মাংস বা গোশত ইংরেজীঃ Meat

0
135

সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকাঃ কেউ বলে মাংস বলা যাবে না কেউ বলে গোস্ত বলা যাবে না এর সঠিক কারন আমার মাথায় ঢুকছে না। এই বিষয় নিয়ে সব থেকে বেশী বেশী বিতর্ক হচ্ছে মাংস বলা নিয়ে।এবার কুরবানীর মধ্যে এটা নিয়ে অনেক কু-তর্ক শুনেছি এরজন্য একটু লিখতে মনে চাইলো । দুঃখিত লিখাটা অনেক বড় হয়ে যাওয়ার জন্য !!

.
– এখন আসি কেনো মাংস বলা যাবে নাঃ মাংস (বাংলা শব্দ) নাকি [মা+অংশ] মায়ের অংশ।।
.
একবার এক চরমুনাইয়ের মুরিদের সাথে আমার ব্যাবসার কারনে দুপুরের ভজনে বসতে হয় তখন , আমি অর্ডার করছিলাম গরুর মাংস।। তখন সে আমার মুখে থেকে কথাটা কেড়ে নিয়ে বলছিলো ভাই গোস্ত । আমি হাসি দিয়ে বললাম, কেনো ভাই ? সে বলছিলো আছে কারন আছে ।। আমি বললাম কি কারন ? সে আর কিছু বলতে আগ্রহী হলো না।। তখন আমার মাথায় আসলো পীর মুরিদি সবই হিন্দু আক্বিদা বিশ্বাস থেকে জন্ম তাই মাংস কে ও মায়ের অংশ মনে করে মাংস বলছে না।। তাকে উৎসুক কন্ঠে আবার বললাম ভাই , যদি মায়ের অংশ মনে করে না ডেকে থাকেন তাহলে ঠিক আছে ? আমি বললাম ভাই , গরু কে যারা মা মনে করে তারা এই ধরনের আক্বিদায় বিশ্বাসী। আপনি যদি গরু কে মা মনে করে থাকেন তাহলে আমার আর কিছু বলার নাই আপনি গোস্ত বলেই ডাকেন।। আমি বাংলা ভাষায় মাংস বলেই ডাকবো।।
.
তখন সে আমাকে ক্লিয়ার করলো তার কথা হচ্ছে মুরুব্বীরা মাংস বলতে নিষেধ করেছেন ।। মূর্তিপূজারী হিন্দুরা বাংলাভাষা জন্ম দিয়েছে। ‘মাংস’ বাংলা সন্ধিবদ্ধ শব্দ। স্বরসন্ধি। [মা+অংশ] =মাংস। ‘মা’ মানে গো-মাতা। ‘অংস’ মানে ‘অংশ’। ‘মাংস’ মানে গো-মাতার অংশ। অর্থাৎ মাংস বললে গরুকে মা হিসাবে স্বীকার করা হচ্ছে। এজন্য মুরুব্বিরা মাংস বলতে নিষেধ করেছেন।
.
তাদের মতো চিন্তা করে ডাকতে গেলে গোস্ত (ফার্সি শব্দ) যার অর্থ দাঁড়ায় [গো+আস্ত] গো-দেবতার অস্তিত্ব (?) আচ্ছা তাহলে কি বলতে হবে ? গোস্ত বলে ডাকলেও গরু দেবতার অস্তিস্ব স্বীকার করা হচ্ছে।।
.
আল্লাহ্‌ বলেনঃ “তাঁর আর ও এক নিদর্শন হচ্ছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” [সূরা রূমঃ ২২]
.
আমার কথা হচ্ছে যে নামেই ডাকুন এমন বিশ্বাস কেনো রাখবেন যে মায়ের অংশ অথবা গরু দেবতা ?? আল্লাহ্‌ আমাদের যার যার জাতীর নিজ নিজ ভাষা দিয়েছে সে ভাষা অনুযায়ী ডাকেন সমস্যা কোথায়?? বাংলায় ভালো লাগে না ইংলিশে ডাকেন , ফার্সিতে ডাকেন, আরবীতে ডাকেন আমার কোন সমস্যা নাই।। সমস্যা হচ্ছে আপনার বুঝে তো জাতীকে, বুঝাতে পারবেন না তাই না?? এমন দোষ তালাশ করলে আপনি আরবী অর্থ খুজতে গেলেও বলবেন বলা যাবে না।। আল্লাহ্‌ আমাদের ক্ষমা করুন।।
.
আল্লাহ্‌ বলেনঃ আমি সব পয়গম্বরকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, পথঃভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথ প্রদর্শন করেন। তিনি পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।[সূরা ইব্রাহীমঃ ০৪]
.
সব ভাষাই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ভাষা সৃষ্টি করে নি। মানুষকেও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। ইসলামের আগে মুশরিকরা যে ভাষা ব্যবহার করতো ইসলামের সম্মানে আল্লাহ নতুন পুতপবিত্র কোনো ভাষা দেননি। মুশরিকরা যেই ‘লাহম’ দেবতার উদ্দেশ্যে ‘উৎসর্গ’ করতো রাসূল (সাঃ) সেই ‘লাহম’ (পশু) আল্লাহর নামে ‘কুরবানি’ করলেন।
.
অর্থাৎ ভাবেন এই মাংস আর গোস্ত নিয়ে তর্ক করে কি লাভ ? আপনার জাতীকে আপনি যেটা দিয়ে বুঝাতে সহজ হয় সেই নামে ডাকেন কোন সমস্যা নাই।। আর আক্বিদাগত ভাবে শুদ্ধ হওয়ার জন্য মাংসের প্যাঁচ টা ভেঙ্গে আরেকটু সোজা করে দেই বাংলা ব্যাকারনে।।
.
মাংস’ মানে ‘গো-মাতা’ অংশ। এখানে শব্দবন্ধে ‘মাতা’ কোত্থেকে আসলো? ‘মাংস’ লিখছেন ‘স’ দিয়ে। আর ‘অংশ’ লিখছেন ‘শ’ দিয়ে। সন্ধি হলে শব্দের শেষের হরফ পরিবর্তন হয় কখনো (?) ‘অংস’ মানে ‘অংশ’ হতে পারে (?) ‘অংস’ মানে কাঁধ। ধাতুমূল ‘অম+স’। আর ‘অংশ’ মানে খণ্ড টুকরা ভাগ। ধাতুমূল ‘অংশ+অ’। দুটো দুই জগতের শব্দ।।
.
তাই বলি তর্কে না গিয়ে যেটা আপনার নিজ ভাষা সেভবে ডাকুন, মুরুব্বীরা অনেক কিছু ফার্সিতে বলে ডাকে এর মানে এই না আপনি আল্লাহ্‌র সৃষ্টির জাতীয় ভাষা ভুলে গিয়ে মুরুব্বীদের অনুসরণে লিপ্ত থাকবেন। ভাষাকে সন্মান করুন  ইসলামের মৌলিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করুন । মাংস ডাকলে হিন্দু হয়ে যাবেন, এই বিশ্বাস ভ্রান্ত বিশ্বাস। ভাষা আল্লাহ্‌র সৃষ্টি আপনি নিজে তা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন না।। আল্লাহ্‌ আমাদের বোঝার মানার তৌফীক দান করুন আমীন।

✍️-আবু লাইবাহ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here