বিরহ বিচ্ছেদ বড়ই কষ্টের’প্রেম হোক বা বন্ধুত্ব

0
295

জসীম ভুঁইয়া,সময় সংবাদ বিডি-ঢাকাঃপ্রেম হোক বা বন্ধুত্ব যে কোনো বিচ্ছেদই আমাদের বেশ কষ্ট দেয়,আমাদের মন থাকে শরীর নুয়ে পরে মনের ভারে।

প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে কিছু কিছু প্রশ্ন থাকে যার উত্তর কখনই মিলে না,জীবন চলার পথে কিছু ভুল হয়ে যায় যা হাজার চেষ্টার পরও শুধরানো যায় না। তেমনি প্রতিটি মানুষে জীবনে একজন ভালোবাসার মানুষ আসে যে হারিয়ে গেলেও তাকে কখনই ভুলে যাওয়া সম্ভব হয় না।

ব্রেকআপ বা বিচ্ছেদ এই শব্দটা আমাদের কাছে বেশ পরিচিত। প্রেমে ধোঁকা বা লেঙ্গি যাই হোক না কেন,দুটি মানুষের দুরে চলে যাওয়া বা বিচ্ছেদ বড়ই কষ্টের। দুটি মানুষ,দুটি অত্যন্ত ভালো মানুষ যে একসাথেও ঠিক ততটাই ভালো থাকবে এরম টা সবসময় হয়না,কারন সব মানুষেরই চাহিদা,ইচ্ছা,ভালো লাগা – মন্দ লাগা গুলো আলাদা হয়। তাই তাল-মিলটাও ঠিকমতন থাকেনা।

এরম সময়েই প্রয়োজন পরে খুব কাছের কাউকে’বা মনের মতন কিছু যাতে ডুবে থাকা যায়। কিন্তু এই শান্তির খোঁজেই আমরা বার বার ফিরে যাই এমন কিছু লেখার প্রতি,যা আমাদের সেই মানসিক অবস্থা কে সুন্দর ভাবে প্রকাশ করতে পারে। তাই’আজকের লিখাগুলি যা’ আপনাদের ভাঙা মনে খানিক হলেও আদরের হাত বুলিয়ে দিতে পারে।

আসলে সত্যি বলতে মানুষ যখন সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছায়,আর তখনই তার প্রিয় মানুষটি হারিয়ে যায়। কিন্ত কষ্ট কখনও কাউকে কষ্ট দেয় না’প্রিয়জকে না পাওয়ার,সুখ ই মানুষকে কষ্ট দেয়। তাই এইসুখের পিছনে ঘুরে সময় নষ্ট করা মানে দুঃখকে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আর কিছু নয়।

কারণ মানুষ দুঃখে থেকে সুখকে উপলদ্ধি করতে পারলেও সুখে থেকে কিন্তু কেউ দূঃখকে সেভাবে উপলদ্ধি করতে পারেনা। একজন মানুষ যখন কষ্টের মাঝে সুখকে কল্পনা করে,তখন তার মনে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয় তা কখনও কখনও সুখের চেয়েও কষ্টের আঘাত বেশি হয়।

পৃথিবীতে জন্ম নেবার পারে থেকেই মানুষের সম্পর্কের মধ্যে তৈরিহয় একটি মধুর সম্পর্ক,তারনাম হলো ভালবাসা। কিন্ত,এ-ই ভালবাসা মাঝে বাস্তবের মধ্যে আরো একটি বাস্তব হলো বিরহ বিচ্ছেদ,আমরা কমবেশি সবাই যানি। আর এই বিরহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে ঘটনার অন্তরালে থাকে অনেক অজানা কাহিনী যাহা বাস্তব জীবনে অগ্রগতি বাঁধ ও,প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং জীবনের পথ চলার গতিপথ থামিয়ে দেয়।

পৃথিবীতে কিছু কষ্ট মানুষের বুকের ভিতর জন্ম নেয়,যা অসীম সুখ দিয়েও আড়াল করা যায় না।আর সেই সময়ে দুঃখের মাঝেও একটা সুখের অনুভূতি থাকে,তা হয়তোবা সুখে থেকে কেউ কল্পনাও করতে পারনা।

