বিশ্ব ইজতেমা সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমুলক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

0
205

gazipur-08-jan-17-eztema-preparation-meetting-pic-1স্টাফ রিপোর্টার সানাউল্লাহ স্বপন সময় সংবাদ বিডি- ঢাকা:৫২তম বিশ্ব ইজতেমার দুইপর্ব সফল করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর কর্তৃক গ্রহণকৃত প্রস্তুতিসমূহ নিয়ে প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন টঙ্গী অঞ্চল কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এড.আকম মোজাম্মেল হক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল,পুলিশের আইজি এ.কে.এম শহিদুল হক, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম আলম,গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন আলী হায়দার,গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ,গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কেএম রাহাতুল ইসলাম,গাজীপুর পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ,গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. আজমত উল্লাহ খান এবং সাধারণ সম্পাদক এড. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
সভায় গাজীপুর জেলা প্রশাসন,গাজীপুর সিটি করপোরেশন,পুলিশ,র‌্যাব,আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী,ফায়ার এন্ড সিভিল ডিফেন্স ইউনিট,স্বাস্থ্য বিভাগ,প্রকৌশল বিভাগ ঢাকা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসা, রেলওয়ে, বিআরটিসি, টেলিফোন শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয়, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশন,গাজীপুর জেলা প্রশাসন,র‌্যাব,পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি’র কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমায় দেশী-বিদেশী মুসল্লীদের স্বাগত জানিয়ে ১০টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিং করার লক্ষ্যে র‌্যাবের জন্য ১০টি ও পুলিশের জন্য ৫টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের ওজু,গোসল,পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানি সরবরাহের জন্যে ইজতেমা ময়দানে ১২টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন ঘন্টায় ৩কোটি ৫৫লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইজতেমা চলাকালে প্রতিদিন ২৫টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপরাসণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে ২৪টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা-চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের দুইপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা,রাস্তার উপর পার্কিং করা গাড়ি  সরানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়,ইজতেমা উপলক্ষে ১২জানুয়ারি থেকে ২৩জানুয়ারি পর্যন্ত টঙ্গী ৫০শয্যা হাসপাতালে স্বার্বক্ষনিক চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিত করে ইজতেমা ময়দানের জন্য ৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ২৫জন সেনেটারি ইন্সপেক্টর ইজতেমা ময়দানে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৪টি এম্বুলেন্স ইজতেমা ময়দানে আগত মুসল্লীদের সেবায় নিয়জিত থাকবে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইজতেমার প্রথম পর্বে ইজতেমা ও এর আশাপাশের এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ৬হাজার পুলিশ সদস্য এবং দ্বিতীয় পর্বেও ৬হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। পুলিশের পক্ষ থেকে ইজতেমা ময়দানে প্রধান একটি কন্ট্রোল রুম এবং আরোও ৬টি সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। ইজতেমা ময়দানে ৭হাজার ৫’শ পুলিশ সদস্য থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে ৮’শ সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে নৌ ও সড়কপথে ৫টি মোবাইল টিম স্বার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করবে।
ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইজতেমা ময়দানে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি,বোম ডিস্পোজাল ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা উপস্থিত থাকবে।
বিশ্ব ইজতেমার দুইপর্বের প্রথম পর্ব শুরু হবে ১৩জানুয়ারি এবং আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ১৫জানুয়ারি। মাঝখানে ৪দিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ২০জানুয়ারি এবং আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ২২জানুয়ারি। বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জেলাওয়ারি মুসল্লীদের জন্য স্থান(খিত্তা)নির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রথম পর্বে ২৭টি খিত্তা এবং দ্বিতীয় পর্বে ২৯টি খিত্তা স্থাপন করা হবে। প্রথম পর্বে দেশের ৩২টি জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ অংশ গ্রহণ করবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here