বৃহস্পতিবার , ১৯ অক্টোবর ২০১৭
ব্রেকিং নিউজ

ফেসবুকে নাইজেরীয়দের প্রতারণার নতুন ফাঁদ

Image may contain: one or more people, people standing and outdoorস্টাফ রিপোর্টার,সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা:বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশে বসবাসকারী নাইজেরীয় একটি চক্র। এ জন্য তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করছে।

বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথক অভিযানে চার নাইজেরীয়সহ প্রতারক চক্রের সাত ও মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি উত্তর)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জন আগডি ইউজিও, লিজা আক্তার ওরফে অ্যাসতা, আফেজ, মোহাম্মদ মোহসিন শেখ, মোছা. তাছমিয়া পারভীন ওরফে শিমু, মাইকেল ইউজিনি ব্রাউন, নামডি কেলভিন। মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্য হলেন জামাল হোসেন ও মজিবুর রহমান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা প্রতারণার মাধ্যমে লোকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

এ বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে কামরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে প্রিসকা খালিফা নামের এক বিদেশি ফেসবুকে বন্ধু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনুরোধ জানায়। সেখান থেকে তাদের বন্ধুত্ব হয় ও চ্যাট বক্সে আলাপ হয়। এক সময় প্রিসকা খালিফা কামরুজ্জামানকে বলেন, ‘তার বাবা ডা. ডেবিট উইলসন খালিফা মারা গেছেন এবং উনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। কিন্তু এগুলো তিনি তুলতে পারছেন না। তুলতে গেলে একজন বিশ্বস্ত লোক ও কিছু টাকা লাগবে। টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতে রাজি হয়ে যান কামরুজ্জামান। এরপর প্রিসকা খালিফা টাকা পাঠানোর জন্য লিজা আক্তার ও মোহসিনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দেন। সেখানে কামরুজ্জামান প্রায় ২৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা দেন। এরপর এক পর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন।

আব্দুল বাতেন বলেন, ‘গ্রেপ্তার মাইকেল ও নামডি জানিয়েছেন তারা গার্মেন্টস ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। এর আড়ালে বাংলাদেশি ও বিদেশিদের যোগসাজশে এ দেশের নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে প্রথমে তারা বিদেশি নারী ও পুরুষের নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। যারা বন্ধুত্ব করে তাদের সঙ্গে মেসেজ আদান প্রদান করেন। একসময় নিজের বিপদ বলে আর্থিক সাহায্য নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ জন্য বিপদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে বাংলাদেশি নাগরিককে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখায় তারা।

তিনি জানান, শুধু কামরুজ্জামান নয়, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে শাহনূর হোসেন নামের এক ব্যক্তি তাদেরকে ৪০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। এ ছাড়া এ ধরনের ঘটনায় আরো অনেক ভুক্তভোগী ডিবি কার্যালয়ে প্রতিনিয়ত আসছেন।

বিদেশিদের প্রতারণার ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন কামরুজ্জামান।

মানব পাচারকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের বিদেশে উন্নত জীবন গড়ার প্রলোভন দেখায়। কথার ফাঁদে যারা পড়ে তারা শেষ সম্বল বিক্রি করে তাদের টাকা দেয়। ফাঁদে পা দেওয়া ব্যক্তিদের প্রথমে তারা ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠায়। সেখানে পাচারকারীদের নিজস্ব লোক তাদের অভ্যর্থণা জানিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে যায় ও তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছে আরো টাকা চায়।

প্রতারণা থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকে আরো সচেতন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আব্দুল বাতেন।

Print Friendly