কিন্তু আমরা হয়তো ভুলে যাই’যে মানুষটি আপনার থাকবেনা’ তাকে যত ভাবেই আটকে রাখতে চাইনা কেন’কোন লাভ হবে না। কারন সে ইতিমধ্যে আপনার প্রতি তার সকল মায়া ত্যাগ করে ফেলেছে। হয়তোবা আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে ভালবাসার অভিনয় করবে,কিন্তু আপনি তাকে এতই ভালবেসে ফেলেছেন যে তার সামান্য একটু অভিনয়েই তাকে ফিরে পাওয়ার স্বপ্নে অস্থির হয়ে যাচ্ছেন।

আপনি কাউকে মন থেকে ভালবাসলে আপনিও তার কাছ থেকে আপনার মত ভালবাসা আশা করবেন,আর এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে আপনি তার কাছ থেকে আপনার মত গভীর ভালবাসা নাও পেতে পারেন। বাস্তবে আমাদের আসলে এ স্বপ্নই আরো বেশি কষ্ট দেয়’ যা আপনি কল্পনাও করতে পারবে না।

কারণ আপনার কাছে সে “প্রিয় মানুষটি” হলেও তার কাছে আপনি প্রিয় মানুষ নাও হতে পারেন। তাই আপনি তাকে যত কাছে পেতে চাইবেন তার কাছে থেকে কষ্টের পরিমাণটাও মনে হয় তত বেশি ই পাবেন।

দুনিয়াতে কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের আকাশ সবসময় মেঘে ঢাকাই থাকে,গহীন অরণ্যে যেমন সূর্যের আলো পৌছা’না এরচেয়ে কঠিন তাদের সারা জীবন অন্ধকারাচ্ছন্নই থাকে। তাই কাউকে আপনি যদি বেশি মায়া করেন,তবে সেই আপনাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিবে। (কথায় আছে স্বপ্ন শুধু হাসায় না কাদায়ও) সব কিছুকেই একটা নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা যায়,কিন্তু কষ্টকে কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় ফেলা যায় না।

কারন কষ্ট এমন এক জিনিস যা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ভিন্ন হয়। আপনি তার জন্য কাঁদেন’যে তোমার চোখের জল দেখে সেও কেঁদে ফেলে,কিন্তু এমন কারো জন্য কাঁদবেনা যে’আপনার চোখের জল দেখে উপহাস করে।

সত্যি বলতে ভুলে যাওয়া হচ্ছে মানুষের স্বভাব,আপনার কাছে বিষয়টা অস্বাভাবিক মনে হলেও কিন্তু যে ভুলে গেছে তার কাছে সেটা স্বাভাবিক। তাই এটা নিয়ে আফসোস করে দুঃখ বাড়ানো বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।

যে ভালবাসার মাঝে না পাওয়ার ভয় থাকে,আর সেই কথা মনে করে দু’জনেই কাঁদে-সে ভালবাসা হচ্ছে প্রকৃত ভালবাসা আর এটাই বাস্তব সত্যি।সেক্সপিয়র বল ছিলেন,পুরো দুনিয়াটাই একটা রঙ্গমঞ্চ,আর প্রতিটি নারী ও পুরুষ সে মঞ্চের অভিনেতা,এই মঞ্চে প্রবেশ পথও আছে আবার বহির্গমণ পথও আছে,কিন্ত জীবনে একজন মানুষ এই মঞ্চে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন।

পৃথিবীতে আসলে কেউ কারো নয়,ভালবাসা ভালো লাগা’শুধু সুখে থাকার আশায় কাছে টানার ব্যর্থ প্রত্যয়। আর দূরে চলে যাওয়ার এক বাস্তব অভিনয় এবং নতুন কোথায় মায়াবী জালে নতুন কাহিনীর সৃষ্টি করা ঠিক তখনই মনে প্রশ্ন জাগে প্রিয়জন বড়,না প্রয়োজন উওর খুঁজে পাওয়া যায়না সেই ভালবাসার মানুষটির কাছ থেকে।

