প্রতিবছর ১৭ মিলিয়ন লোক মারা যায় হৃদপিণ্ড ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে

0
254

সময় সংবাদ বিডি-
ঢাকাঃহৃদরোগের অনেক কারন আছে, বর্তমানে হৃদপিণ্ড ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে মানুষের মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হয়। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০০০ সালের শুরু থেকে প্রতিবছর ১৭ মিলিয়ন লোক মারা যায় হৃদপিণ্ড ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে। হৃদপিণ্ডে রক্তনালির ব্লক ও মস্তিষ্কের স্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যুর হার ক্যান্সার, এইডস ও ম্যালেরিয়া থেকেও বেশি।

প্রাথমিক জ্ঞানের জন্য, এখানে প্রধান কারনগুলো : উল্লেখ করা হলো >তেলযুক্ত খাদ্য গ্রহন√মানসিক চাপের মধ্যে থাকা√ রক্তে এল ডি এল খারাপ√কোলেস্ট্রলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া√ এবং এইচ ডি এল (ভাল) কোলেস্ট্রলের মাত্রা কমে যাওয়া।

খাদ্যে এন্টি অক্সিডেন্টের অভাব√ উচ্চরক্তচাপ,√ডায়াবেটিস এবং মদ খাওয়া√
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও ওজন বৃদ্দি√
তামাক √বিড়ি,সিগারেট,√গুল,জর্দা,খাওয়া√
এগুলোর মধ্যে মনসিক চাপ এমন একটি ক্ষতিকর প্রক্রিয়া যা একাই হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমানে হৃদরোগ ও রক্তনালি জনিত রোগের কারণে ৩১ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয় এবং অল্প বয়সে মৃত্যুর ৮০ শতাংশের জন্যও হৃদরোগকে দায়ী করা হয়।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়-মানসিক চাপের ফলে,অনেক সময়ইঃরক্তের চাপ বেড়ে যায়, হৃদপিন্ডের স্পন্দন বেরে যায়।রক্তের তেল(ফ্যাট) জমা হওয়ার কাজ দ্রুততর হয়। রক্তে সুগারের মাত্রা ও বেড়ে যায়। এছাড়া কিছু অনিয়ন্ত্রন যোগ্য কারন রয়েছে এগুলো হল-বয়স লিঙ্গ বংশগত।

হৃদপিণ্ড মানুষের শরীরের এমন এক অঙ্গ যেটা আমাদের সত্যিকার অর্থে বাঁচিয়ে রাখে, কেননা মানুষের মস্তিষ্কের মৃত্যু হলেও আমরা তাকে জীবিত বলতে পারি যতক্ষণ পর্যন্ত হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা সচল থাকে।

তাই বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য √বিশ্বে হার্ট দিবস পালন করা হয়। ১৯৯৯ সালে ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন যৌথভাবে বিশ্ব হার্ট দিবস পালনে সম্মত হয়। এই হার্ট দিবস সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দেন ১৯৯৭-৯৯ সেশনে ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকা অ্যান্থনি বেইস ডি লুনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো এনজাইনা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। এনজাইনা হচ্ছে, রোগীর সাধারণত বুকে ব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা, বুক ভার ভার হওয়া, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়া ইত্যাদি। কারো করোনারি আর্টারি বা হার্টের রক্তনালির ৭০ শতাংশ ব্লক হয়ে গেলে তখনই এনজাইনা হয়ে থাকে।

কখনো কখনো এনজাইনা থেকে হার্ট অ্যাটাক হয়। আবার করোনারি ধমনি যখন ১০০ শতাংশ ব্লক হয়, তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ফলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক একটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, যেখানে জীবন ও মৃত্যু খুব কাছাকাছি চলে আসে। এটি সাধারণত বয়স্কদের রোগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের এটি হয়ে থাকে।

এছাড়া এ অঞ্চলে দুর্বল হার্ট বা কার্ডিওমায়োপ্যাথি একটি পরিচিত হৃদরোগ যেখানে হার্টের কার্যক্ষমতা কমে যায়। বাতজ্বর জনিত হৃদরোগ বাংলাদেশের আরেকটি বড় সমস্যা। সাধারণত ছোট বেলায় বাতজ্বর থেকে পরবর্তীতে বাতজ্বর জনিত হৃদরোগ হয়ে থাকে।

বাতজ্বর জনিত রোগে সাধারণত হার্টের ভাল্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে কিছু রোগ চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করা সম্ভব। আর কিছু রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। যদি সময়মতো চিকিৎসা করা না হয় তাহলে পরবর্তীতে শৈল চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হতে পারে আপনি।

বাংলাদেশে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের এটি হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে আমাদের দেশের লোকের ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। এখন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, এমনকি ২৫-৩০ বছর বয়সীরাও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছে। এ বছর বিশ্ব হার্ট দিবস পালনের উদ্দেশ্যে আমাদের হার্টের যত্ম নেওয়ার জন্য কয়েকটা বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। সেগুলো হল আপনার হার্টকে জানুন, হার্টকে শক্তিশালী করুন ও হার্টকে ভালোবাসুন। যখন আপনার হার্টের অসুখ থাকবে, তখন সবকিছুতে নিজেকে ক্লান্ত মনে হবে। আপনি ক্রমাগত বৃদ্ধ হতে থাকবেন। আপনি হয়ে যাবেন অনুভূতিহীন। তাই নিকোলাই লেনিনের ভাষায় বলতে হয়, শত অসুস্থতার মধ্যেও যাতে আমরা হৃদয় হারা না হই।

২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য হলো- অসংক্রামক ব্যাধি জনিত মৃত্যুর হার হ্রাস করা এবং অল্প বয়সে হৃদরোগ জনিত কারণে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা। তাই বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে হৃদরোগ সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করে তোলা।

যেমন- স্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণের পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের জাঙ্ক ফুড খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। হৃদরোগ প্রতিরোধে কায়িক পরিশ্রম করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান না করা ও খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই প্রতিপাদ্য ‘আমার হার্ট, তোমার হার্ট’। এই স্লোগান নিয়ে প্রতি বছরের মতো এ বছরও পালিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস।

(জসিম ভুঁইয়া)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here