বিশিষ্ট কবি ড. মুহাম্মদ সামাদকে হত্যার হুমকি

0
254

_SUB8126

স্টাফ রিপোর্টার, সময় সংবাদ বিডি-

ঢাকা: দেশের বেশ কয়েকজন ব্লগার, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে নৃশংসভাবে খুন করার পর এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট কবি ড. মুহাম্মদ সামাদকে হত্যার হুমকি দিয়েছে দূর্বৃত্তরা। ড. মুহাম্মদ সামাদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউআইটিএস-এর সাবেক উপাচার্য ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি।

জানা যায়, গত ৮ই নভেম্বর মোবাইল ফোন নম্বর ০১৭৫২-৮৪৬০৫২ থেকে তাকে কে বা কারা হত্যার হুমকি দেয়া । এই হুমকির ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি আরও কিছু অস্বাভাবিক ঘটনার দৃষ্টিগোচর হয়। এরই প্রেক্ষিতে তিনি নিউমার্কেট, শাহবাগ ও গুলশান থানায় তিনটি জিডি দায়ের করেছেন। উল্লেখ্য, ড. সামাদকে মৌলবাদীরা এর আগেও একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মুহাম্মদ সামাদ সময় সংবাদ বিডিকে বলেন, গত ১৬ মে ২০১৬ তারিখ আনুমানিক রাত আটটার দিকে তিনি কাজকর্ম শেষ করে তাঁর অফিস কক্ষ থেকে প্রায় ৮০/৮৫ ফুট দূরে ওয়াশরুমে যান এবং ফেরার সময় দেখেন যে, তার অফিস কক্ষের দরোজার সামনে ঝোলাব্যাগসহ ফুল শার্টপরা এক যুবক দরজার নামফলক পর্যবেক্ষণ করছে এবং টি-শাটপরা আরেক যুবক বিপরীতমুখী হয়ে পাহারা দেবার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে।তাদের চলে যাবার সময় ড. সামাদ পিছন পিছন সিড়ির কাছ পর্যন্ত যান। কিন্তু যুবকদ্বয় ততক্ষণে উধাও হয়ে যায়।

এদিকে ড. সামাদ গত ২৪ মে ২০১৬ তারিখ থেকে প্রতিদিন সূর্যাস্তের পূর্বেই ইনস্টিটিউট ত্যাগ করছেন।কারন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে চারটি সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রাম চলে। ফলে পাঠদানসহ অন্যান্য কাজের জন্য শিক্ষকদের রাত নয়টা পর্যন্ত ইনস্টিটিউটে অবস্থান করতে হয়।

ড. সামাদ আরও জানান ‘এ ঘটনার আগে গত ১২ মে ২০১৬ তারিখ আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা/সাতটায় একজন অপরিচিত মহিলা আমার অফিস কক্ষে এসে বলেন যে, তার কন্যা অত্র ইনস্টিটিউটের এক বছরের সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স প্রোগ্রাম ‘ভিকটোমলোজি অ্যান্ড রেস্টোরেটিভ জাস্টিস’ বিষয়ের ছাত্রী; তার কন্যার জুডিশিয়াল সার্ভিসে চাকরী পাবার ক্ষেত্রে আমার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি তাকে বলি যে, আমি কয়েকদিন হয় যোগদান করেছি। আপনার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কোনো শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ। কিন্তু তিনি আমার সাহায্যের জন্যই এসেছেন বলে আমার উপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন। একই দিন এই ঘটনার ১০/১৫ মিনিট পর একই বিষয়ের ছাত্র পরিচয় দিয়ে এক যুবক আমার ভিজিটিং কার্ড চায় এবং আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলবে বলে জানায়। তার মুখে ছোটো দাড়ি ও পেছনে ঝোলাব্যাগ ছিল। আমি যেহেতু তাকে চিনি না, সেহেতু তাকে আমার ভিজিটিং কার্ড দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে চলে যায়।’ এসব ঘটনা দেশের জামাত-শিবির-যুদ্ধাপরাধীদের টার্গেট কিলিং-এর প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত বহন করে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমার্কেট থানায় জিডি করা হয়েছে উল্লেখ করে মুহাম্মদ সামাদ বলেন, নিজের ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর তিনি চিঠি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। সমিতি কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করে ড. মুহাম্মদ সামাদের অফিস কক্ষে একটি কলাপসিবল দরোজা লাগানোর ব্যবস্থাসহ তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উপাচার্যের নিকট দাবি জানিয়েছে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here