প্রতিটা মানুষই তার ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্ককে ভুলে যেতে চায় কিন্তু পারে না। কারণ,যখন কেউ কাউকে ভালবেসে ফেলে তখন তার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে,আর সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরও সেটি প্রাকৃতিকভাবে চলতে থাকে।

তাই বিরহের বাণীতে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন,প্রেমের আনন্দ থাকে স্বল্পক্ষণ কিন্তু বেদনা থাকে সারাটি জীবন। একজন আহত ব্যক্তি তার যন্ত্রনা যত সহজে ভুলে যায়,একজন অপমানিত ব্যক্তি তত সহজে অপমান ভোলে না। এটাই বাস্তব। এক’কথায় আবেগকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিবেক হয় অবেক্ষয়।

হয়তো আমার বিরহ বিচ্ছেদের কষ্টের মাঝে ডুবে থাকি’কোন একসময় খুব চিন্তা করি জীবনে এমন একজন কে চেয়েছিলাম যার’ মাঝে থাকবে না কোন অহংকার,যার মন থাকবে ফুলের মত, তার ভালবাসা হবে পবিত্র,যে হাসলে ঝড়ে পড়বে মুক্তা কনা। দূর্ভাগ্য হলে ও সত্য আমরা যাহা চাই তার উলটো টা পাই! আবার যেটা পাই তাহা ও নিজের জন্য নহে।

প্রিয় জনকে দুঃখ দিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে দুঃখ নিয়ে বেঁচে থাকা অনেক ভাল। কারণ নিজের কষ্টের জন্য কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু অন্যকে কষ্ট দিলে জীবন ভরে তার অভিশাপ মাথায় নিয়ে চলতে হয়।

জীবন চলার পথে বিচ্ছেদের বিভিন্ন কারণ থাকে তরা একটি,স্বাভাবিক কারণ হল অধিকতর উপযোগিতা প্রাপ্তি। পূর্বেই মন সর্বদা সর্বোচ্চ উপযোগিতা পেতে চায়। তাই বর্তমান সঙ্গীর চেয়ে অধিকতর উপযোগিতাসম্পন্ন সঙ্গী পেলে মন মোহাবিষ্ট হয় নতুনের প্রতি। প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গে পড়ে পল্কা কাঁচের মত।

মানুষের জীবনে প্রেম ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব’এমন একজন ব্যাক্তিকেই সঙ্গী হিসেবে নির্বাচন করতে চায় যার সাথে তার দৈনন্দিন আচার-আচারন,জীবন পদ্ধতি ও মনের চাওয়া পাওয়াগুলোর মিল রয়েছে। সবার মনই চায় সে তার সঙ্গী তাকে সর্বদা টেক কেয়ার করুক। সর্বোপরি তাকে মায়ার বাঁধনে আটকে রাখুক। এই মমত্ববোধ,এই উপযোগিতা প্রাপ্তি-এরই নাম তো ভালবাসা!

তাহলে প্রশ্ন আসে,ভালবাসা কি শুধুই প্রাপ্তির ব্যাপার? উত্তরে বলব-হ্যা। কারণ,আপনি যাকে ভালবাসেন তার প্রতিও একই আচরণ করেন। সেই আকাঙ্ক্ষিত ব্যাক্তিটির জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন, নিজের অনেক প্রয়োজন জলাঞ্জলি দিয়ে তার মনোবাসনা পূরণে করতে সদা সচেষ্ট থাকেন। তার এক টুকরো তৃপ্ত চাহনির জন্য বুভুক্ষের মত তাকিয়ে থাকেন।

কিন্তু কেন আপনার এত ত্যাগ,এত আয়োজন? কারণ,আপনি তাকে তৃপ্ত করতে চান। আর তাকে তৃপ্ত করে আপনি যে সুখানুভূতি লাভ করেন তা-ও এক প্রকার উপযোগিতা প্রাপ্তি। আপনি তাকে ভালবাসেন-কারন,তাকে ভালবাসার মাধ্যমে আপনি স্বীয় মনকে তৃপ্ত করেন!

