মহামারী রূপ নিয়েছে ক্রেজি ড্রাগ ইয়াবা

0
489

সময় সংবাদ বিডি-ঢাকা: 

মহামারী রূপ নিয়েছে ক্রেজি ড্রাগ ইয়াবা।শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামের আনাচে কানাচে পর্যন্ত বিস্তার ঘটেছে নীরব এই ঘাতক ইয়াবা ট্যাবলেটের।

ইয়াবায় সম্পৃক্ততা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ-তরুণী,গৃহবধু সহ ব্যবসায়ী,চাকরিজীবীদের অনেকেই এখন ইয়াবায় আসক্ত। তবে এদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী তরুণ-তরুণীর সংখ্যাই বেশি।

ইয়াবার ভয়াবহ ধোঁয়া আগামী প্রজন্মকে আজ ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে বাড়ছে ধর্ষণ মতো অপরাধ।   এ অবস্থায় আগামীতে দেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিবে বলে আমি মনে করি। ইয়াবার ভয়াবহ আগ্রাসন নিয়ে সরকার যেমন উদ্বিগ্ন, চিন্তিত অভিভাবক-মহলও।

দেশের সর্বত্র মহামারীরূপে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা মাদক ইয়াবা নেশায়,ইয়াবাসেবীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে- প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে,গ্রামগঞ্জে এখন ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা প্রসারিত।

দেশের একপ্রান্ত টেকনাফ থেকে বিভিন্ন উপায় ও কৌশলে ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে এখন টেকনাফ থেকে -তেঁতুলিয়া পর্যন্ত। মিয়ানমারের ৬০ টাকার এই ট্যাবলেট পাচার হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। তবে এখন চাহিদা বেশি হওয়ায়- দাম এখন হাতের নাগালে।

আর এ কারণে পেশা পরিবর্তন করে মাদক ব্যবসায় ঝুঁকছে অনেক মানুষ,শক্তিশালী সিন্ডিকেট ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। রাজধানী-বাড্ডা,রামপুরা বাজার,মালিবাগ,উওর,বাড্ডা,শাহবাগ,কাকরাইল,মৌচাক,কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত,অনেক খুচরা ব্যবসা- রয়েছে,আমাদরে সময় সংবাদ বিডি,অনুসন্ধানে আমার শীঘ্রই আপনাদের সমক্ষে তুলে ধরতে চেষ্টা করব, ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম ও তালিকা।

মাদক চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে,জানাযায় তারা বলেছেন,এখন চিকিৎসা নিতে আসা মাদকসেবীদের অধিকাংশই ইয়াবা আসক্ত। মাদকসেবীরা ধোঁয়ায় উড়িয়ে দিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। ইয়াবার সর্বনাশা থাবায় লাখো পরিবারের সন্তানদের জীবন আজ বিপন্ন পথে। সেক্ষেত্রে যারা নতুন ব্যবসা শুরু করে লাভবান হতে চায় তাদের জন্য কম পুজির ব্যবসা উপযুক্ত,বলে তারা মনে করে ইয়াবা ব্যবসা।

এ কারণেই কোনোভাবেই এর আগ্রাসন রোধ করা যাচ্ছে না,ঠেকানো যাচ্ছে না ইয়াবার ব্যবসা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস করে মাদক ব্যবসার,এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার ও হাজার কোটি টাকা। ইয়াবা প্রবেশ রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতীতের চেয়ে এখন বেশি তৎপর। ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিগত সাত বছরে ৯৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও গত বছরে উদ্ধার হয়েছে দুই কোটি পিসেরও বেশি।

ইয়াবার ভয়ঙ্কর থাবায় চূড়ান্ত সর্বনাশের অতল খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে,এদেশে একশ্রেণির মাদকাসক্ত তরুণ সম্প্রদায়। গাঁজা,ফেনসিডিল,হেরোইনকে ছাপিয়ে ইয়াবা হয়ে উঠেছে শীর্ষ নেশার বস্তু। বিশেষ বিশেষ সামাজিক স্তরের তরুণ-তরুণীদেরও একমাত্র নেশা হয়ে উঠেছে ইয়াবা ট্যাবলেট।

মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পথে আসা ইয়াবা এদেশীয় একদল মাদক ব্যবসায়ী-গডফাদারদের ছত্রচ্ছায়ায় বিতরিত হয়ে বলে, এই মারাত্মক মাদক দ্রব্যটি এদেশে ছড়িয়ে পড়েছে অতি দ্রুততার সঙ্গে। এই নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাদকাসক্তদের পরিবারগুলো।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সূত্র মতে, ইয়াবাবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে ২০১৪ সালে যেখানে আটক হয়েছে ৬৫ লাখেরও কিছু বেশি ইয়াবা, একই সময়ে এদেশে বেচাকেনা হয়েছে ২৬ কোটিরও বেশি। একসময় চীন ও থাইল্যান্ড ছিল ইয়াবার বড় বাজার। ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা প্রচার-প্রসারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেখানে।

এমনকি বহু ইয়াবা ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের হত্যাও করা হয়। ফলে সেসব দেশ এখন ইয়াবার থাবা থেকে মুক্ত।হালে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের সর্বত্র মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়েছে নীরব এই ঘাতক। বর্তমানে-দেশে এই মাদকের চাহিদা বেড়েই চলেছে দিনে চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ পিসে ও বেশি। সেই হিসাবে প্রতিদিন এই মাদকের পেছনে তারা খরচ করছে পৌনে দুইশ’ কোটি টাকা।

জানা যায়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে ২০১৪ সালে ১২ শতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ীর একটি তালিকা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী শীর্ষ ৪০ জনের একটি তালিকা ধরে অভিযান চালায়। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে দেখা যাচ্ছে, সীমান্ত এলাকার জনপদে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে ইয়াবা। ব্যবসার বিস্তার ঘটানোর পেছনে।

এই অভিযোগের সত্যাসত্য বিচার বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া আবশ্যক,দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যে কোনো বিষফোঁড়া নির্মূলে দেশবাসীর সমর্থন থাকবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের ১৫টি স্থানে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা রয়েছে।

যেখান থেকে সাগর ও সড়কপথে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, নয়াপাড়া, সাবরাং মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, জালিয়াপাড়া, নাইট্যংপাড়া, জলিলেরদিয়া, লেদা, আলীখালী, হ্রীলাসহ অন্তত ১১টি পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এসব ইয়াবা তৈরি ও পাচারে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী যেমন জড়িত রয়েছে তেমনি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের গডফাদাররাও রয়েছে।

এই চিত্রটি সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের কথাও আমাদের ভাবতে হবে,কারণ মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে,বাচাতে হবে আগামী তরুন প্রজন্মকে ইয়াবার ছোবল থেকে,বাচানো দায়িত্ব-আমার আপনার আমাদের সবার। জসিম ভুঁইয়া

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here