প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দুর্গাপুরে ১২৬ টি গৃহহীন পরিবার পেলো ঘর

0
97

এস এম শাহাজামাল, (রাজশাহী) দুর্গাপুর

এখন আর পাটকাঠির বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে হাড়ে কাপন ধরায়ে দেবে না। সামনের বর্ষায় আর পলিথিনে চাল বয়ে পানি পড়বে না। অনেক কষ্ট করিছি, আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা আমার দিকে মুখ তুলে চাইছেন। একটা সুন্দর টিনের ঘর তুলে দিছেন। তার জন্য আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে দোয়া করি।’ বলছিলেন রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেরার ৫নং ঝালুকা ইউনিয়নের ঘরহীন দরিদ্র আনোয়ারা বিবি।

উপহার হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় যার  জমি আছে ঘর নেই এমন ১২৬টি হতদরিদ্র পরিবারকে তৈরী করে দেয়া ঘর নির্মান কাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন সরকার পরির্দশন সময়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা এসব কথা বলছিলেন। একই ধরণের অনুভূতি প্রকাশ করেন ওই এলাকার ঘরহীন হতদরিদ্র মুরশিদা বেগম এবং সাজেদা রহমান।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ১ থেকে ১০ শতাংশের নিচে যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন ঘরহীন হতদরিদ্র একটি তালিকা প্রনোয়ণ করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরে চুড়ান্ত তালিকা ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যলয়ে পাঠান। সেখানে ১২৬ ঘরহীন পরিবারের নাম পাওয়া যায়। চুড়ান্ত তালিকার পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঘরহীন পরিবারের ঘর নির্মান কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে এ উপজেলা ঘর নির্মান কাজ শেষ পর্যায়। এখন শুধুই অপেক্ষা তাদের হাতে তুলে দিতে বাকি ঘরের চাবি। তবে থেমে নেই এ আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ। দিন-রাত পরিশ্রম করে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা লিটন সরকার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বেলাল হোসাইন প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কাজ করে চলেছেন। কোন কাজের ত্রুটি যেন উঠে না আসে। সে লক্ষে উপজেলা নিবার্হী কর্মকতা লিটন সরকার নিজেই তদারকিতে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের এ নীড় যেন প্রকৃত বাস্তবান হয়। ঘরহীন মানুষের অন্তরে চিরকাল যেন গেথে রাখে  প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নাম। প্রধানমন্ত্রীর এ স্বপ্ন পূরনেই কাজ করে চলেছেন  উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ও প্রকল্প বাস্তবায় কর্মকর্তা।

এ উপজেলার অসহায় ঘরহীন ১২৬ পরিবার এই প্রকল্পের অধীনে  ১ নং নওপাড়া ইউনিয়নে ১৮টি, ২ নং কিশমতগণকৈড় ইউনিয়নে ১৮টি, ৩ নং পানানগর ইউনিয়নে ১৮টি, ৪ নং দেলুওয়াবাড়ী ইউনিয়নে ১৮টি, ৫নং ঝালুকা ইউনিয়নে১৮টি, ৬নং মাড়িয়া ইউনিয়নে ১৮টি, ৭ নং জয়নগর ইউনিয়নে ১৮টি। উপজেলায় ১২৬টি অসহায় হতদরিদ্র পরিবারকে সেমিপাকা  এক রুম বিশিষ্ট বসতঘর তৈরি করে দেয়া হয়।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এক কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ১২৬টি পরিবারকে বসতঘর নির্মাণ করে দেয়। সেমিপাকা ঘরসহ প্রতিটি বসতবাড়িতে একটি স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। এতে প্রতিটি পরিবারের বসতঘর,ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানায় ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের অধীনে উপজেলার বেশির ভাগ বসতবাড়ি তৈরি কাজ সম্পূন হয়েছে। তবে উপজেলার ১২৬টি ঘরের কাজ শেষ হলেই প্রাপ্যদের বুঝিয়ে দেয়া হবে। এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবয়ন কর্মকর্তা বেলাল হোসাইন বলেন, আমরা প্রকৃত হতদরিদ্রদের তালিকা বাস্তবায়ন করে সরেজমিনে প্রতিটি সুবিধাভোগিদের একটি করে ঘর ও টয়লেট নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

উপজেলার ঝালুকা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী বলেন, আমার ইউনিয়নে যারা ঘর পেয়েছে তারা প্রকৃত হতদরিদ্র। তারা ঘর পেয়ে অনেক আনন্দিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন সুবিধাভোগীরা। ওই ইউনিয়নের আমগাছি গ্রামের সুবিধাভোগী আনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা কখনো কল্পনাও করিনি বিনা টাকায় ঘর পাব। আমরা সারাজীবন আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে চির কৃজ্ঞ থাকবো।

এদিকে পানানগর ইউনিয়নের বেলঘরিয়া গ্রামের মৃত কুড়ান প্রামানিকের স্ত্রী সুবিধাভোগী ছায়েদা বেগম জানান, আমি কবেও আশা করিনি বাপু যে, আমার এত বড় ঘর হবি, আমি দুই হাত তুইলা আল্লার কাছে দোয়া করি শেখের বেটি আবারো যেন প্রধানমন্ত্রী হক।

জয়নগর ইউনিয়ন এলাকার নারকেলবাড়িয়া গ্রামের সুবিধাভোগী দিনমুজুর খুশবর আলী,ইসাহাক আলী ও মুনতাজ জানান, আগের সরকারগুলো গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের কোন চিন্তাই করেননি। সেখানে বর্তমান সরকার যে দারিদ্রাসীমার নিচে বাসকরা পরিবারগুলোর দুঃখ মোচন এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিবে আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। সেজন্য তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল দেশের একজনও গৃহহীন থাকবে না, সেই লক্ষ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন বলেই উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে আজ বাংলাদেশ। তিনি না থাকলে আজ এই বাংলায় গৃহহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হত না। পেতনা দুর্গাপুরে ১২৬টি পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই। তাই এই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে আগামিতে জননেত্রী শেখ হাসিনা কোনই বিকল্প নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি স্বচ্ছতার সঙ্গে সঠিক ব্যক্তিদের (গৃহহীনদের) বাসস্থান নির্মাণ করে দেওয়ার। সেই আলোকে আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় গৃহহীনদের বসতঘর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি ভাল মানের ইট, সিমেন্ট, ঢেউটিন ও কাঠসহ সকল প্রকার নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভাল মানের ঘর তৈরি করতে। ঘর নির্মাণ কালে প্রতিটি সুবিধা ভোগিদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সার্বিক তদারবি করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here