ভারতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিবেদনে সফরের দৃশ্যপট

0
154

India_Journalist1433573179

মিলন মৃধা, সময় সংবাদ বিডি

ঢাকা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসেছে অনেক ভারতীয় গণমাধ্যমকর্মী। তাদের সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে ইতোমধ্যে তাদের দেখা দৃশ্যপট তুলেও ধরেছেন। তাদের এসব প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো……

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিনিধি অগ্নি রায় ঢাকায় দেখা দৃশ্যপট নিয়ে তার প্রতিবেদনে লেখেন- চোখ বেঁধে এই শহরের যে কোনও মোড়ে বা রাস্তায় নিয়ে এসে রুমাল খুলে দিলে, কারও পক্ষে হঠাৎ বোঝা অসম্ভব, এটা কোন জায়গা! রাস্তার দু’ধার, চৌমাথা, উঁচু উঁচু হোর্ডিং সবই তো নরেন্দ্র মোদীর ছবিতে সয়লাব! বিস্ময় গাঢ়তর হবে যখন নজরে পড়বে, মোদির নানা পোশাক ও ভঙ্গির পোস্টারের পাশেই হাস্যমুখে বিরাজমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

তিনি নিজেই বিস্ময় প্রকাশ করেন- এটা কি আসানসোল, না কলকাতা, নাকি…! আজ্ঞে না, এটা ঢাকা! বাংলাদেশের রাজধানী!

স্থলসীমান্ত চুক্তি-সহ অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যৌথ সফরের মুখে এ ভাবেই আবেগে ভাসছে ঢাকা। যে আবেগের ঢেউয়ে ভেসে গিয়েছে বিএনপি বা জামাতের মতো দলগুলির তীব্র ভারত বিরোধিতার সুরও। এতটাই যে, রবিবার মোদির সঙ্গে বৈঠকেও বসবেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া।

যে বৈঠক নিয়ে রীতিমতো উৎসাহ দিল্লির অলিন্দেও। এই সফরের মাহাত্ম্য বোধহয় এখানেই!

অগ্নি রায় আরও লেখেন- বিদেশি কোনও রাষ্ট্রনেতার পোস্টারে এ ভাবে শেষ কবে সয়লাব হয়েছে ঢাকা, তা চট করে মনে করতে পারছে না শহর। শুধু এটুকুই বলা যাচ্ছে, মোদির দু’দিনের সফর ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে রাজনৈতিক শিবির, আমলা থেকে বিশেষজ্ঞ সর্বস্তরে যে উথালপাতাল আবেগ দেখা যাচ্ছে, তা যথেষ্ট বিরল এক অভিজ্ঞতা। ১৯৭৪ সালের ১৬ মে ইন্দিরা-মুজিব স্থলসীমান্ত চুক্তির দিনটিও স্মরণ করছে শহর। সেই স্মৃতিকে উস্কে দিতে সেই সাদা-কালো ছবির বড় কাটআউট লাগানো হয়েছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। অনেকেই বলছেন, এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হতে চলেছে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে।

মমতার সফরসঙ্গী আনন্দবাজার পত্রিকার আরেক প্রতিনিধি জয়ন্ত ঘোষাল লেখেন- বিমান ছাড়ার আগে পাইলট একটি চিরকুট নিয়ে হাজির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। মুখে স্মিত হাসি। চিরকুটটিতে চোখ বুলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীও দৃশ্যত খুশি। বললেন, ‘বাহ!’ এয়ার ইন্ডিয়ার কলকাতা-ঢাকা রুটের এ দিনের নিয়মিত উড়ানটির জন্য ‘ভিআইপি’ মর্যাদা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। সেই বার্তাই লেখা পাইলটের হাতের ওই চিরকুটটিতে।

জয়ন্ত ঘোষাল লেখেন- বিমানটি ঢাকা বিমানবন্দরের টারম্যাক ছোঁয়ার পরও ভিআইপি মর্যাদা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা নিজে নিরাপত্তার তদারকিতে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম স্বাগত জানালেন মমতাকে। ছিলেন ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার পঙ্কজ শরনও। মমতা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বসার পরে এল শেখ হাসিনার ফোন। সেই ফোনে বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি সনির্বন্ধ অনুরোধ- থাকতে হবে অন্তত আর একটা দিন। কালই ফিরে যাওয়া চলবে না! মমতা তাঁকে বললেন, ‘ভেবে দেখি! আসলে কলকাতায় অনেক কাজ পড়ে রয়েছে তো।’ হাসিনা আজ রাতেই মমতাকে নিজের বাসভবনে আসার আমন্ত্রণ জানান। মমতা হেসে বলেন- কালই দেখা হবে।

আনন্দবাজার পত্রিকার আরেক প্রতিনিধি অত্রি মিত্র লেখেন- ৭ জুন ঢাকার মতিঝিল এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশনে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনে এখন তাই সাজ সাজ রব। স্বামী বিবেকানন্দের বিশাল কাটআউট ও তাঁর বাণীতে সাজানো তোরণ বসছে মিশনের মূল ফটকে।
‘আজকাল’ প্রতিনিধি তারিক হাসান লেখেন-  ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তাই বাংলাদেশে উৎসাহ-উদ্দীপনা তুঙ্গে। এই সফর ঘিরে গোটা বাংলাদেশেই উৎসবের আমেজ। রাস্তায় রাস্তায় মোদি, মমতা এবং হাসিনার প্রমাণ মাপের বিরাট বিরাট কাটআউট। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা-পুরুষ শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিরাট বিরাট কাটআউটও লাগানো হয়েছে রাস্তায়।

সড়কপথে আসা ‘সংবাদ প্রতিদিন’ এর জ্যোতির্ময় কর্মকার লেখেন- বাস ঢুকতেই বিপুল সংবর্ধনা। বাংলাদেশে পা রাখতেই আতিথেয়তা ও সংবর্ধনার বন্যায় ভেসে গেলেন ভারতীয়রা।

বৃহস্পতিবার মাঝরাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যশোরে ঢোকার পর কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে বাসযাত্রীদের যেভাবে বরণ করে নেওয়া হয়, তা শুধু আতিথেয়তাই নয়, দুদদেশের সীমানার গন্ডি পেরিয়ে এসে বহু বছর মনে রাখার মতো ঘটনা। বাস পৌঁছতেই এক বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস আর আবেগ। ফুল-মালায় বাংলাদেশিরা বরণ করে নিলেন বাসযাত্রীদের। শুক্রবার সকালেই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ৪২ জনের প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছতেই শুরু হয়ে যায় উচ্ছ্বাস।

বর্তমান’ এর প্রতিনিধি সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায় লেখেন- বাস বিভ্রাটের ঝাক্ক কাটিয়ে রাত ১১টায় যখন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পৌঁছায় তখন বেনাপোলে উপস্থিত মানুষের উন্মাদনা দেখে এক লহমায় কেটে যায় যাবতীয় ক্লান্তি। আবার ঢাকায় প্রবেশের বর্ণনায় লেখেন- চারদিকে নরেন্দ্র মোদি, শেখ হাসিনা, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বড় বড় কাটআউট। বিভিন্ন জায়গায় লাগানো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাগতম বার্তা। দেখলেই মনে হবেনা বাংলাদেশ। যেন ঢাকা শহরে উঠে এসেছে গোটা কলকাতাটাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here