বৃহস্পতিবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
ব্রেকিং নিউজ

বঙ্গবন্ধুর খুনিরা কে কোথায়

 স্টাফ রিপোর্টার,সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর ১৯৭৬ সালে সংশ্লিষ্ট খুনিদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। এরপর তাঁরা বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি নিয়ে দেশের বাইরে চলে যান। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁরা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তাঁদের দূতাবাসের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়। তবে খুনিরা দেশে ফিরে না এসে পালিয়ে যান। ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বরে পলাতক খুনিদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ইন্টারপোলের নিয়মানুযায়ী, কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ১০ বছর অতিক্রান্ত হলে তা নবায়নের বিধান থাকায় সরকার ২০১০ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা নবায়ন করে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করা যাবে না’ মর্মে তৎকালীন সরকারের ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বাতিল করে এই খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা পাঁচ আসামির ফাঁসির দন্ডাদেশ কার্যকরে আপিল বিভাগের ‘ক্লিয়ারেন্স’ নিশ্চিত হয়ে গেলে আসামিদের শেষ আইনি আশ্রয় লাভের পথ রুদ্ধ হয়।

দন্ডাদেশ কার্যকর হওয়া আসামিরা হলেন- সাবেক লে. কর্নেল ফারুক রহমান, মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), শাহরিয়ার রশিদ খান, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) এবং সাবেক মেজর বজলুল হুদা। বজলুল হুদাকে থাইল্যান্ডের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকক থেকে এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাবেক লে. কর্নেল এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে (ল্যান্সার) দেশে ফেরত আনা হয়।

বঙ্গবন্ধুর পাঁচ আত্মস্বীকৃত খুনিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করা হলেও এখনো বিদেশের মাটিতে পলাতক রয়েছেন আরও ছয় খুনি। মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে এই ছয় খুনি প্রায় এক যুগ ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।

এরা হলেন লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান। পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়ে মারা গেছেন আরেক আসামি আজিজ পাশা।

Print Friendly