ফাল্গুনী,তুমি কি আমাকে ভালোবাসো!

0
65

সময় সংবাদ  বিডি

কবিতাঃ– ফাল্গুনী….

ফাল্গুনী,তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?
ফাল্গুনী: হ্যাঁ,তোমাকে ভালোবাসি,
তবে হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন?
কবি: না,এমনিতেই বললাম ।
ফাল্গুনী তুমি কি আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে-
অন্য কারো কামিনি হয়ে?
ফাল্গুনী: ইসসস… বললেই হলো,
তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়েই করব না।
কবি: আচ্ছা; ফাল্গুনী, আমি যদি মরে যাই তুমি কি করবে?
ফাল্গুনী: আল্লাহর কাছ থেকে আমিও মরণ চেয়ে নিব।
কবি: আমার জন্য তুমি মরবে কেন?
ফাল্গুনী: তাহলে বাঁচব’ই বা কার জন্য।
কবি: আমার জন্য বাঁচবে,
আমি মরে গেলেও তোমার মাঝে আমার অস্তিত্ব রেখে যাব।
আচ্ছা, বলতো ফাল্গুনী –
আমাকে যে এত ভালোবাসো,
কি আছে আমার মাঝে?
তোমাকে দেওয়ার মতো তো আমার কাছে কিছু নেই,
আমি তোমাকে কি দিব,আমি তো রিক্তহস্ত!
কোন কারণে তুমি আমাকে এত বেশি ভালোবাসো?
ফাল্গুনী: আরে না…! আমাকে কিছু দেওয়া লাগবেনা,
শুধু একটা জিনিস তোমার কাছ থেকে চেয়ে নিব-
আর তা শুধু আমাকেই দিতে হবে,
অন্য কারো প্রতিচ্ছবি ও সেখানে রাখতে পারবেনা,
সেখানে শুধু আমিই থাকব।
তোমার সে জিনিসটা কি আমাকে দিবে ?
কবি: আমি জানি ফাল্গুনী,তুমি কি চাইবে-
তুমি শুধু আমার মনের ভিতরে থাকতে চাও,
তাই তো,নাকি অন্য কিছু?
ফাল্গুনী: না, না, না, আমি অন্য কিছু চাইনা,
আমি শুধু তোমার মনের মালি হতে চাই।
কবি: তোমার সাথে পরিচিত হওয়ার পরেই তো
আমার মনটা তোমাকে দিয়েছি ফাল্গুনী,
তুমিই তো আমার মনের মালি,
তুমিই তো সর্বক্ষণ আমার চিন্তা চেতনায় বিরাজ কর।
তুমি কি আমাকে সন্দেহ কর? ফাল্গুনী,
আমি কি অন্য কাওকে ভালোবাসি?
বিশ্বাস না হলে বুকটা ছিঁড়ে দেখতে পার,
সেখানে শুধু একটাই নাম লেখা-
ফাল্গুনী,ফাল্গুনী,ফাল্গুনী।
ফাল্গুনী: আরে না,অবিশ্বাস করব কেন,
আমি তো শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
আর বিশ্বাস করি বলেই তো এত বেশি ভালোবাসি।
কবি: চলো না, একটু সময় অজানাতে ঘুরে আসি।
ফাল্গুনী: কোন অজানায় যাবে কবি?
সেখানে কি শিয়ালে ডাকে।
শিয়ালের ডাক আমি যে বড্ড ভয় পাই।
কবি: তাহলে তুমি বলো কোথায় যাব।
ফাল্গুনী: আমার তো নীল পরীর মতো
উড়তে খুব ইচ্ছে করে,
তুমি কি আমাকে নিয়ে উড়তে পারবে?
