছি যা ক্ষমার অযোগ্য। কেননা মেয়েটি যা বলতো আমি নির্দিধায় সেটাই করেছি। ভাল মন্দ কখনো বিচার করেনি। জানি না এখন কেমন আছে মেয়েটি। হয়তো ভাল কিংবা আরও ভাল। এখন দেখি প্রতিনিয়ত সিটিং সার্ভিসে যাতায়াত করে। চেহারাটা হয়েছে মলিন আর পাবলিক সার্ভিসে হয়েছে অভ্যস্ত।

অতপর শেষে এতটুকুই বলতে চাই। ভালবাসা বলে এখন কোনো শব্দ নেই। সবই অভিনয় এবং চিটিংবাজি। পৃথিবীর সকল ভালবাসা মিথ্যা। শুধুমাত্র মায়ের নিঃস্বার্থ ভালবাসা ছাড়া। আমি এখন ভালবাসি আমার মাকে। ভুলে গেছি অতীতের ভালবাসাকে। বর্তমানকে সঙ্গী করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে শিখেছি। তাই পরিশেষে এটাই বলতে চাই, ভালবাসার চেয়ে বিয়ে করা উত্তম। প্রেম করবেন? বিয়ে করে প্রিয়তমা স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম করুন। তাকে বুঝুন আর সময় দিন। অযথা মেয়েদের পেছনে সময় দিয়ে কি লাভ? বরণ নিজেকে প্রস্তুত করুন। কোনো মেয়ের জন্য নয়, নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। আপনি নয় বরণ মেয়ে আপনার পেছনে ছুটবে। যা এখন আমি করছি। আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। তাই আমি চাই না আমার মতো আর কোনো ভাই প্রতারণার শিকার হোক।
লেখক: শেখ জাহিদুজ্জামান,সাংবাদিক।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here