বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা আর অশেষ শ্রদ্ধা

0
648

সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা

জসিম ভুঁইয়া

ত্রি-ভূবনের সবচেয়ে মধুরতম শব্দ ‘মা’। মা উচ্চারণের সাথে সাথে হূদয়ে অতল গহীনে যে আবেগ ও অনুভূতি রচিত হয়, তাতে অনাবিল সুখের প্রশান্তি নেমে আসে। আজ বিশ্ব মা দিবস। এদিনে মাতৃ অন্ত:প্রাণ সন্তানরা ‘জননী আমার তুমি মা পৃথিবী আমার। মধুর আমার মায়ের হাসি চাঁদের মুখে ঝরে’-এই কথা টুকু প্রমাণে প্রাণের সবটুকু ভালোবাসা ঢেলে দিতে বহুমাত্রিক চেষ্টা করেন। মা শাশ্বত, চিরন্তন একটি আশ্রয়ের নাম।

মা শব্দটি মনে করিয়ে দেয় অকৃত্রিম স্নেহ, মমতা আর গভীর ভালোবাসার কথা। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, মা দিবস পালন করার রীতি এ যুগের নয়। আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগেও অনেক জায়গায় এই দিবসটি পালন করতো মানুষ।গর্ভধারণ থেকে প্রসব, অবর্ণনীয় যন্ত্রণা, তারপর তিলেতিলে সন্তানকে লালন-পালন করা। এমনকি সন্তান বড় হয়ে গেলেও মঙ্গল কামনায় থাকে না কোনো কমতি। এমন মমতাময়ীর জন্য সন্তানের ভালোবাসা চিরন্তন। এই ভালোবাসা প্রতিদিনের, প্রতি মুহূর্তের, ও মা জননী নাইরে যাহার/ ত্রিভুবনে তাহার কেহ নাইরে/ মায়ের মতো আপন কেহ নাই। মা কথাটি ছোট্ট অতি/ কিন্তু জেন নেন ভাই/ তাহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।’ মাকে নিয়ে লেখা এরকম অনেক গানই আছে। ‘মা’ পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ। ভালোবাসা আর নিরাপদ আশ্রয়ের শ্রেষ্ঠ জায়গা। মা শাশ্বত, চিরন্তন। আজ ১৩মে বিশ্ব মা দিবস। সুসন্তানের জন্য মাকে নিয়ে দিবসটি হয়তো উৎসবে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে কোন কোন মা বৃদ্ধাশ্রমে শুয়ে বসে একাকিত্ব যন্ত্রণায় চোখের পানি ফেলেছেন প্রিয় সন্তানের মুখটি একটিবার দেখার জন্য। সন্তানের জন্য গর্ভধারিণীকে ভালোবাসার সন্তানের জন্য আসলে কোন বিশেষ দিন থাকে না। তার পরও আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত একটি দিন মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশ এবং নানাভাবে নিজের মায়ের মহিমা উপস্থাপনের সুযোগ আসে এই মা দিবসে। নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, দেশ-বিদেশ কোথাও কারও সঙ্গে ‘মা’-এর কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কোনো বিভেদ নেই। নেই তারতম্য। সবাই সমান, সবই সুন্দর। নারী-পুরুষ ভেদা ভেদের বাইরে মা একটি নিজস্ব সত্তা, একটি সত্য। আর তাই মায়ের কাছে ছেলে-মেয়ে সব সন্তানই সমান, মা সর্বজনীন। মা ভালোবাসা। একটি পরম মমতা। মা বুকের কাছে জাপটে ধরে আগলে রাখা একটি ছায়া। কিন্তু তাই বলে মা, মাতৃত্বই নারীত্বের ব্যাখ্যা নয়। ঠিক একইভাবে নারীত্ব মানেই মাতৃত্ব নয়। মা, মাতৃত্ব নারীত্বের একটি শক্তি, একটি পরিচয়, একটি স্বকীয়তা। মা একটি অনুভূতি, একটি ভক্তি। ‘মা’-এর সর্বজনীনতা : ‘মাতৃত্ব’ একটি বোধ। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে নগর সংস্কৃতি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ব সর্বত্র মা একটি মহিমা, একজন আরাধনা। সনাতন ধর্মের পূর্জা-অর্চনায় মা দখল করে আছেন একটি বিশেষ স্থান। ইসলাম ধর্মেও বলা হয়েছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। খ্রিস্টান ধর্মও মাতৃবন্দনার বাইরে নয়। যিশুর আগমনের সঙ্গেই জড়িত মা মেরির জীবনকাহিনী। পিতার জন্মস্থানকে দেশের বাড়ি বলে পরিচয় দিলেও পুরো জন্মভূমি কিন্তু মাতৃভূমি বাংলাদেশ। মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক কোনো রেজিস্ট্রেশন দিয়ে বেঁধে দেওয়া যায় না। একই ভাবে এই সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্যও কোনো আইনের বাধ্যবাধকতা নেই। এখানেই মায়ের সার্থকতা, সর্বজনীনতা।

লেখক-জসিম ভুঁইয়া

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here