ভালোবাসার মানুষের সবকিছুই সহ্য করা যায়। কিন্তু তার অবহেলা সহ্য করা যায় না,তাই আবারও মনে পরে’ প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের কথা এটি। আপনি যাকে ভালোবাসেন তার অবহেলার পাত্র হতে কখনোই আপনার ভালো লাগবে না। ভালোবাসার মানুষের সবকিছুই সহ্য করা যায়। কিন্তু তার অবহেলা সহ্য করা যায় না। আমদের শত ব্যস্ততার মধ্যেও মনের ভেতর কোথায় যেন একটা আঁকুতি,একটা ভয়। এ ভয় কীসের? হারানোর নাকি চিরতরে হারিয়ে যাওয়া সে মানুষটির মন থেকে ভালবাসা না পাওয়া।

এমন অবস্থায় আমরা অনেকে ভোগেন দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণায় থাকি। সার্বক্ষণিক উদ্বেগের তাড়নায় ঘটে স্বাস্থ্যহানি। কি করা উচিত সে বিষয়ে বিভ্রান্তিতে ভোগেন অনেকেই। কিন্তু সমস্যা সমাধানে যে এগিয়ে আসতে হবে আপনাকেই।

আপনারা প্রিয় মানুষটির সাথে সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যোগাযোগ রাখার সঠিক অভ্যাস ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। খেয়াল করে দেখুন আপনাদের যোগাযোগ নিয়মিত হচ্ছে কি-না। আবার অনেক সময় দিনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হলে আপনার সঙ্গী রাতে কথা নাও বলতে পারে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

তৃতীয় ব্যক্তিঃমানে আপনি অবশ্যই বুজতে পারছেন,কার কথা বলছি। যেকোনো সম্পর্কের জন্য তৃতীয় ব্যক্তি খুব ক্ষতিকর,তৃতীয় ব্যক্তির কারনে যেন দু’জনের মধ্যের কমিউনিকেশন মিসকমিউনিকেশনে পরিণত না হয় সে ব্যাপারে দু’জনকেই সজাগ থাকতে হবে।

ভালোবাসার কি হয়ে যাচ্ছে অত্যাচার! পরস্পরের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্ককে করে তোলে আরও মজবুত। তবে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। আপনার সঙ্গী সময়মত খেয়েছে কি-না বা শরীর ঠিক আছে কি-না তা জানার জন্যই জিজ্ঞেস করুন। আপনাকে স্বপ্ন তাকে নিয়েই দেখা উচিৎত যে মানুষটি শুধু স্বপ্ন দেখায় না বাস্তবায়নও করে,কিন্তু এমন কাউকে নিয়ে স্বপ্ন দেখ না যে স্বপ্ন দেখিয়ে নিজেই হারিয়ে যায়।

তাই কথায় ছলে’কবি বলে ছিলেন,মেয়েদের চোঁখে দুই রকমের অশ্রু থাকে,একটি দুঃখের অপরটি ছলনার!কিন্তও দুঃখের বিষয় হলো আমরা,কম বেশি সবাই পাপী,নিজের পাপের বাটখারা দিয়ে’অন্যের পাপ মাপি।আসুন আপনি আমি আমরা একটু ভাবি তাহলেই ভবিষ্যৎপ্রজন্মকে ভালবাসার প্রিয়,মানুষটি সাথে জীবনে চলারপথে বাকী দিনগুলো আরো সুন্দর মধুময় হবে।

প্রেমের অকাল মূত্যু নেই বলে শোকের মধ্যে প্রেম চিরন্তন হয়ে যায়’ মনে গহীনে মৃত্যুর আগের মুহূর্ত
আসলে জীবনের চলার পথও গতি থেকে,শিক্ষা মানুষকে উন্নত করে,আর অসুস্থতা মানুষকে মানসিক দিক থেকে পঙ্গু করে।

তাই লেখক বলেন’অভিশপ্ত জীবন আমার বয়ে চলছে এক সীমাহীন অন্ধকারে,এই জীবন কোন এক অদৃশ্য আকশ্মিকতায় নিঃস্ব হলাম আমি হারিয়ে গেল হৃদয়ের সব টুকু প্রেম।

লেখক -জসীম ভুঁইয়া।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here