বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে পারে না। : ফখরুল

0
221

Image result for বিএনপিকে কীভাবে নির্বাচনে আনবেন সেই চেষ্টা করুন : ফখরুলস্টাফ রিপোর্টার, সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা:স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বুধবারের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপিকে কীভাবে নির্বাচনে আনবেন সেই চেষ্টা করুন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে সেই ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে পারে না।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সংসদ সদস্য, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীসহ সকল গুম খুনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, “মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও নির্বাচন হবে, শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে।’ নির্বাচন তো আপনারা ২০১৪ সালেও করেছেন, তখন কি নির্বাচন করেছেন? বিরোধীদল নেই। কোনো বিরোধীদল আপনার সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।  ফলে কী হয়েছে? আপনার এই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় নাই। খুব পরিষ্কার করে বলা হয় ইটস এ ফ্রড ইলেকশন, এটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নয়। সুতরাং বিএনপিকে কীভাবে নির্বাচনে আনবেন সেই চেষ্টা করুন। ওই ভয় দেখিয়ে লাভ নেই যে নির্বাচনে না আসলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে, অমুক হবে। বাংলাদেশে বিএনপি সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। বিএনপি ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে পারে না। খুব পরিষ্কার করে বলেছি, আমরা নির্বাচন চাই। কারণ আমরা নির্বাচনমুখী লিবারেল ডেমক্রেটিক পার্টি।”

নির্বাচন ছাড়া বিএনপি কখনো ক্ষমতায় যাওয়া কথা চিন্তা করে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যাওয়া জন্যতো একটা পথ লাগবে। প্রতি পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন, বাধা দিবেন, আর বলবেন নির্বাচনে যাও!  আপনি ক্ষমতায় বসে থাকবেন, সমস্ত কলকব্জা নাড়াবেন, নির্বাচন মেনিপুলেট করবেন, আর বলবেন নির্বাচনে যাও সেটি হবে না। সে জন্য আমরা পরিষ্কার কথা বলেছি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দ্বারা জাতীয় নির্বাচন পরিচালিত হতে হবে। অন্যথায় এই দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। ’

প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফররের সমালোচনা করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখন প্রায়ই বিদেশে যান। নির্বিঘ্নে যান এবং প্রশান্তিতে গড়াগড়ি করে আসেন। এর মধ্যে আবার গিয়েছেন ভূটানে।  ভুটানে গেছেন প্রতিবন্ধীদের একটি তিনদিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করতে। কিন্তু তার দেশের রাজনীতিকেই যে পুরোপুরি প্রতিবন্ধী করে রেখে দিয়েছেন। মানুষকে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে রেখেছেন। সেদিক থেকে তার কোনো খেয়াল নেই, নজর নেই।’

মানুষ গুম হয়ে যাওয়া কোনো সভ্য দেশে হয় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার বাংলাদেশের মানুষের ওপর গত ৮-৯ বছর যে স্টিম রোলার চালাচ্ছে সেটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। খুব কম দেখা যায়। আজেকে দেশে যে গুম সেটা সভ্য দেশে, সমাজে নেই, এটা আছে শুধু মাত্র সেই সমস্ত দেশ গুলোতে যেখানে এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত, এককভাবে দেশ পরিচালনা করতে চায় তাদের জায়গায়।’

এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা সবাই সংগঠিত হন। প্রতিটি মহল্লায় বিএনপির কমিটি গঠন করুন, দুর্গ গড়ে তুলুন, যাতে ভবিষ্যৎতে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আমরা এদেরকে পরাজিত করতে পারি। আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে, নির্বাচনের মাধ্যমে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

একই সভায় উপস্থিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আগামী ১ থেকে দের বছরের মধ্যে এই সরকারের পতন হবে। যদি নতুন নির্বাচিত কমিটি সহ সবাই মিলে আমরা কাজ করতে পারি। এটা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here