মুঘল সাম্রাজ্য ও উপমহাদেশেবিদ আতের আমদানি পর্ব – ৩

0
105

সময় সংবাদ বিডি-  

ঢাকাঃ হুমায়ুন ১৫ বছর পর প্রথমে আফগানিস্তান দিয়ে প্রবেশ করে একে একে ভাইদের বিতাড়িত করেন৷ অতঃপর আফগানদের হামলা করে তিনি পুণরায় ভারতে মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন৷

শাহ তাহমাসপের সাথে তাঁর চুক্তি ছিল শিয়া মতবাদ গ্রহণ ও সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের পর কান্দাহারের মালিকানা সাফাভী সাম্রাজ্যের অনুকূলে ছেড়ে দেয়া৷ এ শর্তেই শাহ তাঁকে আশ্রয় ও সৈন্য দিয়েছিলেন৷ তিনি ইতিমধ্যেই শিয়া মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন এবার তিনি তা পরিত্যাগ করেন এবং নিজেকে ধর্মপ্রান সুন্নী মুসলিম হিসেবে ঘোষণা করেন৷ সে সাথে যুদ্ধ করে অর্জন করা কান্দাহারের দখলও ত্যাগ করতে অস্বীকার করেন৷ এতে শাহ তাহমাসপ ক্রুদ্ধ হলেও তাঁর আর কিছুই করার রইল না৷ কেননা তিনি নিজ সাম্রাজ্যে আজীবন একদিকে আফগানিস্তানের উদীয়মান উজবেক শক্তি আর অন্যদিকে বিশ্বের আতংক কনস্টানটিনোপলের অটোমান সুলতান সুলাইমানের সাথে সংঘর্ষ ও সন্ধি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন; সাথে ছিল ইরাকের বিদ্রোহীরা৷ যোগ্য শাসক না হলে হয়ত তিনিও রাজ্য হারাতেন৷ তা না হয়ে বরং তিনি সাম্রাজ্য আরও বাড়িয়েছেন৷ নিজের সমস্যার পরে ভারতবর্ষে অভিযান পরিচালনা করা বা বাদশাহ হুমায়ুনকে শায়েস্তা করা তাঁর পক্ষে ছিল অসম্ভব৷

প্রথমে অস্তিত্ব রক্ষা করতে ও পরে ভারতে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে এক কালের এ সহজ- সরল বাদশাহ অত্যন্ত ধূর্ততার পরিচয় দিয়ে শিয়া মতবাদ গ্রহণ ও ত্যাগ করলেও তিনি এর চক্কর থেকে বের হতে পারেন নি৷ কেননা তাঁর ডানে- বামে- সামনে- পেছনে সবাই ছিলেন শিয়া৷

নিজ স্ত্রী শিয়া, সেনাবাহিনী ইরান থেকে আনা শিয়া, দেহরক্ষী বাহিনী শিয়া, মন্ত্রী পরিষদ শিয়া, স্থপতি শিয়া, মুফতিগণ শিয়া, সাথে আসা শিয়া ধর্মপ্রচারকগণতো আছেই৷ ক্ষমতার স্বার্থে এদের কাউকেই তিনি অবজ্ঞা করতে ছিলেন অপারগ৷ কেননা ভৌগলিক জাতীয়তা ও ধর্মীয় জাতীয়তার কারণে এরা পরষ্পরের সাথে যুক্ত ছিলেন৷ আর দীর্ঘদিন পারস্যে শিয়া ধর্মে ধার্মিক হিসেবে থেকে তিনি নিজেও অনেক আচার আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন৷ ফলে তিনি রাজকীয়ভাবেই অনেক ইসলাম বিরোধী শিয়া অনুষ্ঠান পালন করতে থাকেন৷  ফলে যা হবার তাই হল—-

লেখক√আবু রুমাইসা

  (চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here