শুক্রবার , ১৭ নভেম্বর ২০১৭
ব্রেকিং নিউজ

‘বোনের আত্মহত্যার চেষ্টার পর মা-ছেলেকে হত্যা করেন জনি’

স্টাফ রিপোর্টার,সময় সংবাদ.কম:-চার বছর আগে অভিনেত্রী শারমিন মুক্তাকে বিয়ে করেন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আব্দুল করিম। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল।

আব্দুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামছুন্নাহারের নামে বেশিরভাগ সম্পত্তি থাকায় মুক্তার মধ্যে অসন্তোষ ছিল। প্রথম স্ত্রীর প্ররোচনায় তিন মাস আগে মুক্তাকে তালাক দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেন আব্দুল করিম। এ কারণে সম্প্রতি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন মুক্তা। বোনের স্বার্থ বিবেচনা করে ও তাকে সুখী দেখতে শামছুন্নাহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুক্তার ভাই আল আমিন ওরফে জনি।

শনিবার বিকেলে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংস্থার আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জনিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে এসব কথা জানান।

এর আগে শনিবার ভোররাতে কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যার মূল আসামি আল আমিন জনিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩।

বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলে আব্দুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামছুন্নাহার করিম (৪৬) ও তার ছেলে শাওনকে (১৯) গলাকেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরের দিন বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শামছুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা (নং ১) দায়ের করেন।

মামলায় আব্দুল করিম, তার দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তা, মুক্তার ভাই জনিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগে আটক করা শামছুন্নাহার করিমের স্বামী আব্দুল করিম ও করিমের দ্বিতীয় স্ত্রী মডেল শারমিন মুক্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মাহমুদ খান বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন ৩১ অক্টোবর নিউমার্কেট থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে ১১ ইঞ্চির একটি ছুরি কেনে জনি। ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাকরাইলের বাসায় ঢুকে শামছুন্নাহারের ছোট ছেলে শাওনকে ছুরিকাঘাত করে চুপ করে বসে থাকতে বলেন। পরে শামছুন্নাহারকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ওই সময় শাওন এগিয়ে গেলে তার গলাতেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে জনি। পরে শাওন দৌড়ে নিচে নামতে চাইলে জনি তাকে থামতে বলেন। জখমপ্রাপ্ত শাওন হঠাৎ চতুর্থ তলার সিড়িতে পড়ে যান। ‘অপেশাদার খুনি’ জনির ছুরিকাঘাতের সময় দুটি আঙুল কেটে যায়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগ থেকে ভুয়া নাম এন্ট্রি করে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন জনি।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর ওপরে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনে দারোয়ান যখন ওপরে যাচ্ছিলেন তখন জনি তাকে বলেন, ওপরে মারামারি হচ্ছে। পরে দারোয়ানকে জনির ছবি দেখালে তিনি তাকে শনাক্ত করেন।

মুফতি মাহমুদ জানান, জনি আগে থেকেই একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ব্যাগে করে জামা-কাপড় রেখে যান। সেখানে গিয়ে রক্তাক্ত পোশাক পরিবর্তন করে ভিন্ন নামে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। তারপর ঢাকাতেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেন এবং পরে গোপালগঞ্জে আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

এ হত্যাকাণ্ড আব্দুল করিম ও মুক্তার পরিকল্পনায় ছিল কি না, জানতে চাইলে মাহমুদ খান বলেন, এ বিষয়ে এখনো আমরা জানতে পারিনি। তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।

Print Friendly