কবি: যদিও নীল পরীর মতো করে উড়তে পারবো না,
তবে ডানাকাটা পরীর মতো উড়ব।
ফাল্গুনী: সত্যি,তাহলে তো খুব ভালো,
তবে ডানা ছাড়া উড়বে কেমন করে?
কবি: আজ না হয় মেঘ হয়ে উড়ে যাব দু’জন,
ডানা ছাড়া ইচ্ছে মতো উড়ব নীল আকাশের বুকে,
অবশেষে পৃথিবীটাকে ভিজিয়ে দিব- অমৃতবৃষ্টিতে,
ফাল্গুনী: তাহলে চলো… মেঘ হয়ে যাই।
ইচ্ছে স্বাধীন ঘুরে বেড়াই নীল আকাশে,
অমর প্রেমের বন্ধনে জড়িয়ে দু’জন দু’জনের পাশে।
কবি: বেশ তো ওঠো- মেঘের ভেলায়,
হারিয়ে যাব দু’জন তারার মেলায়।
চাঁদের দেশে থাকব চাঁদনি হয়ে
তোমাকে চিরকাল সাথে নিয়ে।
ফাল্গুনী: তুমি কোন রং পছন্দ কর?
কবি: সবুজ শ্যামল পল্লীগ্রামে দিগন্তের শেষে
যেখানে আকশ এসে মিশে,
রক্তিম গোধূলিতে বা বৃষ্টিস্নাত রংধনুতে
যার রয়েছে অদ্ভুত মিল,
সেই রং আমি পছন্দ করি,তার নাম নীল।
ফাল্গুনী: আমিও নীল রং ভালোবাসি,
নীলের বুকেই আমার হাসি,
আমি নীল রং ভালোবাসি।
কবি: তুমি আমার এত কাছে- তবুও ধরতে পারিনা কেন?
ফাল্গুনী: আমরা তো এখন মেঘ,
মেঘে মেঘে স্পর্শ হলে বজ্রপাত হবে তো,
আগে স্পর্শ করার অনুমতি নাও
তারপর অমৃতবৃষ্টি হয়ে ঝরে
আকাশের রংধনু হয়ে উঠব,
অথবা চাঁদের বুকে চাঁদনি হবো।
কবি: ওহ্ তাই তো,
তোমার স্পর্শ যে ঊষ্ণ, বজ্রপাত হবেই তো,
ফাল্গুনী: ইসসস…! কি যে বলো,
কবি: তোমাকে তো আমার সবকিছু দিয়েছি ফাল্গুনী,
তোমার ঊষ্ণ ছোঁয়া পেলে হবেই তো বজ্রধ্বনি।
তাই বলে কি – তোমার ঊষ্ণ ছোঁয়া আমাকে দিবে না ?
এ কেমন বিচার,ফাল্গুনী।
ফাল্গুনী: দিব না, তা তো বলিনি,
আগে বন্ধনের অনুমোদন পত্র দাও-
তারপর যতটা ইচ্ছে ততটা ভালোবাসার স্পর্শ নাও।
কবি: তাই নাকি? তাহলে চলো কাজীর বাজার,
কাবিন করে, কবুল বলে,
বৈধ করে আসি সম্পর্কটা তোমার আমার।
ফাল্গুনী: ইসসস…তুমিও না,
লুকিয়ে বিয়ে করলে সমাজ কি বলবে বলো?
কবি: তাহলে চলো,বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে বলে,
তোমাকে বধূ সাজিয়ে ঘরে নিব তুলে।
ফাল্গুনী: ইসসস… দুষ্টু এভাবে বলো কেন?
আমার তো লজ্জা করে,তুমি তো জান!
তুমি কি লজ্জা পাওনা কখনো?
কবি: এত লজ্জা পেলে হবে কি করে,
তোমাকে তুলব কেমন করে-আমার ঘরে।
ফাল্গুনী: যাও,যাও,তারাতারি যাও বাড়ি,
বর সেজে আসিও তারাতারি,
সাথে নিয়ে এসো বেনারসি শাড়ি,
বধূ সেজে যাব-তোমার বাড়ি।

লেখক -এম.এ.কাওছার মুরাদ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here