বরিশালে লঞ্চডুবিতে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

0
291

বরিশালে লঞ্চডুবিতে ১৩ লাশ উদ্ধার, অভিযান স্থগিত সময় সংবাদ বিডি,বরিশাল:বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের মসজিদ বাড়ি সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে এমএল ঐশী-২ নামে যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় মোট ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জন নারী, একজন শিশু ও বাকিরা পুরুষ।

যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন বানারীপাড়ার মসজিদবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাগর মীর (১৩), পূর্ব সৈয়দকাঠি গ্রামের রাবেয়া বেগম (৪৫), মসজিদবাড়ি গ্রামের মোজাম্মেল ওরফে মুজা মোল্লা (৬৫), জিরাকাঠি গ্রামের রেহানা বেগম (৩৫), সাতবাড়িয়া গ্রামের ফিরোজা বেগম (৫৫), সৈয়দকাঠি গ্রামের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মুক্তিযোদ্ধা আ. রাজ্জাক, উজিরপুরের হারতা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সুখদেব মল্লিক (৪৫), মশাং গ্রামের শান্তা (৮), নয়াকান্দি গ্রামের মো. জয়নাল হাওলাদার (৫৫), স্বরূপকাঠির আলকিরহাট গ্রামের হিরা বেগম (২৫), রাহিমা বেগম (৬০) এবং জিরাকাঠি গ্রামের কোহিনুর বেগম (৬৫)।

এছাড়া সৈয়দকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মিঠু ঘরামীর ভাই মিলন ঘরামীর মরদেহ উদ্ধার হলেও তার স্ত্রী খুকু মনি (২৫), আড়াই বছরের শিশু পুত্র রাফওয়ান নিখোঁজ রয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক পরীক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম রাজু, পূর্ব সৈয়দকাঠি গ্রামের জাকির হাওলাদার (৪০), সাতবাড়িয়া গ্রামের আ. মজিদ হাওলাদার (৬৫), বরগুনায় কর্মরত ফায়ার সার্ভিস কর্মী সাতবাড়িয়া গ্রামের রুহুল আমিন (৩০), মাইসা (২), জিরাকাঠি গ্রামের রিয়াদ (৫), স্বরূপকাঠির আলকিরহাট গ্রামের সৈকত, হিদেলকাঠি গ্রামের অাল্পনা (২৫), উজিরপুরের মশাং গ্রামের রাফি (১০), পূর্ব কেশবকাঠি গ্রামের দিদার (৮), নাফসি (৯) ও হামিদা বেগমের (৪০) নাম জানা গেছে।

এছাড়া আরো ২০/২৫ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

যাত্রীদের মধ্যে পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন হলেন কহিনুর বেগম। তিনি বরিশালের মজিবুর রহমানের স্ত্রী।

এদিকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী সিদ্দিকুর রহমান ও তার স্ত্রী রোকসানা বেগম জানিয়েছেন, লঞ্চে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন। লঞ্চটি বানারীপাড়া থেকে আক্তারপাড়া যাচ্ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দাসেরহাট বাজারের মসজিদবাড়ি ঘাটে যাত্রী ওঠানোর সময় নদী তীরের বিশাল অংশ ভেঙে যাওয়ায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। এসময় যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে এক পাশে আসলে লঞ্চটি ডুবে যায়।

এদিকে স্বজনদের কাছ থেকে নাম সংগ্রহ করে নিখোঁজ ২৮ জনের তালিকা করেছে পুলিশ। তবে আরো যাত্রী নিখোঁজ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও স্থানীয়রা।

বানারীপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, স্থানীয়রা বলছেন দুই নারী যাত্রীসহ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। দুপুর ২টায় তার নেতৃত্বে ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান নামে। সেখান থেকে ১৩ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশের মধ্যে ৫ জন মহিলা, এক শিশু এবং ৭ পুরুষ রয়েছে। এরা হচ্ছেন— হারতা বাজারের সুকদেব মন্ডল, মসজিদবাড়ির রাবেয়া খাতুন ও মোজাজাম্মেল মোল্লা, জিরাকাঠীর রুপা বেগম, সাতবাড়িয়ার সাগর মীর ও ফিরোজা বেগম, মীরাবাড়ির রেহানা বেগম, সাতলার জয়নাল হক, রাজ্জাক হাওলাদার, কহিনুর বেগম, সালেহা বেগম, মিলন ঘরামী ও শান্তা আক্তার এদের বাড়ি বানারীপাড়ায়।
তিনি আরো জানান, লঞ্চের সন্ধান পাওয়া গেছে। দমকল ইউনিটের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় নৌবাহিনী ও বিআইডব্লিউটিএ’র সদস্যরা। বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, তিনি লোকমারফত খবর পেয়ে পুলিশ বাহিনী নিয়ে দুপুর ১টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। সাঁতরে তীরে আসা যাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে জানতে পেরেছেন লঞ্চে ৩০ থেকে ৪০ যাত্রী ছিল। তার মধ্যে ৫ থেকে ৬ জন তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তার নিকট ২৪ যাত্রী নিখোঁজের তালিকা রয়েছে। নিখোঁজের স্বজনদের মাধ্যমে এ তালিকা তৈরি করা হয়। তাদের মধ্য থেকে ১৩ যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনের পরিচয় মিলেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তাা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লঞ্চটির কোন রুট পারমিট নেই। অবৈধভাবে এ রুটে যাত্রী পরিবহন করছিলো লঞ্চটি। লঞ্চ মালিক ও স্টাফদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো জানান, অন্ধকার হয়ে যাওয়া উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সম্ভব না হওয়ায় স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ বরিশালে অবস্থানকারী নির্ভিককে খবর দেয়া হয়েছে। নির্ভিক আজ রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে থাকা বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রতি লাশের দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হবে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তিনি সেখানে অবস্থান নিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন করেন।
এদিকে বানারীপাড়া লঞ্চঘাট সূত্র জানিয়েছে, ওই রুটে ইকরা লঞ্চের সিডিউল থাকলেও লঞ্চটি অন্যত্র রিজার্ভ যাওয়ায় সেখানে ঐশী-২ লঞ্চটিকে দেয়া হয়। ছোট একতলা লঞ্চটির সকল যাত্রীই নীচতলায় অবস্থান করছিল। যারা উপরে ছিলেন তাদের পক্ষেই নদীতে ঝাঁপ দেয়া সম্ভব হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here