মালিকানা বুঝে নিল বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের

0
58

সময় সংবাদ বিডি

ঢাকাঃ আজ থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রকৃত মালিক হলেন বাংলাদেশ। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধুস্যাটেলাইট-১ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের কোম্পানি তালেস অ্যালেনিয়া স্পেস দেশের প্রথম এ স্যাটেলাইটের মালিকানার কাগজপত্র বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

এর মাধ্যমে উৎক্ষেপণের ছয় মাসের মাথায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন থেকে এই স্যাটেলাইটের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনাসহ সব দায়িত্ব বাংলাদেশের।

রাজধানীর বাংলামোটরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) কার্যালয়ে ফ্রান্সের ওই কোম্পানির প্রোগ্রাম ম্যানেজার জিল অবাদিয়া বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হকের কাছে ‘ট্রান্সফার অব টাইটেল’ হস্তান্তর করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তা হস্তান্তর করেন বিসিএসসিএলের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদের কাছে।

এ বছরের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। নিজ কক্ষপথ ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পর এটির ইন অরবিট টেস্ট (আইওটি)সহ নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সবই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সরাসরি সম্প্রচার করার পরীক্ষাতেও এটি সফলতা দেখিয়েছে। পরে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুবাইতে এশিয়াকাপ ক্রিকেটের সম্প্রচারসহ আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। একইসঙ্গে অন্য কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘আজ থেকে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রকৃত মালিক হল। ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ এক যাত্রার শেষ হল এর মাধ্যমে।

তিনি জানান, স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি দেশের মধ্যে ব্যবহার করে বাকি ২০টি ভাড়া দেওয়া হবে বিদেশে। প্রসঙ্গত, সরকার ২০১৫ সালে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট প্রকল্প গ্রহণ করে এবং এটি নির্মাণে একই বছরের নভেম্বরে ফ্রান্সের তালিস অ্যালেনিয়া কোম্পানির সঙ্গে ২৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করে। স্যাটেলাইটের জন্য মোট ব্যয় হয় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা।

এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হয় বাংলাদেশ। স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতিমধ্যেই গাজীপুরের জয়দেবপুরে এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় একটি করে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here