মানবতা আজ বাঁকরুদ্ধ’ কি অপরাধ ছিলো নিস্পাপ শিশুটির!

0
222
জসীম ভুইয়া

জসীম ভুইয়া,সময় সংবাদ বিডি: ঢাকা-এমন নির্মমভাবে হত্যা কি মেনে নেওয়া যায়! হায়রে পৃথিবী,মানুষ আজ কি ভয়ানক’ হিংস্র যার কালো থাবায় নিঃশেষ হয়ে গেলে তুহিনের’জীবন।মানবতা আজ বাঁকরুদ্ধ,মেনেনিতে পারছিনা মানুষ রুপি এই হিংস্র জানোয়ারদের কান্ড,কি’অপরাধ ছিলো এই নিশপাপ শিশুটির। কদমগাছের ডালে ঝুলে আছে গলাকাটা ছয় বছরের ছোট্ট শিশু তুহিনের নিথর দেহটি।

নিষ্পাপ দেহ থেকে কেটে নেয়া হয়েছে দুটি কান। ছোট্ট শরীর থেকে গোপনাঙ্গও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে ঘাতকরা। নির্মমতার এখানেই শেষ নয়—হত্যার পর শিশুটির পেটে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে দুটি ধারালো ছুরি। হত্যা করার​ সবধরনের পাশবিকতাকে হার মানিয়েছে ঘাতকেরা। যেন নির্মম নির্যাতনে হত্যার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলো তারা।

তার কান এবং লিঙ্গ কেটে ফেলে লাশটি গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে হত্যা পরে,ব্যবহৃত দুটি ছুরি তার পেটে আটকে দিয়েছে..! ছোট্ট_তুহিনের এতটুকু পেটে এত বড় দুটি ছুরি কি করে জায়গা নেবে ? এই ছুরি দুটি আমার পেটে বিধেছে। এ দৃশ্যটি দেখে,সইতে পারলাম না..অপরাধ কি ছিলো এই নিস্পাপ শিশুটির আর কেন তাকে এমন নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হলো -?
 
মনে হচ্ছে দিন দিন আমাদের বিবেকের মৃত্যুহার ব্যাপকাকার ধারণ করেছে। পাঁচ বছরের শিশু তুহিনকে,রাতে,ঘুম থেকে ধরে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে..! কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন বিবেকের মৃত্যুহার হঠাৎ করে এতটা বৃদ্ধি পেলো? এ জন্য কারা দায়ী? বিবেকের মৃত্যুহার কমানোর জন্য আমাদের কি কিছুই করার নেই?সমাজের সর্বস্তর থেকে আজ ধৈর্য,সহনশীলতা,সহিষ্ণুতা,সহাবস্থান,পরশ্রীমুখরতা ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে।
কেউ কাউকে মানছে না। ছোট বড়কে সম্মান করছে না,বড় ছোটকে স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারছে না।
জাতির মেরুদন্ড সোজাকারী শিক্ষক লাঞ্ছিত হচ্ছেন স্বীয় গুণধর ছাত্রের দ্বারা। ছাত্র তার ছাত্র বন্ধু দ্বারা নিহত হচ্ছে। সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে যত্রতত্র। কেন সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ উঠে যাচ্ছে এবং কেন সামাজিক বন্ধন হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে? কিসের ভয় যেন সদাই আজ বিবেক,তাড়া করে ফিরে।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রই আজ বিশাল ধ্বংসের দিকে দ্রুতগকেন সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ উঠে যাচ্ছে এবং কেন সামাজিক বন্ধন হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে? মুক্ত বাতাসে নিঃশঙ্কায় চলাতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। চারদিকে শুধু অবক্ষয় আর অবক্ষয়। ব্যক্তি ও জাতীয় চরিত্রের অধঃপতন,পারিবারিক ও সামাজিক সুশৃক্মখল অবকাঠামোর ভাঙ্গন,সামাজিক ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা আজ অগ্নিগর্ভে রূপ নিয়েছে।
 
এক কথায় বলতে গেলে বলা যায়,প্রান থাকলে প্রাণী হওয়া যায় কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হওয়া যায় না। একটু বিস্তারিত ভাবে বলতে গেলে বলা যায়,মানুষ হতে গেলে মন,জ্ঞান মনুষ্যত্ব,বিবেক,বিবেচনা করার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োজন। আর এই বিষয় গুল না থাকলে মানুষ হয়েও বিবেক,মনুষ্যত্ব হীন বর্বর পশুর চেয়ে অধম হয়ে থাকতে হবে। তাই আমি মনে করি মানুষ থেকে যেমন পশুতে পরিণত হওয়া জায়। তেমনি মানুষ থেকেও আবার মহামানবে পরিণত হওয়া যায়,আর এই বিষয়টা ধরার ক্ষমতা যার আছে সেই মানুষ।
 
কিন্তু আমাদের বিবেকের এখন বড়ই করুণ অবস্থা। আমাদের মনে রাখা উচিত, বিবেক’ মানুষের এক মূল্যবান সম্পদ। মানুষ নামক যে যন্ত্রটি পৃথিবীতে বিচরণ করে বেড়ায়,সেই যন্ত্রটির মৌলিক মানবীয় প্রাণশক্তিই হলো‘বিবেক’। এটি ছাড়া মানুষ কখনো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে পারে না। আলবত সে পশুর কাতারে নেমে আসে,তার বাস্তব উদাহরণ এই নিস্পাপ,শিশু,তুহিনের,নিথর দেহটি। সব মানুষই বিবেকসম্পন্ন। কেউ তার নিয়মিত পরিচর্চা করে,কেউ তার অবহেলা ভরে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দেয়।
আসলে আমরা_সুশীল_নই আমরা_মানুষ, তাই হত্যার প্রতিবাদের জন্য রাজনীতি খুজিনা। শুধু হত্যাকরারীর শাস্তি দাবী করি। যেহেতু তুহিনের পরিবার দরীদ্র,মামলা চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়,তাই,আমাদের ‘বিবেক’ দাবী একটাই-তুহিনের হত্যাকারীদের ধরে,এমনভাবে শাস্তি দেওয়া হোক,যা দেখে গোটা বাংলাদেশ ‘ভয়ে কেপে উঠুক। আর কোন মায়ের বুক যেন শূন্যে নাহয়,আমাদের ক্ষমা,করে দিয় তুহিন”ভালো থেকো পর পারে।
 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here